শিরোনাম :
পদত্যাগ প্রশ্নে বিরক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদে ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ কে এই খাইরুল দেওয়ান ? শুক্রবার সারা ভারতে জুড়ে বিক্ষোভের ডাক ককরোচ পার্টির ভেনিস উৎসবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সিনেমা ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও বিতর্কের জেরে জামাত নেতা গাজী নজরুলকে বহিষ্কার, ইসি-স্পিকারকে চিঠি শাহজাদপুরে ১৫৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ মোদির সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

টানা বৃষ্টিতে সবজি খেত তলিয়ে, চড়ছে বাজারদর

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার সবজি খেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মরিচ, বেগুন, পটল, ঢেঁড়স, করলা, তরই ও কচুর লতির মতো বিভিন্ন মৌসুমি সবজির ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ৪৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় এক হাজার কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সবজির সরবরাহে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে কাঁচাবাজারে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপজেলার আটটি ইউনিয়নের নিচু জমিতে দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকায় অনেক ক্ষেতের গাছ পচে যাচ্ছে। অনেক জমিতে ফসল আর উদ্ধার করার সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বদলগাছী নওগাঁ জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সবজি উৎপাদন এলাকা। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এখান থেকে নিয়মিত দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন সবজি পাঠানো হয়। ফলে এ অঞ্চলের উৎপাদন ব্যাহত হলে তার প্রভাব দেশের বৃহত্তর বাজারেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শনিবার বদলগাছীর সাপ্তাহিক হাটে দেখা যায়, আগের তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে দামও বেড়েছে দ্রুত। খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬০ টাকায়। পাইকারি বাজারে বেগুনের দাম ৮০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকা, তরই ৩০ টাকা এবং পটল ২৫ টাকা কেজি। খুচরা পর্যায়ে এসব সবজির দাম আরও ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়া স্বাভাবিক। চাহিদা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও মাঠ থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সবজি আসছে না। ফলে পাইকারি ও খুচরা—উভয় বাজারেই মূল্য ঊর্ধ্বমুখী।
কৃষকদের ক্ষতির চিত্রও উদ্বেগজনক। বালুভরা ইউনিয়নের কৃষক মো. কামরুল হাসান তুষার জানান, আট বিঘা জমিতে লাগানো পাঁচ হাজার পেঁপে গাছের মধ্যে প্রায় তিন হাজার গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তাঁর প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আধাইপুর ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ হাসান বলেন, পাঁচ কাঠা জমিতে পটল চাষে ছয় হাজার টাকা ব্যয় করলেও অতিবৃষ্টিতে গাছ পচে যাওয়ায় এক মণ পটলও বিক্রি করতে পারেননি। একইভাবে সদর ইউনিয়নের কৃষক নূর ইসলাম জানান, তাঁর মরিচের খেত পানির নিচে চলে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবাব ফারহান বলেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে কৃষকদের দ্রুত পুনরায় আবাদে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমাণ যেমন বাড়তে পারে, তেমনি বাজারে সবজির দামও আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের ক্ষতি কমাতে দ্রুত সহায়তা এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগ প্রশ্নে বিরক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

২৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

টানা বৃষ্টিতে সবজি খেত তলিয়ে, চড়ছে বাজারদর

আপডেট সময় ০১:৫৬:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার সবজি খেত পানির নিচে তলিয়ে গেছে। মরিচ, বেগুন, পটল, ঢেঁড়স, করলা, তরই ও কচুর লতির মতো বিভিন্ন মৌসুমি সবজির ক্ষেত ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাবে অন্তত ৪৫ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় এক হাজার কৃষক আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। একই সঙ্গে উৎপাদন কমে যাওয়ায় দেশের বিভিন্ন এলাকায় সবজির সরবরাহে প্রভাব পড়তে শুরু করেছে, যার প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে কাঁচাবাজারে। 

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানিয়েছে, উপজেলার আটটি ইউনিয়নের নিচু জমিতে দীর্ঘ সময় ধরে পানি জমে থাকায় অনেক ক্ষেতের গাছ পচে যাচ্ছে। অনেক জমিতে ফসল আর উদ্ধার করার সুযোগ নেই বলেও জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। বদলগাছী নওগাঁ জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সবজি উৎপাদন এলাকা। স্থানীয় চাহিদা পূরণের পাশাপাশি এখান থেকে নিয়মিত দেশের বিভিন্ন জেলায় প্রায় ৫০০ মেট্রিক টন সবজি পাঠানো হয়। ফলে এ অঞ্চলের উৎপাদন ব্যাহত হলে তার প্রভাব দেশের বৃহত্তর বাজারেও পড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
শনিবার বদলগাছীর সাপ্তাহিক হাটে দেখা যায়, আগের তুলনায় বাজারে সবজির সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এর ফলে দামও বেড়েছে দ্রুত। খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচ বিক্রি হচ্ছে কেজিপ্রতি ১৬০ টাকায়। পাইকারি বাজারে বেগুনের দাম ৮০ টাকা, করলা ৬০ টাকা, কচুর লতি ৫০ টাকা, তরই ৩০ টাকা এবং পটল ২৫ টাকা কেজি। খুচরা পর্যায়ে এসব সবজির দাম আরও ২০ থেকে ৩০ টাকা পর্যন্ত বেড়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বাড়া স্বাভাবিক। চাহিদা প্রায় অপরিবর্তিত থাকলেও মাঠ থেকে প্রয়োজনীয় পরিমাণ সবজি আসছে না। ফলে পাইকারি ও খুচরা—উভয় বাজারেই মূল্য ঊর্ধ্বমুখী।
কৃষকদের ক্ষতির চিত্রও উদ্বেগজনক। বালুভরা ইউনিয়নের কৃষক মো. কামরুল হাসান তুষার জানান, আট বিঘা জমিতে লাগানো পাঁচ হাজার পেঁপে গাছের মধ্যে প্রায় তিন হাজার গাছ নষ্ট হয়ে গেছে। এতে তাঁর প্রায় দেড় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। আধাইপুর ইউনিয়নের কৃষক মোহাম্মদ হাসান বলেন, পাঁচ কাঠা জমিতে পটল চাষে ছয় হাজার টাকা ব্যয় করলেও অতিবৃষ্টিতে গাছ পচে যাওয়ায় এক মণ পটলও বিক্রি করতে পারেননি। একইভাবে সদর ইউনিয়নের কৃষক নূর ইসলাম জানান, তাঁর মরিচের খেত পানির নিচে চলে যাওয়ায় বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়েছেন।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ সাবাব ফারহান বলেন, ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত পরিমাণ নিরূপণে মাঠপর্যায়ে কাজ চলছে। আবহাওয়া স্বাভাবিক হলে কৃষকদের দ্রুত পুনরায় আবাদে ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হবে। তবে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস উদ্বেগ বাড়িয়েছে। বৃষ্টি দীর্ঘস্থায়ী হলে ক্ষতির পরিমাণ যেমন বাড়তে পারে, তেমনি বাজারে সবজির দামও আরও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে কৃষকদের ক্ষতি কমাতে দ্রুত সহায়তা এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

Share this news as a Photo Card