শিরোনাম :
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান কি বদলেছে? পুলিশের উচ্চপর্যায়ে বড় রদবদল, ঢাকা-রাজশাহী-খুলনা রেঞ্জে নতুন ডিআইজি আগামী ৭২ ঘণ্টায় দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে বন্যার শঙ্কা, কয়েকটি জেলার নদী বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে খামেনির শোকানুষ্ঠানে ৭০টির বেশি দেশের প্রতিনিধিত্ব কি কারণে শুভশ্রীর আবেগঘন বার্তা সরকারি ব্যানার-ফেস্টুনে প্রধানমন্ত্রীর ছবি নিষিদ্ধ শাহজাদপুরে মাদক ব্যবসার অভিযোগে নারীর বাড়িতে ভাঙচুর, আইন নিজের হাতে না নেওয়ার আহ্বান পুলিশের ‘জুলাই চেতনা’ নিয়ে ব্যবসা কাম্য নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নতুন নেতৃত্বে চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি: সভাপতি শিবা শানু, সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী লেভেল ক্রসিংয়ে মৃত্যুফাঁদ: প্রযুক্তি ও অব্যবস্থাপনার গোলকধাঁধায় রেলওয়ে

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান কি বদলেছে?

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ। এক সময়ের ক্ষমতাসীন দলটি এখন কোণঠাসা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই দলটি নিষিদ্ধের দাবি জোরালো হতে থাকে। সেই দাবির মুখে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অধ্যাদেশ জারি করে দলটির কার্যক্রম স্থগিত করে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, বিএনপি সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায় এসে কেন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থান নিচ্ছে? নির্বাচনের আগে যে বিএনপি দল নিষিদ্ধের চেয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়েছিল, সেই অবস্থান কি এখন বদলেছে?

​নির্বাচনের আগে: ‘সতর্ক ও নমনীয়’ বিএনপি

​২০২৫ সালের মে মাসে যখন সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়, তখন বিএনপি এই প্রক্রিয়ার অংশ থাকলেও দলটির পক্ষ থেকে সরাসরি ‘নিষিদ্ধ’ করার মতো কঠোর শব্দ উচ্চারণ করা হয়নি।

​২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, “বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয়। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত ঐক্যের ভিত্তিতে।” ওই সময় দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকের বক্তব্য ছিল—যারা অপরাধের সাথে জড়িত নন, তাদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ থাকা উচিত। অর্থাৎ, নির্বাচনের আগে বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির আবহ বজায় রাখার কৌশল নিয়েছিল।

​সরকার গঠনের পর: কঠোরতার পথে বিএনপি

​ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ৮ এপ্রিল ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়। এই বিলটি অন্তর্বর্তী সরকারের সেই অধ্যাদেশকেই আইনি ভিত্তি দেয়। কিন্তু সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায় বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে আসা বক্তব্যগুলো যেন ইঙ্গিত দিচ্ছে এক নতুন কৌশলের।

​গত ৪ জুলাই ঢাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ সরাসরি বলেন, “দেশে আওয়ামী লীগ আর রাজনীতি করতে পারবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “দলটির রাজনৈতিক পতন হয়েছে, আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে সরকার যে একটি বড় আইনি পদক্ষেপের দিকে এগোচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

​কেন এই পরিবর্তন? কী চায় বিএনপি?

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই অবস্থানের পরিবর্তনের পেছনে দুটি প্রধান কারণ থাকতে পারে।

​প্রথমত, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমীকরণ: নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মনে করেন, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগকে বিএনপি তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই দেখছে। তিনি বলেন, “জামায়াত বা এনসিপি বর্তমানে বিরোধী দলে থাকলেও আওয়ামী লীগের মতো একই মাত্রার রাজনৈতিক হুমকি তৈরি করবে—এটি বিএনপি মনে করে না।” তাই দীর্ঘমেয়াদে মাঠ দখল রাখতে আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি রাজনৈতিক নির্বাসনে পাঠাতে চায় বিএনপি।

​দ্বিতীয়ত, আইনি বৈধতা ও বিতর্ক এড়ানো: বিএনপি কোনো নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করার বিতর্কিত পথে হাঁটতে চায় না। দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু জানান, তারা বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করতে চান। এতে করে ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আইনি প্রশ্ন বা বিতর্ক উত্থাপনের সুযোগ থাকবে না। তারা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের মাধ্যমে বিচার সম্পন্ন হলে সেটি একটি স্থায়ী আইনি নজির হিসেবে টিকে থাকবে।

​আইনি চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা

​চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯—উভয়ই আওয়ামী লীগের আমলে প্রণীত। এখন সেই আইনগুলোকেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

​তবে সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেন। তার মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে কিছুটা স্ববিরোধিতা রয়েছে। কারণ, আওয়ামী লীগ এমনিতেই মাঠের রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েছে। তারা প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচিও দিচ্ছে না। তিনি বলেন, “রাজনীতিবিদরা নানা কথা বলবেনই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রশাসক হিসেবে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়—সেটাই দেখার বিষয়।”

​উপসংহার

​বিএনপির বর্তমান অবস্থানকে অনেকেই ‘রাজনৈতিক বাস্তববাদ’ হিসেবে দেখছেন। ক্ষমতার রাজনীতিতে টিকে থাকতে এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানাতে বিএনপি যে এখন আর কোনো ছাড় দেওয়ার অবস্থানে নেই, তা স্পষ্ট। কিন্তু এই কঠোর অবস্থান শেষ পর্যন্ত সফল হবে নাকি নতুন কোনো আইনি বা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান কি বদলেছে?

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

লেভেল ক্রসিংয়ে মৃত্যুফাঁদ: প্রযুক্তি ও অব্যবস্থাপনার গোলকধাঁধায় রেলওয়ে

০৪ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের প্রশ্নে বিএনপির অবস্থান কি বদলেছে?

আপডেট সময় ১২:০৬:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনীতিতে বর্তমানে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়—আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ। এক সময়ের ক্ষমতাসীন দলটি এখন কোণঠাসা। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই দলটি নিষিদ্ধের দাবি জোরালো হতে থাকে। সেই দাবির মুখে অন্তর্বর্তী সরকার সন্ত্রাসবিরোধী আইনে অধ্যাদেশ জারি করে দলটির কার্যক্রম স্থগিত করে। তবে প্রশ্ন উঠেছে, বিএনপি সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায় এসে কেন আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে এমন কঠোর অবস্থান নিচ্ছে? নির্বাচনের আগে যে বিএনপি দল নিষিদ্ধের চেয়ে বিচারিক প্রক্রিয়ার ওপর জোর দিয়েছিল, সেই অবস্থান কি এখন বদলেছে?

​নির্বাচনের আগে: ‘সতর্ক ও নমনীয়’ বিএনপি

​২০২৫ সালের মে মাসে যখন সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধনের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কার্যক্রম স্থগিত করা হয়, তখন বিএনপি এই প্রক্রিয়ার অংশ থাকলেও দলটির পক্ষ থেকে সরাসরি ‘নিষিদ্ধ’ করার মতো কঠোর শব্দ উচ্চারণ করা হয়নি।

​২০২৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সিঙ্গাপুর থেকে দেশে ফিরে সাংবাদিকদের স্পষ্ট করেই বলেছিলেন, “বিএনপি কোনো রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করার পক্ষে নয়। রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত ঐক্যের ভিত্তিতে।” ওই সময় দলের শীর্ষ নেতাদের অনেকের বক্তব্য ছিল—যারা অপরাধের সাথে জড়িত নন, তাদের রাজনীতিতে ফেরার সুযোগ থাকা উচিত। অর্থাৎ, নির্বাচনের আগে বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাজনীতির আবহ বজায় রাখার কৌশল নিয়েছিল।

​সরকার গঠনের পর: কঠোরতার পথে বিএনপি

​ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর গত ৮ এপ্রিল ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ জাতীয় সংসদে পাস হয়। এই বিলটি অন্তর্বর্তী সরকারের সেই অধ্যাদেশকেই আইনি ভিত্তি দেয়। কিন্তু সরকার গঠনের তিন মাসের মাথায় বিএনপির শীর্ষ পর্যায় থেকে আসা বক্তব্যগুলো যেন ইঙ্গিত দিচ্ছে এক নতুন কৌশলের।

​গত ৪ জুলাই ঢাকায় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে আয়োজিত সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহ উদ্দিন আহমদ সরাসরি বলেন, “দেশে আওয়ামী লীগ আর রাজনীতি করতে পারবে না।” তিনি আরও যোগ করেন, “দলটির রাজনৈতিক পতন হয়েছে, আর দাফন হয়েছে দিল্লিতে।” তার এই বক্তব্যের মাধ্যমে সরকার যে একটি বড় আইনি পদক্ষেপের দিকে এগোচ্ছে, তা স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

​কেন এই পরিবর্তন? কী চায় বিএনপি?

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, বিএনপির এই অবস্থানের পরিবর্তনের পেছনে দুটি প্রধান কারণ থাকতে পারে।

​প্রথমত, রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার সমীকরণ: নাগরিক ঐক্যের সভাপতি মাহমুদুর রহমান মান্না মনে করেন, ভবিষ্যতে আওয়ামী লীগকে বিএনপি তাদের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেই দেখছে। তিনি বলেন, “জামায়াত বা এনসিপি বর্তমানে বিরোধী দলে থাকলেও আওয়ামী লীগের মতো একই মাত্রার রাজনৈতিক হুমকি তৈরি করবে—এটি বিএনপি মনে করে না।” তাই দীর্ঘমেয়াদে মাঠ দখল রাখতে আওয়ামী লীগকে পুরোপুরি রাজনৈতিক নির্বাসনে পাঠাতে চায় বিএনপি।

​দ্বিতীয়ত, আইনি বৈধতা ও বিতর্ক এড়ানো: বিএনপি কোনো নির্বাহী আদেশে নিষিদ্ধ করার বিতর্কিত পথে হাঁটতে চায় না। দলের ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু জানান, তারা বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করতে চান। এতে করে ভবিষ্যতে এই সিদ্ধান্ত নিয়ে কোনো আইনি প্রশ্ন বা বিতর্ক উত্থাপনের সুযোগ থাকবে না। তারা মনে করছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের মাধ্যমে বিচার সম্পন্ন হলে সেটি একটি স্থায়ী আইনি নজির হিসেবে টিকে থাকবে।

​আইনি চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতা

​চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩ এবং সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯—উভয়ই আওয়ামী লীগের আমলে প্রণীত। এখন সেই আইনগুলোকেই তাদের বিরুদ্ধে ব্যবহার করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।

​তবে সিনিয়র সাংবাদিক ও বিশ্লেষক আলতাফ পারভেজ কিছুটা ভিন্নমত পোষণ করেন। তার মতে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে কিছুটা স্ববিরোধিতা রয়েছে। কারণ, আওয়ামী লীগ এমনিতেই মাঠের রাজনীতি থেকে ছিটকে পড়েছে। তারা প্রকাশ্যে কোনো কর্মসূচিও দিচ্ছে না। তিনি বলেন, “রাজনীতিবিদরা নানা কথা বলবেনই, কিন্তু শেষ পর্যন্ত প্রশাসক হিসেবে সরকার কী পদক্ষেপ নেয়—সেটাই দেখার বিষয়।”

​উপসংহার

​বিএনপির বর্তমান অবস্থানকে অনেকেই ‘রাজনৈতিক বাস্তববাদ’ হিসেবে দেখছেন। ক্ষমতার রাজনীতিতে টিকে থাকতে এবং গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে সম্মান জানাতে বিএনপি যে এখন আর কোনো ছাড় দেওয়ার অবস্থানে নেই, তা স্পষ্ট। কিন্তু এই কঠোর অবস্থান শেষ পর্যন্ত সফল হবে নাকি নতুন কোনো আইনি বা রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে, তা এখন সময়ের অপেক্ষা।

Share this news as a Photo Card