মমতার দলবদল! দিল্লিতে কংগ্রেসের ‘জরুরি তলব’: মাত্র ১২ ঘণ্টার নোটিশে বৈঠকে সব রাজ্যের শীর্ষনেতারা

কলকাতা ও নয়াদিল্লি: একপ্রকার নজিরবিহীনভাবে মাত্র ১২ ঘণ্টার নোটিশে দেশের সব রাজ্যের প্রদেশ সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের দিল্লিতে জরুরি তলব করেছে জাতীয় কংগ্রেসের হাইকমান্ড। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির ইন্দিরা ভবনে এই হাইভোল্টেজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কংগ্রেসের অন্দরে সাধারণত বড় কোনো জাতীয় বিপর্যয় বা সুদূরপ্রসারী সাংবিধানিক পদক্ষেপের আগে এই ধরনের বৈঠক ডাকা হয়। তবে এত কম সময়ের নোটিশে এমন তড়িঘড়ি বৈঠক ডাকার ঘটনা কংগ্রেসে বেশ বিরল।

​স্বাভাবিকভাবেই হঠাৎ ডাকা এই বৈঠককে কেন্দ্র করে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে— ঠিক কী এমন এজেন্ডা রয়েছে, যার জন্য রাতারাতি দেশের সব প্রান্তের শীর্ষনেতাদের রাজধানীতে ছুটে আসতে হলো?

​নেপথ্যে কি মমতার কংগ্রেসে একীভূত হওয়ার গুঞ্জন?

​কংগ্রেসের এই আকস্মিক বৈঠকের পেছনে সবচেয়ে বড় যে কারণটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, তা হলো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দল তৃণমূল কংগ্রেসের মূল কংগ্রেসে ফিরে আসার সম্ভাবনা।

​গতকাল বুধবার থেকেই দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে একটি গুঞ্জন তীব্র হয়েছে— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার সমর্থকদের কংগ্রেসে যোগ দেয়ার ব্যাপারে পর্দার আড়ালে বড় কোনো সমঝোতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বৈঠক হয়। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, সেখানে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলকে একীভূত (Merge) করার শর্তে মমতাকে পুনর্বাসনের একটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সংবেদনশীল এবং ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করার আগে দেশের সব রাজ্যের কংগ্রেস নেতৃত্বের মতামত নিতে অথবা হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতেই এই জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম বা ত্রিপুরার মতো রাজ্যে— যেখানে তৃণমূল ও কংগ্রেসের স্থানীয় দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের, সেখানে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

​কলকাতা থেকে দিল্লি উড়াল দিচ্ছেন শুভঙ্কর সরকার

​এই জরুরি তলবের প্রভাব কতটা গভীর, তা স্পষ্ট হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের তৎপরতায়। বুধবার কলকাতায় লোকভবন ঘেরাও কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। আন্দোলন চলাকালীন পুলিশ তাকে আটকও করে।

​তবে লালবাজার বা থানা থেকে ছাড়া পাওয়ার পরপরই সমস্ত কর্মসূচি কাটছাঁট করে দিল্লির বিমান ধরছেন তিনি। আকস্মিক এই বৈঠকের এজেন্ডা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে শুভঙ্কর সরকার সংবাদমাধ্যমকে জানান, হাইকমান্ডের জরুরি নির্দেশ আসায় তিনি দিল্লি যাচ্ছেন। তবে বৈঠকের সুনির্দিষ্ট আলোচ্য বিষয় নিয়ে এখনই মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

​রাজনৈতিক সমীকরণের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

​লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে গত কয়েক মাস ধরেই দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং বিজেপি-বিরোধী শক্তিকে এক সুতোয় বাঁধতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। যদি সত্যিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসে ফেরার বিষয়টি এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা হয়, তবে তা ভারতীয় রাজনীতিতে একটি মস্ত বড় ঝাঁকুনি দিতে চলেছে।

​তৃণমূল যদি শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের ছাতার তলায় চলে আসে, তবে জাতীয় স্তরে কংগ্রেসের শক্তি যেমন বহুগুণ বাড়বে, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতেও আমূল পরিবর্তন আসবে। এখন সবার নজর বৃহস্পতিবারের ইন্দিরা ভবনের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের দিকে। বৈঠক শেষে কংগ্রেস হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে কী বার্তা আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

রাইসা-লাবণ চ্যাম্পিয়ন, ১০ স্বল্পদৈর্ঘ্যে নতুন শিল্পীদের অভিষেক

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

খেলাপির শীর্ষে জনতা, সরকারি ব্যাংকে টাকা রাখা মানেই কি নিরাপদ?

১৯ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

মমতার দলবদল! দিল্লিতে কংগ্রেসের ‘জরুরি তলব’: মাত্র ১২ ঘণ্টার নোটিশে বৈঠকে সব রাজ্যের শীর্ষনেতারা

আপডেট সময় ০৫:৫৭:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬

কলকাতা ও নয়াদিল্লি: একপ্রকার নজিরবিহীনভাবে মাত্র ১২ ঘণ্টার নোটিশে দেশের সব রাজ্যের প্রদেশ সভাপতি এবং সাধারণ সম্পাদকদের দিল্লিতে জরুরি তলব করেছে জাতীয় কংগ্রেসের হাইকমান্ড। বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লির ইন্দিরা ভবনে এই হাইভোল্টেজ বৈঠক অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। কংগ্রেসের অন্দরে সাধারণত বড় কোনো জাতীয় বিপর্যয় বা সুদূরপ্রসারী সাংবিধানিক পদক্ষেপের আগে এই ধরনের বৈঠক ডাকা হয়। তবে এত কম সময়ের নোটিশে এমন তড়িঘড়ি বৈঠক ডাকার ঘটনা কংগ্রেসে বেশ বিরল।

​স্বাভাবিকভাবেই হঠাৎ ডাকা এই বৈঠককে কেন্দ্র করে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে তৈরি হয়েছে তীব্র জল্পনা। প্রশ্ন উঠছে— ঠিক কী এমন এজেন্ডা রয়েছে, যার জন্য রাতারাতি দেশের সব প্রান্তের শীর্ষনেতাদের রাজধানীতে ছুটে আসতে হলো?

​নেপথ্যে কি মমতার কংগ্রেসে একীভূত হওয়ার গুঞ্জন?

​কংগ্রেসের এই আকস্মিক বৈঠকের পেছনে সবচেয়ে বড় যে কারণটি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চলছে, তা হলো পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তার দল তৃণমূল কংগ্রেসের মূল কংগ্রেসে ফিরে আসার সম্ভাবনা।

​গতকাল বুধবার থেকেই দিল্লির রাজনৈতিক অলিন্দে একটি গুঞ্জন তীব্র হয়েছে— মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তার সমর্থকদের কংগ্রেসে যোগ দেয়ার ব্যাপারে পর্দার আড়ালে বড় কোনো সমঝোতা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দিল্লিতে সোনিয়া গান্ধীর সঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের একটি বৈঠক হয়। সূত্র মারফত জানা যাচ্ছে, সেখানে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলকে একীভূত (Merge) করার শর্তে মমতাকে পুনর্বাসনের একটি প্রস্তাব দেয়া হয়েছে।

​রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, এই সংবেদনশীল এবং ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তটি চূড়ান্ত করার আগে দেশের সব রাজ্যের কংগ্রেস নেতৃত্বের মতামত নিতে অথবা হাইকমান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিতেই এই জরুরি বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গ, আসাম বা ত্রিপুরার মতো রাজ্যে— যেখানে তৃণমূল ও কংগ্রেসের স্থানীয় দ্বন্দ্ব দীর্ঘদিনের, সেখানে এই সিদ্ধান্তের প্রভাব কী হতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হওয়া অত্যন্ত জরুরি।

​কলকাতা থেকে দিল্লি উড়াল দিচ্ছেন শুভঙ্কর সরকার

​এই জরুরি তলবের প্রভাব কতটা গভীর, তা স্পষ্ট হয়েছে পশ্চিমবঙ্গ প্রদেশ কংগ্রেসের তৎপরতায়। বুধবার কলকাতায় লোকভবন ঘেরাও কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিচ্ছিলেন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। আন্দোলন চলাকালীন পুলিশ তাকে আটকও করে।

​তবে লালবাজার বা থানা থেকে ছাড়া পাওয়ার পরপরই সমস্ত কর্মসূচি কাটছাঁট করে দিল্লির বিমান ধরছেন তিনি। আকস্মিক এই বৈঠকের এজেন্ডা নিয়ে জানতে চাওয়া হলে শুভঙ্কর সরকার সংবাদমাধ্যমকে জানান, হাইকমান্ডের জরুরি নির্দেশ আসায় তিনি দিল্লি যাচ্ছেন। তবে বৈঠকের সুনির্দিষ্ট আলোচ্য বিষয় নিয়ে এখনই মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

​রাজনৈতিক সমীকরণের বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত

​লোকসভায় বিরোধীদলীয় নেতা রাহুল গান্ধী এবং কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খার্গে গত কয়েক মাস ধরেই দলের সাংগঠনিক কাঠামো শক্তিশালী করতে এবং বিজেপি-বিরোধী শক্তিকে এক সুতোয় বাঁধতে সক্রিয় ভূমিকা রাখছেন। যদি সত্যিই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কংগ্রেসে ফেরার বিষয়টি এই বৈঠকের মূল এজেন্ডা হয়, তবে তা ভারতীয় রাজনীতিতে একটি মস্ত বড় ঝাঁকুনি দিতে চলেছে।

​তৃণমূল যদি শেষ পর্যন্ত কংগ্রেসের ছাতার তলায় চলে আসে, তবে জাতীয় স্তরে কংগ্রেসের শক্তি যেমন বহুগুণ বাড়বে, তেমনই রাজ্য রাজনীতিতেও আমূল পরিবর্তন আসবে। এখন সবার নজর বৃহস্পতিবারের ইন্দিরা ভবনের এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকের দিকে। বৈঠক শেষে কংগ্রেস হাইকমান্ডের পক্ষ থেকে কী বার্তা আসে, তার ওপরই নির্ভর করছে আগামী দিনের রাজনৈতিক সমীকরণ।

Share this news as a Photo Card