শিরোনাম :
রাণীশংকৈলে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীকে ধর্ষণ, শালিসে জরিমানা
-
মাহাবুব আলম, রাণীশংকৈল (ঠাকুরগাঁও) প্রতিনিধি - আপডেট সময় ০৭:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫
- 98
মেয়েটি একেইতো দৃষ্ঠি প্রতিবন্ধি তার পর আবার ধর্ষণ। এমন লোহমর্ষক ঘটনাটি ঘটেছে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল উপজেলার নন্দুয়ার ইউনিয়নের গাজীরহাট খুনিপাড়া এলাকায়। আর স্থানীয়রা অনৈতিক কাজের খেসারত হিসাবে সাবুলকে জরিমানা করলো আড়াই লাখ টাকা।
জানা গেছে, গত ১৩ সেপ্টেম্বর শনিবার গভির রাতে একই এলাকার সাবুলের স্ত্রী প্রতিবেশি দৃষ্টি প্রতিবন্ধীকে তাঁর বাসায় ডেকে নিয়ে যায়। এরপর জোর পূর্বক তাকে ঘরে নিয়ে গেলে সাবুল প্রতিবন্ধির সাথে অনৈতিক কাজ করে। এসময় এলাকাবাসী টের পেলে দূজনকে আটক করে। তাৎক্ষণিক ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি রমজান আলী হাসু মেম্বার, স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা বিশিষ্ট ব্যবসায়ী রাজিব ও স্থানীয় লোকজন বিষয়টি তাড়াহুড়া করে প্রতিবন্ধী ইজ্জতের মূল্য নির্ধারণ করে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। তাও আবার বাকি।
এবিষয়ে দৃষ্টি প্রতিবন্ধি জানান আমাকে প্রায় ৮ বছর ধরে এভাবে ডেকে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে আসছে সাবুল। গত বৈশাখ মাসে আমার সঙ্গে শারিরীক সম্র্পক করে এবং আমার গর্ভে সন্তান আসে তিন মাস পর আমি যখন বলতে যায়। ঔষধ দিয়ে আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে দেয়। আমি এখন সাবুলকে বিয়ে করতে চাই। না হয় আমার জীবনের মূল্য করে দেক। যেহেতু আইনে ধর্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ আর এ অপরাধে অভিযুক্তকারীকে শনিবার আটকের পর (সাবুল) কে সে রাতেই স্থানীয় বিএনপি,আওয়ামীলীগনেতারা প্রতিবন্ধির ইজ্জতের মুল্য নির্ধারণ করে ২ লক্ষ ৫০হাজার টাকা। নগদ ২০হাজার অশিষ্ঠ টাকা ১৫দিন পরে।
এ প্রসঙ্গে ঠাকুরগাঁও জেলা জজকোর্টের এ্যাডভোকেট আসাদুজাম্মান রনি বলেন, ধর্ষণ একটি গুরুত্বপূর্ণ অপরাধ আর এটা শালিসে নিসম্পত্তি করা যায়না। এটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০৩ এর অধীনে শাস্তিযোগ্য অপরাধ। ধর্ষনের মতো জঘন্য অপরাধের ক্ষেত্রে সালিশের মাধ্যমে মিমাংসা করার সুযোগ নেই। এ ধরণের অপরাধের বিচার রাষ্ঠীয় আইনে পরিচালিত হবে।
এ ব্যাপারে অভিযুক্ত সাবুলের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্ঠা করা হলে তাকে বাসায় পাওয়া যায়নি। তবে সাবুলের ভাই সুমন রানা ও তার স্ত্রী এ প্রতিনিধিকে কাছে ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মেম্বার সাহেব আমাদের এটি মিমাংসা করে দিয়েছে। নন্দুয়ার ইউপি সদস্য ও ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি রমজান আলী (হাসু) মুঠো ফোনে বলেন, আমি কি করবো ওসি স্যারকে এর আগে আরেকটা ধর্ষণের ঘটনা বলেছিলাম ওনি আমাকেই উল্টো রাগ করেছিল তাই স্থানীয় লোকজন নিয়ে বিষয়টি আপোষ মিমাংসা করে দিয়েছি। আপোষের টাকাগুলো ১৫ দিনের জন্য সময় নিয়েছে দিয়ে দিবে।
এব্যাপারে থানা অফিসার ইনচার্জ আরশেদুল হক মুঠোফোনে বলেন, বিষয়টি আমি জানিনা। তবে অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ট্যাগস
রংপুর বিভাগ
জনপ্রিয় সংবাদ



























