রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে গত চার দিন ধরে থেমে থেমে বৃষ্টি হচ্ছে। এই অঝোর বর্ষণের নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে, বিশেষ করে সবজির দামে। সরবরাহ সংকটের অজুহাতে গত কয়েক দিনের ব্যবধানে বেশিরভাগ সবজির দাম কেজিপ্রতি ৬০ থেকে ৮০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এমনকি কিছু সবজি এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে, যার দাম ছাড়িয়েছে ১০০ টাকার ঘর।
শুক্রবার রাজধানীর কারওয়ান বাজার, কচুক্ষেত ও মিরপুরসহ বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ আগের তুলনায় অনেকটাই কম। ফলে চড়া দামে পণ্য কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন সীমিত আয়ের মানুষ।
বাজারে সবজির চিত্র
বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেগুনের বাজারে এখন আগুনের তাপ। মানভেদে চিকন বেগুন কেজিপ্রতি ৮০ থেকে ১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে সবচেয়ে বেশি দাম বেড়েছে বড় গোল বেগুনের; প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকায়। একইভাবে কাঁকরোলের কেজিও ১০০ থেকে ১২০ টাকা ছুঁয়েছে।
অন্যান্য সবজির মধ্যে প্রতি কেজি টমেটো ৬০-৭০ টাকা, বরবটি ৬০-৮০ টাকা, পটোল ৬০-৭০ টাকা এবং ঝিঙে ৬০-৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। কিছুটা স্বস্তিতে থাকা ঢ্যাঁড়সও এখন ৫০-৬০ টাকা কেজি। এ ছাড়া কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ১২০ টাকা, করলা ৬০-৮০ টাকা এবং লাউ আকারভেদে প্রতিটি ৬০-৮০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। সবজি হিসেবে জনপ্রিয় কাঁচকলার হালি (৪টি) এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকায়।
মুরগির বাজারেও অস্বস্তি
সবজির পাশাপাশি মুরগির দামও ক্রেতাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে। প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালী মুরগি ৩৩০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, মাছ-মাংসের দাম আগে থেকেই চড়া ছিল, এখন সবজির এই অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
ক্রেতা ও বিক্রেতাদের ভাষ্য
বৃষ্টির পানি আর কাদা মাড়িয়ে বাজারে আসা এক ক্রেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এক কেজি বেগুন কিনতেই যদি ১৪০-১৫০ টাকা চলে যায়, তবে অন্য সদাই করব কীভাবে? কিছুদিন পরপরই যদি এভাবে দাম বাড়ে, তবে সাধারণ মানুষ কী খেয়ে বাঁচবে?”
অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, বৈরী আবহাওয়ার কারণে আড়তগুলোতে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। ট্রাক সময়মতো পৌঁছাতে পারছে না এবং বৃষ্টির কারণে অনেক ক্ষেত নষ্ট হচ্ছে। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত দাম কমার তেমন সম্ভাবনা নেই বলে তারা মনে করছেন।
এস কে চন্দন 




















