দেশের বাজারে আবারো বেড়েছে স্বর্ণের দাম, নতুন দর কার্যকর
দেশের স্থানীয় বাজারে ফের বাড়ল স্বর্ণের দাম। সবচেয়ে ভালো মানের অর্থাৎ ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম এক হাজার ৬৩৩ টাকা বাড়ানো হয়েছে। ফলে ভ্যাট ও আনুমানিক খরচসহ এখন এই মানের প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাদের গুনতে হবে দুই লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকা।
আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সকাল থেকেই কার্যকর হয়েছে নতুন এই মূল্যসূচি। মূলত স্থানীয় বাজারে খাঁটি বা তেজাবী স্বর্ণের দর বেড়ে যাওয়ার কারণেই মূল্য পুনর্নির্ধারণের এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজুস।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বাজুস) স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং বৈঠকে বসে আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে দর বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেয়। পরে কমিটির চেয়ারম্যান দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়।
সংগঠনটি স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে, বাজুসের পরবর্তী কোনো সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সারাদেশের সব জুয়েলারি দোকানে এই নতুন দর কার্যকর থাকবে। তবে গহনার ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি আলাদাভাবে যুক্ত হবে, আর সরকারের নিয়মানুযায়ী বিক্রয়মূল্যের মধ্যেই ভ্যাট হিসাব অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়েছে।
ক্যারেট অনুযায়ী দেশের বাজারে নতুন দর
বাজুসের নতুন দরপত্র অনুযায়ী, এখন থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১ দশমিক ৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণ গয়না বিক্রি হবে দুই লাখ ২১ হাজার ৪৪১ টাকায়। এর আগের দিন সোমবার এই মানের প্রতি ভরি স্বর্ণ বিক্রি হয়েছিল দুই লাখ ১৯ হাজার ৮০৮ টাকায়। অর্থাৎ এক দিনের ব্যবধানে ভরিতে বেড়েছে এক হাজার ৬৩৩ টাকা।
অন্যদিকে, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে দুই লাখ ১১ হাজার ৪ ৬৮ টাকা। যা গতকাল সোমবার পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছিল দুই লাখ ৯ হাজার ৮৯৪ টাকায়।
একইভাবে বেড়েছে ১৮ ক্যারেট ও সনাতন পদ্ধতির স্বর্ণের দামও। ১৮ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণ এখন পাওয়া যাবে এক লাখ ৮১ হাজার ৬০৮ টাকায়, যা পূর্বে ছিল এক লাখ ৮০ হাজার ২৬৭ টাকা। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণ কিনতে ক্রেতাকে গুনতে হবে এক লাখ ৪৮ হাজার ৩৬৬ টাকা, যার আগের বাজার দর ছিল এক লাখ ৪৭ হাজার ৩১৬ টাকা।
দর পরিবর্তনের প্রেক্ষাপট
বেশ কিছুদিন ধরেই আন্তর্জাতিক বাজারের টানাপোড়েন ও মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় স্বর্ণের দামে ধারাবাহিক ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছিল। গত দু-এক দিনে পর পর দুবার কমার পর এবার বাজার চড়তে শুরু করেছে।
খুচরা জুয়েলার্স মালিকদের মতে, আন্তর্জাতিক বাজার ও বিশ্ব অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি এই মুহূর্তে কিছুটা অনিশ্চিত। সার্বিক পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করেই দেশের বাজারে তেজাবী স্বর্ণের সরবরাহ ও দরে পরিবর্তন দেখা দেয়, যার প্রভাব পড়ে সাধারণ ক্রেতার কেনাকাটায়।
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন জানিয়েছে, বিশ্ববাজার ও স্থানীয় জুয়েলারি খাতের সার্বিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করতেই নিয়মিত ব্যবধানে দর পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে দফায় দফায় দাম পরিবর্তনের ফলে সাধারণ ক্রেতা থেকে শুরু করে গয়নার বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে এক ধরনের দ্বিধাদ্বন্দ্ব তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন বাজার বিশ্লেষকরা।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 























