‘স্পিরিট’ ছাড়ার আসল কারণ নিয়ে দীপিকাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোনের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘স্পিরিট’ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা পরিচালিত এবং প্রভাস অভিনীত এই সিনেমা থেকে দীপিকার সরে যাওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পার হওয়ার পর নতুন করে প্রসঙ্গটি সামনে এসেছে পরিচালকের ভাই প্রণয়ের একটি সাম্প্রতিক দাবির সূত্র ধরে। প্রণয়ের ভাষ্যমতে, সিনেমার মুনাফার দশ শতাংশ অংশ চেয়েছিলেন দীপিকা, আর এরপরই ঘটনার আরেকটি দিক প্রকাশ্যে আসে।
দীপিকার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অভিনেত্রীর সঙ্গে সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার সাক্ষাৎ হয়েছিল জীবনে কেবল একবারই। সেই একবারের বৈঠকেও পরিচালক নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর হাজির হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। সাক্ষাতে দীপিকা পুরোপুরি পেশাদার আচরণ করলেও তাকে সিনেমার সম্পূর্ণ কাহিনি জানানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। কেবল একটি বাক্যে সিনেমার মূল ভাবনাটুকু তুলে ধরা হয়েছিল তার কাছে।
সূত্রটির দাবি অনুযায়ী, কোনো সিনেমার সম্পূর্ণ কাহিনি না জেনে সেই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত সাধারণত নেন না দীপিকা। এ কারণেই শুরু থেকেই ‘স্পিরিট’ সিনেমাটি তার ভাবনার তালিকায় জায়গা পায়নি বলে জানানো হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি বিষয়— সূত্রটির ভাষ্যে, ব্যক্তিগতভাবে নারীবিদ্বেষী দৃষ্টিভঙ্গি রাখা নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে দীপিকার আপত্তি দীর্ঘদিনের। সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার নির্মিত সিনেমাগুলোতেও একই ধরনের মনোভাবের প্রতিফলন লক্ষ করা গেছে বলে দাবি তোলা হয়েছে, যা দীপিকার আপত্তির অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
তবে এর বিপরীতে ভিন্ন এক ব্যাখ্যা দিয়েছেন পরিচালকের ভাই প্রণয়। আগে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, পারিশ্রমিক এবং কাজের সময়সূচি নিয়ে আলোচনার ফলাফল থেকেই দীপিকাকে ছাড়াই সিনেমাটি নিয়ে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার ভাষায়, কারণ মূলত দুটি— একটি পারিশ্রমিক সংক্রান্ত, অন্যটি সময়সূচির সমন্বয় নিয়ে জটিলতা। এসবের বাইরেও আরও কিছু বিষয় প্রভাব ফেলেছিল বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
প্রণয়ের দাবি অনুযায়ী, দীপিকার সঙ্গে প্রায় দেড় বছর ধরে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যান সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা। এই দীর্ঘ সময় ধরে দীপিকাকে সিনেমায় নেওয়ার ব্যাপারে পরিচালকের যথেষ্ট আগ্রহ ছিল বলেও জানান তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত নানা জটিলতার কারণে দীপিকাকে ছাড়াই সিনেমা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছান নির্মাতা।
প্রণয় আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দীপিকা অভিনীত সিনেমাগুলোর বাণিজ্যিক সাফল্য তাকে পারিশ্রমিক নিয়ে দর কষাকষিতে বাড়তি সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছিল। তার অভিযোগ, দীপিকা কেবল অভিনয়ের জন্য নির্ধারিত পারিশ্রমিক নয়, বরং সিনেমার সামগ্রিক মুনাফার দশ শতাংশ অংশও দাবি করেছিলেন। এত বড় অঙ্কের দাবির কারণে সিনেমার বাজেট ও আর্থিক পরিকল্পনা সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে জানান তিনি। শেষ পর্যন্ত এই আর্থিক জটিলতা থেকেই বিকল্প অভিনেত্রী খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে।
দীপিকার ঘনিষ্ঠ সূত্র এবং প্রণয়ের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য থাকায় ‘স্পিরিট’ থেকে দীপিকার সরে দাঁড়ানোর প্রকৃত কারণ নিয়ে দর্শক ও বিনোদনপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে পেশাদারি ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের প্রশ্ন, অন্যদিকে পারিশ্রমিক ও ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশের প্রসঙ্গ— দুই ভাষ্যের এই টানাপোড়েনে বিষয়টি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। আপাতত দীপিকা পাড়ুকোন নিজে এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি, ফলে বিতর্কের পূর্ণাঙ্গ সমাধান এখনো অধরাই থেকে গেছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান কি ছুটিতে যাচ্ছেন?

২২ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

‘স্পিরিট’ ছাড়ার আসল কারণ নিয়ে দীপিকাকে ঘিরে নতুন বিতর্ক

আপডেট সময় ১২:৫৭:২৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

বলিউড তারকা দীপিকা পাড়ুকোনের বহুল আলোচিত সিনেমা ‘স্পিরিট’ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘটনা আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে। সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা পরিচালিত এবং প্রভাস অভিনীত এই সিনেমা থেকে দীপিকার সরে যাওয়ার এক বছরেরও বেশি সময় পার হওয়ার পর নতুন করে প্রসঙ্গটি সামনে এসেছে পরিচালকের ভাই প্রণয়ের একটি সাম্প্রতিক দাবির সূত্র ধরে। প্রণয়ের ভাষ্যমতে, সিনেমার মুনাফার দশ শতাংশ অংশ চেয়েছিলেন দীপিকা, আর এরপরই ঘটনার আরেকটি দিক প্রকাশ্যে আসে।
দীপিকার ঘনিষ্ঠ একটি সূত্রের বরাতে জানা গেছে, অভিনেত্রীর সঙ্গে সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার সাক্ষাৎ হয়েছিল জীবনে কেবল একবারই। সেই একবারের বৈঠকেও পরিচালক নির্ধারিত সময়ের প্রায় এক ঘণ্টা পর হাজির হয়েছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। সাক্ষাতে দীপিকা পুরোপুরি পেশাদার আচরণ করলেও তাকে সিনেমার সম্পূর্ণ কাহিনি জানানো হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। কেবল একটি বাক্যে সিনেমার মূল ভাবনাটুকু তুলে ধরা হয়েছিল তার কাছে।
সূত্রটির দাবি অনুযায়ী, কোনো সিনেমার সম্পূর্ণ কাহিনি না জেনে সেই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার সিদ্ধান্ত সাধারণত নেন না দীপিকা। এ কারণেই শুরু থেকেই ‘স্পিরিট’ সিনেমাটি তার ভাবনার তালিকায় জায়গা পায়নি বলে জানানো হয়েছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরও একটি বিষয়— সূত্রটির ভাষ্যে, ব্যক্তিগতভাবে নারীবিদ্বেষী দৃষ্টিভঙ্গি রাখা নির্মাতাদের সঙ্গে কাজ করার ব্যাপারে দীপিকার আপত্তি দীর্ঘদিনের। সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গার নির্মিত সিনেমাগুলোতেও একই ধরনের মনোভাবের প্রতিফলন লক্ষ করা গেছে বলে দাবি তোলা হয়েছে, যা দীপিকার আপত্তির অন্যতম কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।
তবে এর বিপরীতে ভিন্ন এক ব্যাখ্যা দিয়েছেন পরিচালকের ভাই প্রণয়। আগে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছিলেন, পারিশ্রমিক এবং কাজের সময়সূচি নিয়ে আলোচনার ফলাফল থেকেই দীপিকাকে ছাড়াই সিনেমাটি নিয়ে এগোনোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তার ভাষায়, কারণ মূলত দুটি— একটি পারিশ্রমিক সংক্রান্ত, অন্যটি সময়সূচির সমন্বয় নিয়ে জটিলতা। এসবের বাইরেও আরও কিছু বিষয় প্রভাব ফেলেছিল বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
প্রণয়ের দাবি অনুযায়ী, দীপিকার সঙ্গে প্রায় দেড় বছর ধরে যোগাযোগ ও আলোচনা চালিয়ে যান সন্দীপ রেড্ডি ভাঙ্গা। এই দীর্ঘ সময় ধরে দীপিকাকে সিনেমায় নেওয়ার ব্যাপারে পরিচালকের যথেষ্ট আগ্রহ ছিল বলেও জানান তিনি। তবে শেষ পর্যন্ত নানা জটিলতার কারণে দীপিকাকে ছাড়াই সিনেমা এগিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্তে পৌঁছান নির্মাতা।
প্রণয় আরও উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক সময়ে দীপিকা অভিনীত সিনেমাগুলোর বাণিজ্যিক সাফল্য তাকে পারিশ্রমিক নিয়ে দর কষাকষিতে বাড়তি সুবিধাজনক অবস্থানে রেখেছিল। তার অভিযোগ, দীপিকা কেবল অভিনয়ের জন্য নির্ধারিত পারিশ্রমিক নয়, বরং সিনেমার সামগ্রিক মুনাফার দশ শতাংশ অংশও দাবি করেছিলেন। এত বড় অঙ্কের দাবির কারণে সিনেমার বাজেট ও আর্থিক পরিকল্পনা সমন্বয় করা কঠিন হয়ে পড়েছিল বলে জানান তিনি। শেষ পর্যন্ত এই আর্থিক জটিলতা থেকেই বিকল্প অভিনেত্রী খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু হয়, যা পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমে প্রকাশ্যে আসে।
দীপিকার ঘনিষ্ঠ সূত্র এবং প্রণয়ের বক্তব্যের মধ্যে স্পষ্ট অসামঞ্জস্য থাকায় ‘স্পিরিট’ থেকে দীপিকার সরে দাঁড়ানোর প্রকৃত কারণ নিয়ে দর্শক ও বিনোদনপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে কৌতূহল ও বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে পেশাদারি ও ব্যক্তিগত মূল্যবোধের প্রশ্ন, অন্যদিকে পারিশ্রমিক ও ব্যবসায়িক হিসাব-নিকাশের প্রসঙ্গ— দুই ভাষ্যের এই টানাপোড়েনে বিষয়টি আরও জটিল রূপ নিয়েছে। আপাতত দীপিকা পাড়ুকোন নিজে এ নিয়ে প্রকাশ্যে কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি, ফলে বিতর্কের পূর্ণাঙ্গ সমাধান এখনো অধরাই থেকে গেছে।

Share this news as a Photo Card