জনস্বাস্থ্য নিয়ে আসিফ আকবরের ক্ষোভ প্রকাশ

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ এক লেখায় দেশের বিভিন্ন সংকট তুলে ধরে ক্ষোভের কথা জানান তিনি। টুথপেস্টে ক্ষুদ্র প্লাস্টিককণা পাওয়া নিয়ে যখন দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে, ঠিক তখনই তার এই মন্তব্য নতুন করে জনমনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
লেখার শুরুতেই খাদ্যপণ্যের মানহীনতা নিয়ে কথা বলেন এই শিল্পী। টুথপেস্টে প্লাস্টিককণা, বাতাসে ভারী ধাতুর উপস্থিতি, সুপেয় পানির সংকট, ফল পাকাতে রাসায়নিক ব্যবহার, শাকসবজিতে কীটনাশকের আধিক্য এবং মাছে সংরক্ষণকারী রাসায়নিক মেশানোর প্রবণতাকে তিনি এখন যেন স্বাভাবিক ঘটনা বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি পোলট্রি মুরগির মাংসে ক্ষতিকর ধাতব উপাদান, প্রক্রিয়াজাত খাবারের বাড়বাড়ন্ত, শিশুখাদ্যে ভেজাল, মুঠোফোন টাওয়ারের বিকিরণ এবং পরিবেশ দূষণসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও তিনি উদ্বেগ জানান।
শুধু খাদ্য ও স্বাস্থ্য নয়, দেশের সামাজিক ও আইনি পরিস্থিতি নিয়েও হতাশা ঝরে পড়ে তার লেখায়। মাদকের সহজলভ্যতা, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার, ব্যাংক খাতে অনিয়ম, অর্থ পাচার, ঘুষ-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং নারী নির্যাতন, খুন ও অপহরণের মতো অপরাধ প্রবণতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। বিশ্ব যখন আধুনিক প্রযুক্তি ও উড়ুক্কু যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনার বিশৃঙ্খলা, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট এবং প্রবাসী শ্রমিকদের নানামুখী দুর্ভোগ নিয়েও কথা বলেন তিনি।
লেখার একপর্যায়ে নিজের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন এই শিল্পী। তিনি জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তার রক্তচাপ অস্বাভাবিক মাত্রায় ওঠানামা করছিল, যার কারণে চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়েছিল তাকে। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন যে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ তিনি সেবন করছিলেন, তাতে কার্যকর কোনো উপাদানই ছিল না। এমনকি ওষুধটি সাধারণ ময়দা দিয়ে তৈরি বলেও চিকিৎসক তাকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এখানেই থেমে থাকেননি আসিফ। পরিচিত চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনার সূত্র ধরে তিনি আরও জানান, বাজারে প্রচলিত অনেক ওষুধে নির্ধারিত মাত্রার তুলনায় কম কার্যকারিতা থাকে। এ কারণেই কখনো কখনো রোগীদের একটির বদলে দুটি ট্যাবলেট সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয় বলে তার দাবি। ওষুধ শিল্পে এই ধরনের অনিয়মকে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
লেখার শেষাংশে দার্শনিক সুরে আসিফ আকবর লেখেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও মানুষ এখনো নিরাপদ খাদ্য ও প্রকৃত মানসম্পন্ন ওষুধ পাওয়ার নিশ্চয়তা পাচ্ছে না। মৃত্যু অনিবার্য জেনেও অন্তত প্রকৃত ও কার্যকর ওষুধ সেবন করে সুস্থভাবে জীবনের শেষ সময়টুকু পার করার সুযোগ পাওয়ার আকুতি প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থার সাম্প্রতিক এক জরিপে দেশের বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে ক্ষুদ্র প্লাস্টিককণার উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার দাবি করা হয়েছিল। এই তথ্য সামনে আসার পর ভোক্তা সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। ঠিক সেই আবহেই আসিফ আকবরের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং অনেকেই তার সঙ্গে একমত পোষণ করে মন্তব্য করেছেন।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই আইনি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

৩০ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

জনস্বাস্থ্য নিয়ে আসিফ আকবরের ক্ষোভ প্রকাশ

আপডেট সময় ০৩:০৯:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যব্যবস্থা ও প্রশাসনিক অব্যবস্থাপনা নিয়ে তীব্র হতাশা প্রকাশ করেছেন কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবর। নিজের যাচাইকৃত ফেসবুক অ্যাকাউন্টে দীর্ঘ এক লেখায় দেশের বিভিন্ন সংকট তুলে ধরে ক্ষোভের কথা জানান তিনি। টুথপেস্টে ক্ষুদ্র প্লাস্টিককণা পাওয়া নিয়ে যখন দেশজুড়ে তোলপাড় চলছে, ঠিক তখনই তার এই মন্তব্য নতুন করে জনমনে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।
লেখার শুরুতেই খাদ্যপণ্যের মানহীনতা নিয়ে কথা বলেন এই শিল্পী। টুথপেস্টে প্লাস্টিককণা, বাতাসে ভারী ধাতুর উপস্থিতি, সুপেয় পানির সংকট, ফল পাকাতে রাসায়নিক ব্যবহার, শাকসবজিতে কীটনাশকের আধিক্য এবং মাছে সংরক্ষণকারী রাসায়নিক মেশানোর প্রবণতাকে তিনি এখন যেন স্বাভাবিক ঘটনা বলে উল্লেখ করেন। পাশাপাশি পোলট্রি মুরগির মাংসে ক্ষতিকর ধাতব উপাদান, প্রক্রিয়াজাত খাবারের বাড়বাড়ন্ত, শিশুখাদ্যে ভেজাল, মুঠোফোন টাওয়ারের বিকিরণ এবং পরিবেশ দূষণসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকি নিয়েও তিনি উদ্বেগ জানান।
শুধু খাদ্য ও স্বাস্থ্য নয়, দেশের সামাজিক ও আইনি পরিস্থিতি নিয়েও হতাশা ঝরে পড়ে তার লেখায়। মাদকের সহজলভ্যতা, অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার, ব্যাংক খাতে অনিয়ম, অর্থ পাচার, ঘুষ-দুর্নীতি, চাঁদাবাজি এবং নারী নির্যাতন, খুন ও অপহরণের মতো অপরাধ প্রবণতা নিয়েও তিনি প্রশ্ন তোলেন। বিশ্ব যখন আধুনিক প্রযুক্তি ও উড়ুক্কু যন্ত্রের ব্যবহার নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, তখন দেশের সড়ক ব্যবস্থাপনার বিশৃঙ্খলা, গ্যাস ও জ্বালানি সংকট এবং প্রবাসী শ্রমিকদের নানামুখী দুর্ভোগ নিয়েও কথা বলেন তিনি।
লেখার একপর্যায়ে নিজের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন এই শিল্পী। তিনি জানান, বেশ কিছুদিন ধরে তার রক্তচাপ অস্বাভাবিক মাত্রায় ওঠানামা করছিল, যার কারণে চিকিৎসকের কাছে যেতে হয়েছিল তাকে। চিকিৎসকের বরাত দিয়ে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন যে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ তিনি সেবন করছিলেন, তাতে কার্যকর কোনো উপাদানই ছিল না। এমনকি ওষুধটি সাধারণ ময়দা দিয়ে তৈরি বলেও চিকিৎসক তাকে জানিয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।
এখানেই থেমে থাকেননি আসিফ। পরিচিত চিকিৎসকদের সঙ্গে আলোচনার সূত্র ধরে তিনি আরও জানান, বাজারে প্রচলিত অনেক ওষুধে নির্ধারিত মাত্রার তুলনায় কম কার্যকারিতা থাকে। এ কারণেই কখনো কখনো রোগীদের একটির বদলে দুটি ট্যাবলেট সেবনের পরামর্শ দেওয়া হয় বলে তার দাবি। ওষুধ শিল্পে এই ধরনের অনিয়মকে জনস্বাস্থ্যের জন্য বড় হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন তিনি।
লেখার শেষাংশে দার্শনিক সুরে আসিফ আকবর লেখেন, স্বাধীনতার দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও মানুষ এখনো নিরাপদ খাদ্য ও প্রকৃত মানসম্পন্ন ওষুধ পাওয়ার নিশ্চয়তা পাচ্ছে না। মৃত্যু অনিবার্য জেনেও অন্তত প্রকৃত ও কার্যকর ওষুধ সেবন করে সুস্থভাবে জীবনের শেষ সময়টুকু পার করার সুযোগ পাওয়ার আকুতি প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, একটি বেসরকারি গবেষণা সংস্থার সাম্প্রতিক এক জরিপে দেশের বাজারে প্রচলিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের টুথপেস্টে ক্ষুদ্র প্লাস্টিককণার উপস্থিতি শনাক্ত হওয়ার দাবি করা হয়েছিল। এই তথ্য সামনে আসার পর ভোক্তা সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্য নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়। ঠিক সেই আবহেই আসিফ আকবরের এই মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে এবং অনেকেই তার সঙ্গে একমত পোষণ করে মন্তব্য করেছেন।

Share this news as a Photo Card