রাজশাহীতে যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় দুজন গ্রেপ্তার

রাজশাহী মহানগরীতে চুরির অপবাদে এক যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার ( ১১মে) সন্ধ্যায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একজনকে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির থানা থেকেই জামিন দিয়েছেন। অন্যজনকে মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন- মহানগীর বাজে কাজলা এলাকার মুহিন (১৮) এবং ধরমপুর দক্ষিণপাড়ার আলী হাসান মো. মুজাহিদ (২২)। দুজনেই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। পলাতক অন্য আসামিরা হলেন- শামীম (৫৫), হৃদয় (২২) ও আশিক (২২)। মামলায় অজ্ঞাত তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার মো. তুষারের (২২) বাবা নাজির আলী সোমবার বাদী হয়ে মতিহার থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পরে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, আলী হাসান মো. মুজাহিদ এজাহারভুক্ত আসামি হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। তার এসএসসি পরীক্ষা চলছে। এই বিবেচনায় থানা থেকেই ওসি তাকে জামিন দিয়েছেন। অন্যজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মুজাহিদকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিতে সিআরপিসির ১৭৩ (ক) ধারামতে আদালতে একটি প্রতিবেদনও দেওয়া হয়েছে। মামলার পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

গত রোববার (১০ মে) কাজলা বিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা তুষারকে গাছের সঙ্গে বেধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। এই ঘটনার ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়। মারধরের সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিবারের সদস্যরা তুষারকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সোমবার তিনি ছাড়পত্র পান। চুরির অপবাদ দিয়ে তুষারকে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ক্যামেরা প্রস্তুত করে রাজশাহীতে যুবককে গাছে বেঁধে লাঠিপেটাক্যামেরা প্রস্তুত করে রাজশাহীতে যুবককে গাছে বেঁধে লাঠিপেটা

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৯ মে রাত ৯টার দিকে আসামি হৃদয়সহ তিন-চারজন ব্যক্তি ভুক্তভোগী তুষারের বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজ করেন। তখন তুষারের বাবা নাজির আলী জানান, তুষার বাড়িতে নেই। তিনি তুষারকে খোঁজার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা জানান, তাকে পেলেই কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের সুপারিশ না করার জন্যও বলে যান তারা।

পরদিন ১০ মে সকাল ১০টার দিকে তুষার অভিযুক্ত হৃদয়ের বাড়িতে গিয়ে তাকে খোঁজার কারণ জানতে চান। এ সময় তাকে গাছের সঙ্গে বেধে নির্যাতন করা হয়। এর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হলে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দেয়। অভিযুক্তদের আটকে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

অবশেষে খুলে গেছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

আইসিইউতে লাইফ সাপোর্টে থাকা আসামির হাতে হাতকড়া

২৯ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

রাজশাহীতে যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় দুজন গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৪:৫১:০১ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

রাজশাহী মহানগরীতে চুরির অপবাদে এক যুবককে গাছে বেঁধে নির্যাতনের ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সোমবার ( ১১মে) সন্ধ্যায় তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। পরে একজনকে মতিহার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ গোলাম কবির থানা থেকেই জামিন দিয়েছেন। অন্যজনকে মঙ্গলবার (১২ মে) দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

গ্রেপ্তার দুজন হলেন- মহানগীর বাজে কাজলা এলাকার মুহিন (১৮) এবং ধরমপুর দক্ষিণপাড়ার আলী হাসান মো. মুজাহিদ (২২)। দুজনেই মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। পলাতক অন্য আসামিরা হলেন- শামীম (৫৫), হৃদয় (২২) ও আশিক (২২)। মামলায় অজ্ঞাত তিন-চারজনকে আসামি করা হয়েছে। নির্যাতনের শিকার মো. তুষারের (২২) বাবা নাজির আলী সোমবার বাদী হয়ে মতিহার থানায় মামলাটি দায়ের করেন। পরে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানান, আলী হাসান মো. মুজাহিদ এজাহারভুক্ত আসামি হলেও ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়। তার এসএসসি পরীক্ষা চলছে। এই বিবেচনায় থানা থেকেই ওসি তাকে জামিন দিয়েছেন। অন্যজনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। মুজাহিদকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি দিতে সিআরপিসির ১৭৩ (ক) ধারামতে আদালতে একটি প্রতিবেদনও দেওয়া হয়েছে। মামলার পলাতক অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

গত রোববার (১০ মে) কাজলা বিলপাড়া এলাকার বাসিন্দা তুষারকে গাছের সঙ্গে বেধে লাঠি দিয়ে বেধড়ক পেটানো হয়। এই ঘটনার ভিডিও করে সামাজিক মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়। মারধরের সময় স্থানীয়দের সহযোগিতায় পরিবারের সদস্যরা তুষারকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করেন। সোমবার তিনি ছাড়পত্র পান। চুরির অপবাদ দিয়ে তুষারকে নির্যাতন করা হয়েছিল বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

ক্যামেরা প্রস্তুত করে রাজশাহীতে যুবককে গাছে বেঁধে লাঠিপেটাক্যামেরা প্রস্তুত করে রাজশাহীতে যুবককে গাছে বেঁধে লাঠিপেটা

মামলার এজাহারে বলা হয়, গত ৯ মে রাত ৯টার দিকে আসামি হৃদয়সহ তিন-চারজন ব্যক্তি ভুক্তভোগী তুষারের বাড়িতে গিয়ে তার খোঁজ করেন। তখন তুষারের বাবা নাজির আলী জানান, তুষার বাড়িতে নেই। তিনি তুষারকে খোঁজার কারণ জানতে চাইলে অভিযুক্তরা জানান, তাকে পেলেই কারণ জানা যাবে। এ বিষয়ে কোনো ধরনের সুপারিশ না করার জন্যও বলে যান তারা।

পরদিন ১০ মে সকাল ১০টার দিকে তুষার অভিযুক্ত হৃদয়ের বাড়িতে গিয়ে তাকে খোঁজার কারণ জানতে চান। এ সময় তাকে গাছের সঙ্গে বেধে নির্যাতন করা হয়। এর ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া হলে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দেয়। অভিযুক্তদের আটকে তৎপরতা শুরু করে পুলিশ।

Share this news as a Photo Card