শিরোনাম :
ত্রাণকর্মী হত্যা ‘অগ্রহণযোগ্য’, সতর্ক করল জাতিসংঘ আইসিইউ নয়, টিকাতেই হাম ঠেকানো সম্ভব: প্রতিমন্ত্রী ৫ দিনেই আয় ১৪৪ কোটি: ‘আওয়ারাপান ২ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্বিঘ্নে হবে, আইনি বাধা নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল ক্যানিং প্রযুক্তিতে অবহেলিত কুচিয়া মাছে বিলিয়ন ডলার রপ্তানির স্বপ্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের রিট খারিজের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন রাজধানীতে রিকশা চলবে এখন থেকে আট জোনে ভাগ হয়ে খেলাপির শীর্ষে জনতা, সরকারি ব্যাংকে টাকা রাখা মানেই কি নিরাপদ? অর্থবছরের শুরুতেই বাড়তি প্রবাসী আয়, ১৭ দিনে রেমিট্যান্স ১৮৮ কোটি ডলার কেন অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করলো সরকার, সুবিধা কী ?

আইসিইউ নয়, টিকাতেই হাম ঠেকানো সম্ভব: প্রতিমন্ত্রী

দেশজুড়ে হামের প্রকোপ ঠেকাতে আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর নয়, বরং সময়মতো কার্যকর টিকাদানকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘হামের বিস্তার ও জিনগত নজরদারি’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। হাসপাতালটির রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগ এবং আইসিডিডিআর,বি-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানে গবেষণা ফলাফল তুলে ধরা হয়।

আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ প্রতিমন্ত্রী মুহিত বলেন, ২০২৪ সালের টিকাদান কর্মসূচিতে সময়োচিত উদ্যোগের ঘাটতি ও নীতিগত শৈথিল্যের কারণে যে রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতার ফাঁক তৈরি হয়েছিল, তারই পরিণতি আজকের এই সংক্রমণ পরিস্থিতি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, টিকাদানের গতি দ্বিগুণ করা হলেও প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে, তবে ততদিন সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও মাঠপর্যায়ের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

শিশু স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে আগামী অক্টোবরের মধ্যেই দেশের পাঁচটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে নবনির্মিত পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল চালু হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রতিটি ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে, যেখানে পেডিয়াট্রিকস, মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। জনবল সংকট মেটাতে দ্রুত এক লাখ স্বাস্থ্য মাঠকর্মী, পাঁচ হাজার চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বারডেম বা হলি ফ্যামিলির মতো স্বায়ত্তশাসিত অথচ সরকার-সমর্থিত ব্যবস্থাপনা মডেল স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর হতে পারে, আর ঢাকার বাইরে বিশেষায়িত সেবার অভাবেই রোগীদের রাজধানীমুখী হতে হচ্ছে—এই কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে বিভাগীয় শহরগুলোতেও একই মানের সেবা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম ও আইসিডিডিআর,বি-র প্রধান বিজ্ঞানী ড. মুস্তাফিজুর রহমান। গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০২৬ সালের এই সংক্রমণের মূল কারণ ভাইরাসের নতুন কোনো রূপ নয়, বরং প্রচলিত তীব্র সংক্রামক ‘বি৩’ ধরনের বিস্তার এবং টিকা ও মাতৃদুগ্ধের অ্যান্টিবডির ঘাটতি—বিশেষত ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী অপুষ্ট শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

ত্রাণকর্মী হত্যা ‘অগ্রহণযোগ্য’, সতর্ক করল জাতিসংঘ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

কেন অর্থবছরের সময়কাল পরিবর্তন করলো সরকার, সুবিধা কী ?

১৮ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

আইসিইউ নয়, টিকাতেই হাম ঠেকানো সম্ভব: প্রতিমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৫:২৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৯ অগাস্ট ২০২৬

দেশজুড়ে হামের প্রকোপ ঠেকাতে আইসিইউ বা ভেন্টিলেটর নয়, বরং সময়মতো কার্যকর টিকাদানকেই একমাত্র সমাধান হিসেবে চিহ্নিত করেছেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত। বুধবার সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে আয়োজিত ‘হামের বিস্তার ও জিনগত নজরদারি’ শীর্ষক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। হাসপাতালটির রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগ এবং আইসিডিডিআর,বি-এর যৌথ উদ্যোগে অনুষ্ঠানে গবেষণা ফলাফল তুলে ধরা হয়।

আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ প্রতিমন্ত্রী মুহিত বলেন, ২০২৪ সালের টিকাদান কর্মসূচিতে সময়োচিত উদ্যোগের ঘাটতি ও নীতিগত শৈথিল্যের কারণে যে রোগ প্রতিরোধ সক্ষমতার ফাঁক তৈরি হয়েছিল, তারই পরিণতি আজকের এই সংক্রমণ পরিস্থিতি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, টিকাদানের গতি দ্বিগুণ করা হলেও প্রাদুর্ভাব পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসতে আরও দুই থেকে তিন মাস সময় লাগবে, তবে ততদিন সর্বোচ্চ চিকিৎসা ও মাঠপর্যায়ের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

শিশু স্বাস্থ্যসেবা বিকেন্দ্রীকরণের অংশ হিসেবে আগামী অক্টোবরের মধ্যেই দেশের পাঁচটি বিভাগীয় ও জেলা শহরে নবনির্মিত পূর্ণাঙ্গ শিশু হাসপাতাল চালু হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। প্রতিটি ৫০ শয্যার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করা হচ্ছে, যেখানে পেডিয়াট্রিকস, মেডিসিন, সার্জারি ও গাইনিকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। জনবল সংকট মেটাতে দ্রুত এক লাখ স্বাস্থ্য মাঠকর্মী, পাঁচ হাজার চিকিৎসক এবং প্রয়োজনীয় নার্স ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট নিয়োগের প্রক্রিয়াও এগিয়ে চলছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বারডেম বা হলি ফ্যামিলির মতো স্বায়ত্তশাসিত অথচ সরকার-সমর্থিত ব্যবস্থাপনা মডেল স্বাস্থ্য খাতে কার্যকর হতে পারে, আর ঢাকার বাইরে বিশেষায়িত সেবার অভাবেই রোগীদের রাজধানীমুখী হতে হচ্ছে—এই কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করতে বিভাগীয় শহরগুলোতেও একই মানের সেবা গড়ে তোলার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

অনুষ্ঠানে গবেষণার ফলাফল উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতালের অধ্যাপক ডা. মির্জা মো. জিয়াউল ইসলাম ও আইসিডিডিআর,বি-র প্রধান বিজ্ঞানী ড. মুস্তাফিজুর রহমান। গবেষণায় উঠে এসেছে, ২০২৬ সালের এই সংক্রমণের মূল কারণ ভাইরাসের নতুন কোনো রূপ নয়, বরং প্রচলিত তীব্র সংক্রামক ‘বি৩’ ধরনের বিস্তার এবং টিকা ও মাতৃদুগ্ধের অ্যান্টিবডির ঘাটতি—বিশেষত ৬ থেকে ৯ মাস বয়সী অপুষ্ট শিশুরাই সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে।

Share this news as a Photo Card