শিরোনাম :
রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্বিঘ্নে হবে, আইনি বাধা নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল ক্যানিং প্রযুক্তিতে অবহেলিত কুচিয়া মাছে বিলিয়ন ডলার রপ্তানির স্বপ্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিট খারিজের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন রাজধানীতে রিকশা চলবে এখন থেকে আট জোনে ভাগ হয়ে খেলাপির শীর্ষে জনতা, সরকারি ব্যাংকে টাকা রাখা মানেই কি নিরাপদ? অর্থবছরের শুরুতেই বাড়তি প্রবাসী আয়, ১৭ দিনে রেমিট্যান্স ১৮৮ কোটি ডলার কেন অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করলো সরকার, সুবিধা কী ? স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে সিইসির সঙ্গে আইজিপির জরুরি বৈঠক মহাসড়কে কোনো ধরনের থ্রি হুইলার চলতে দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয় বাড়ল ৯৯৯ কোটি টাকা

রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়া মানেই কি কিডনি বিকল হচ্ছে?

রক্তপরীক্ষার রিপোর্টে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা একটু বেশি এলেই অনেকে ধরে নেন, তাঁর কিডনিতে গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকরা অবশ্য বলছেন, বিষয়টি সবসময় এত সরল নয়। রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলে শরীরে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে—ক্লান্তি বাড়া, হাত-পায়ের পাতা কিংবা মুখ ফুলে যাওয়া, খাবারে অনীহা তৈরি হওয়া এবং প্রস্রাবের রং বদলে যাওয়া। তবে এসব উপসর্গ থাকলেই যে কিডনির অসুখ ধরা পড়েছে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। বহু ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে রক্তে এই উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
আসলে ক্রিয়েটিনিন হলো শরীরের পেশি স্বাভাবিকভাবে কাজ করার সময় তৈরি হওয়া একধরনের বর্জ্য উপাদান। যাঁর শরীরে পেশির পরিমাণ যত বেশি, তাঁর রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রাও তত বেশি থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এ কারণেই সাধারণত নারীদের তুলনায় পুরুষদের শরীরে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেশি দেখা যায়। কিডনি এই উপাদানকে রক্ত থেকে ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীরের বাইরে বের করে দেয়। কিন্তু কিডনি একেবারে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে কাজ করলেও রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, যাঁরা নিয়মিত বডিবিল্ডিং বা ভারী শরীরচর্চা করেন, তাঁদের পেশির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রাও বেশি থাকে। দ্বিতীয়ত, যাঁরা ক্রিয়েটিনিনযুক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তৃতীয়ত, শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন হলেও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। চতুর্থত, ঘন ঘন লাল মাংস খাওয়ার অভ্যাসও এই মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। আর পঞ্চমত, হঠাৎ করে অতিরিক্ত মাত্রায় শরীরচর্চা শুরু করলেও রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যেতে দেখা যায়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও কিডনি-সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে (সিকেডি) আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতি বছর ক্রমশ বাড়ছে, যা একে ধীরে ধীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত করছে। এই প্রেক্ষাপটে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, নিয়মিত রক্তপরীক্ষা করানো এবং ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা সামান্য বাড়লেই আতঙ্কিত না হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। কারণ, প্রকৃত কিডনি সমস্যা নির্ণয়ের জন্য শুধু ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নয়, বরং সংশ্লিষ্ট আরও কিছু পরীক্ষা ও উপসর্গ একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সবমিলিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো—একবারের রিপোর্টে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা একটু বেশি দেখলেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না হয়ে জীবনযাপনের অভ্যাস পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়া মানেই কি কিডনি বিকল হচ্ছে?

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

চট্টগ্রাম বন্দরের রাজস্ব আয় বাড়ল ৯৯৯ কোটি টাকা

১৮ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যাওয়া মানেই কি কিডনি বিকল হচ্ছে?

আপডেট সময় ০২:৪০:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

রক্তপরীক্ষার রিপোর্টে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা একটু বেশি এলেই অনেকে ধরে নেন, তাঁর কিডনিতে গুরুতর সমস্যা দেখা দিয়েছে। চিকিৎসকরা অবশ্য বলছেন, বিষয়টি সবসময় এত সরল নয়। রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে গেলে শরীরে বিভিন্ন লক্ষণ দেখা দিতে পারে—ক্লান্তি বাড়া, হাত-পায়ের পাতা কিংবা মুখ ফুলে যাওয়া, খাবারে অনীহা তৈরি হওয়া এবং প্রস্রাবের রং বদলে যাওয়া। তবে এসব উপসর্গ থাকলেই যে কিডনির অসুখ ধরা পড়েছে, এমনটা ভাবার কারণ নেই। বহু ক্ষেত্রেই সম্পূর্ণ ভিন্ন কারণে রক্তে এই উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি পায়।
আসলে ক্রিয়েটিনিন হলো শরীরের পেশি স্বাভাবিকভাবে কাজ করার সময় তৈরি হওয়া একধরনের বর্জ্য উপাদান। যাঁর শরীরে পেশির পরিমাণ যত বেশি, তাঁর রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রাও তত বেশি থাকার সম্ভাবনা তৈরি হয়। এ কারণেই সাধারণত নারীদের তুলনায় পুরুষদের শরীরে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেশি দেখা যায়। কিডনি এই উপাদানকে রক্ত থেকে ছেঁকে প্রস্রাবের মাধ্যমে শরীরের বাইরে বের করে দেয়। কিন্তু কিডনি একেবারে সুস্থ ও স্বাভাবিকভাবে কাজ করলেও রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা বেড়ে যাওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এর পেছনে কয়েকটি সাধারণ কারণ থাকতে পারে। প্রথমত, যাঁরা নিয়মিত বডিবিল্ডিং বা ভারী শরীরচর্চা করেন, তাঁদের পেশির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হওয়ায় রক্তে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রাও বেশি থাকে। দ্বিতীয়ত, যাঁরা ক্রিয়েটিনিনযুক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও একই সমস্যা দেখা দিতে পারে। তৃতীয়ত, শরীরে পানিশূন্যতা বা ডিহাইড্রেশন হলেও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা সাময়িকভাবে বেড়ে যেতে পারে। চতুর্থত, ঘন ঘন লাল মাংস খাওয়ার অভ্যাসও এই মাত্রা বাড়িয়ে দিতে পারে। আর পঞ্চমত, হঠাৎ করে অতিরিক্ত মাত্রায় শরীরচর্চা শুরু করলেও রক্তে ক্রিয়েটিনিন বেড়ে যেতে দেখা যায়।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেও কিডনি-সংক্রান্ত সচেতনতা বাড়ানোর তাগিদ দিচ্ছেন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি রোগে (সিকেডি) আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা প্রতি বছর ক্রমশ বাড়ছে, যা একে ধীরে ধীরে একটি গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য সমস্যায় পরিণত করছে। এই প্রেক্ষাপটে চিকিৎসকরা পরামর্শ দিচ্ছেন, নিয়মিত রক্তপরীক্ষা করানো এবং ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা সামান্য বাড়লেই আতঙ্কিত না হয়ে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। কারণ, প্রকৃত কিডনি সমস্যা নির্ণয়ের জন্য শুধু ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা নয়, বরং সংশ্লিষ্ট আরও কিছু পরীক্ষা ও উপসর্গ একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
সবমিলিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ হলো—একবারের রিপোর্টে ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা একটু বেশি দেখলেই দুশ্চিন্তাগ্রস্ত না হয়ে জীবনযাপনের অভ্যাস পর্যালোচনা করা এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পুনরায় পরীক্ষা করানোই সবচেয়ে নিরাপদ পথ।

Share this news as a Photo Card