বাংলাদেশে নিপা ভাইরাসে মৃত্যু, সতর্ক থাকতে বলল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

বাংলাদেশে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এই মুহূর্তে রোগটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক কম। গত ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের আইএইচআর এনএফপি (ইন্টারন্যাশনাল হেলথ রেগুলেশনস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট) রাজশাহী বিভাগে ওই রোগীর আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি সংস্থাটিকে অবহিত করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, মৃত ব্যক্তি নওগাঁ জেলার ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী একজন নারী ছিলেন। গত ২১ জানুয়ারি থেকে তাঁর শরীরে জ্বর ও স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়। ২৮ জানুয়ারি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং পরদিনই ল্যাব পরীক্ষায় নিপা ভাইরাস শনাক্ত হয়। তবে ৩ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ওই নারীর কোনো ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না, তবে তিনি সংক্রমণের আগে কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন।

সংক্রমণের পর সংশ্লিষ্ট এলাকার আরও ৩৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলেও নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি দুজন নিপা রোগী শনাক্ত হওয়ার এক সপ্তাহ পরেই বাংলাদেশের এই খবরটি এলো। প্রতিবেশী ভারতে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে উদ্বেগ তৈরি করলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে কোনো দেশেই ভ্রমণ বা বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন নেই। সংস্থার মতে, জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে এই ভাইরাসের ঝুঁকি খুবই সামান্য।

২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৪৮ জন নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সংক্রমণের হার মূলত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে বেশি থাকে এবং আক্রান্তদের সিংহভাগই কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন। নিপা ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ বা ভ্যাকসিন না থাকায় এতে মৃত্যুর হার অনেক বেশি—প্রায় ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান নিপা ভাইরাসকে একটি ‘বিরল কিন্তু গুরুতর রোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, কর্তৃপক্ষ বর্তমানে নজরদারি ও পরীক্ষা বাড়িয়েছে এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে এবং কাঁচা খেজুরের রস পান করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

শেখ হাসিনা দেশে ফিরলেই আইনি ব্যবস্থা: আইনমন্ত্রী

৩০ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

বাংলাদেশে নিপা ভাইরাসে মৃত্যু, সতর্ক থাকতে বলল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

আপডেট সময় ১২:২৫:২৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশে নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে একজনের মৃত্যুর ঘটনায় সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তবে সংস্থাটি জানিয়েছে, এই মুহূর্তে রোগটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেক কম। গত ৩ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশের আইএইচআর এনএফপি (ইন্টারন্যাশনাল হেলথ রেগুলেশনস ন্যাশনাল ফোকাল পয়েন্ট) রাজশাহী বিভাগে ওই রোগীর আক্রান্ত হওয়ার বিষয়টি সংস্থাটিকে অবহিত করে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, মৃত ব্যক্তি নওগাঁ জেলার ৪০ থেকে ৫০ বছর বয়সী একজন নারী ছিলেন। গত ২১ জানুয়ারি থেকে তাঁর শরীরে জ্বর ও স্নায়বিক সমস্যা দেখা দেয়। ২৮ জানুয়ারি তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করার পর রক্তের নমুনা সংগ্রহ করা হয় এবং পরদিনই ল্যাব পরীক্ষায় নিপা ভাইরাস শনাক্ত হয়। তবে ৩ ফেব্রুয়ারি চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। ওই নারীর কোনো ভ্রমণের ইতিহাস ছিল না, তবে তিনি সংক্রমণের আগে কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন।

সংক্রমণের পর সংশ্লিষ্ট এলাকার আরও ৩৫ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হলেও নতুন কোনো রোগী শনাক্ত হয়নি। ভারতের পশ্চিমবঙ্গে সম্প্রতি দুজন নিপা রোগী শনাক্ত হওয়ার এক সপ্তাহ পরেই বাংলাদেশের এই খবরটি এলো। প্রতিবেশী ভারতে ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব চীন ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে উদ্বেগ তৈরি করলেও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা স্পষ্ট করেছে যে, বর্তমান তথ্যের ভিত্তিতে কোনো দেশেই ভ্রমণ বা বাণিজ্যে নিষেধাজ্ঞার প্রয়োজন নেই। সংস্থার মতে, জাতীয়, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক পর্যায়ে এই ভাইরাসের ঝুঁকি খুবই সামান্য।

২০০১ সাল থেকে বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত প্রায় ৩৪৮ জন নিপা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। সংক্রমণের হার মূলত ডিসেম্বর থেকে এপ্রিল মাসের মধ্যে বেশি থাকে এবং আক্রান্তদের সিংহভাগই কাঁচা খেজুরের রস পান করেছিলেন। নিপা ভাইরাসের কোনো নির্দিষ্ট ওষুধ বা ভ্যাকসিন না থাকায় এতে মৃত্যুর হার অনেক বেশি—প্রায় ৪০ থেকে ৭৫ শতাংশ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান নিপা ভাইরাসকে একটি ‘বিরল কিন্তু গুরুতর রোগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি জানান, কর্তৃপক্ষ বর্তমানে নজরদারি ও পরীক্ষা বাড়িয়েছে এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সাধারণ মানুষকে সুরক্ষার বিষয়ে সচেতন করা হচ্ছে এবং কাঁচা খেজুরের রস পান করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।

Share this news as a Photo Card