শিরোনাম :
আগস্টে শুরু হচ্ছে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চলাচল, ঘোষণা রেলমন্ত্রীর পেলের ব্রাজিলের বিশ্বরেকর্ড ভাঙল ডাচরা, সুইডেনকে ৫-১ গোলে ওড়াল নেদারল্যান্ডস আওয়ামী লীগের মূল টার্গেট কেন ড. ইউনূস? যাহের আলভীর কারাদণ্ড: মৃত্যুর আগে বন্ধুদের কী বলেছিলেন স্ত্রী ইকরা? মেসি কি আর্জেন্টিনার জার্সি ছেড়ে ব্রাজিলে খেলবেন? লুলার মন্তব্যে শোরগোল বিশ্বকাপ ২০২৬: প্রথম রাউন্ড শেষে নকআউটের দৌড়ে কারা এগিয়ে? রাত পোহালেই আলজেরিয়া বধের মিশন: বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার উদ্বোধনী ম্যাচের ইতিহাস কী বলছে? ঢাকার ভেতর আর থাকবে না দূরপাল্লার বাস: চার টার্মিনাল সরানোর মাস্টারপ্ল্যান, কোনটি যাচ্ছে কোথায়? মিরপুরে শেষ বলের নাটকীয়তা: বাংলাদেশকে ১ উইকেটে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সান্ত্বনার জয় দুবাইয়ে গ্রেপ্তার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ
অকপট স্বীকারোক্তি দানিলোর

‘ভাগ্যিস, আরও গোল হজম করিনি’—ড্র করে স্বস্তি ব্রাজিলের

স্পোর্টস ডেস্ক

ঢাকা, ১৪ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের ম্যাচ মানেই বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের বাড়তি উন্মাদনা আর প্রত্যাশার পারদ। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেই প্রত্যাশার প্রতিচ্ছবি মাঠে দেখাতে পারল না সেলেসাওরা। মরক্কোর মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

ম্যাচটিতে ব্রাজিল হারেনি ঠিকই, তবে এই ড্রয়ের পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে খোদ ড্রেসিংরুমের ভেতরেই তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে এসে দলের প্রতিনিধি হয়ে সেই হতাশা ও ক্ষোভের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন ২৫ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার দানিলো। তাঁর মতে, প্রথমার্ধে ব্রাজিল এতটাই অগোছালো ও দিশেহারা ফুটবল খেলেছে যে, ভাগ্য ভালো থাকায় বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে দল।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই কঠিন প্রথমার্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিলকে চেপে ধরে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো। ম্যাচের ২১ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে সেলেসাওরা। তবে গোল খাওয়ার ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করে তারা। ১১ মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ৩২ মিনিটে দলের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তাঁর দুর্দান্ত এক গোলে ম্যাচে সমতা টানে ব্রাজিল। ১-১ স্কোরে প্রথমার্ধ শেষ হলেও মাঠের নিয়ন্ত্রণ কিন্তু ব্রাজিলের হাতে ছিল না।

ম্যাচের ৮০তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা বোতাফোগোর মিডফিল্ডার দানিলো প্রথম ৪৫ মিনিটের পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

“প্রথমার্ধে আমরা খুবই বাজে খেলেছি। মাঠে আমাদের অবস্থান, টেকনিক্যাল সিদ্ধান্ত কিংবা ট্যাকটিক্স—কোনো দিক থেকেই আমরা আমাদের চেনা ছন্দে ছিলাম না।”

— ম্যাচ শেষে দানিলোর ক্ষোভ প্রকাশ।

স্নায়ুচাপ ও অহেতুক উদ্বেগ

দানিলোর মতে, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ হওয়ার কারণে দলের তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মধ্যে এক ধরনের মানসিক চাপ কাজ করছিল। আর এই অতিরিক্ত স্নায়ুচাপের কারণেই প্রথমার্ধে মরক্কোর একের পর এক আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে ডিফেন্ডারদের।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা খুবই স্নায়ুচাপে ছিলাম, এক ধরনের উদ্বেগ কাজ করছিল আমাদের মধ্যে। ফলে নিজেদের ভুলের কারণেই বারবার রক্ষণভাগ ভেঙে পড়ছিল এবং বিপদে পড়ছিলাম আমরা। সত্যি বলতে, ভাগ্যিস প্রথমার্ধে আমরা আরও বেশি গোল হজম করে পিছিয়ে পড়িনি। তা না হলে ম্যাচ থেকে ওখানেই ছিটকে যেতে হতো।”

দ্বিতীয়র্ধের কৌশল বদল ও ঘুরে দাঁড়ানো

প্রথমার্ধের ভুলগুলো বিরতির সময় ড্রেসিংরুমে বসে শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করেন কোচ। দ্বিতীয় অর্ধের শুরুতেই কৌশলগত কিছু পরিবর্তন আনা হয় দলে, যার মধ্যে অন্যতম ছিল দানিলোকে মাঠে নামানো।

দ্বিতীয়ার্ধের এই পরিবর্তনগুলো মাঠে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। মরক্কোকে আর আগের মতো চড়াও হতে দেয়নি ব্রাজিলের মাঝমাঠ। এই অংশটি নিয়ে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করে দানিলো বলেন, “ম্যাচের পরের অংশে আমরা বল নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছি এবং গোল করার মতো বেশ কিছু ভালো সুযোগও তৈরি করেছি। ম্যাচ জিততে না পারলেও এই ঘুরে দাঁড়ানোটাই টুর্নামেন্টের পরের ম্যাচগুলোর জন্য আমাদের ড্রেসিংরুমে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।”

‘এটি স্বপ্নের মতো শুরু ছিল না’— কাসেমিরো

দলের অন্যতম অভিজ্ঞ তারকা এবং মাঝমাঠের চালিকাশক্তি কাসেমিরোও দানিলোর সুরেই কথা বলেছেন। তাঁর মতে, প্রথম ম্যাচ থেকেই পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের, কিন্তু মাঠের বাস্তবতা ছিল ভিন্ন।

খেলা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাসেমিরো বলেন, “আমরা শুরু থেকেই জানতাম ম্যাচটি সহজ হবে না। মরক্কো অত্যন্ত মানসম্পন্ন এবং শক্তিমত্তা সম্পন্ন একটি দল। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ম্যাচের শুরু থেকে মরক্কোর ওপর কোনো বাড়তি চাপ ছিল না, তারা মুক্ত মনে খেলেছে। বিপরীতে আমাদের মধ্যে এক ধরনের জয় পাওয়ার ব্যাকুলতা বা উদ্বেগ কাজ করছিল। আমরা সব সময় জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে চাই, কিন্তু এই ম্যাচটা ছিল একটি দুর্দান্ত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। তাই স্বীকার করতেই হবে, এটি আমাদের জন্য কোনো স্বপ্নের মতো শুরু ছিল না।”

তবে এই ড্রয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্রাজিল দল দ্রুতই নিজেদের গুছিয়ে নেবে এবং পরের ম্যাচে চেনা ছন্দে ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার।

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

আগস্টে শুরু হচ্ছে ঢাকা-পাবনা সরাসরি ট্রেন চলাচল, ঘোষণা রেলমন্ত্রীর

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

অকপট স্বীকারোক্তি দানিলোর

‘ভাগ্যিস, আরও গোল হজম করিনি’—ড্র করে স্বস্তি ব্রাজিলের

আপডেট সময় ১২:৪৪:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

স্পোর্টস ডেস্ক

ঢাকা, ১৪ জুন ২০২৬

বিশ্বকাপের মঞ্চে ব্রাজিলের ম্যাচ মানেই বিশ্বজুড়ে কোটি ভক্তের বাড়তি উন্মাদনা আর প্রত্যাশার পারদ। তবে ২০২৬ বিশ্বকাপের নিজেদের প্রথম ম্যাচে সেই প্রত্যাশার প্রতিচ্ছবি মাঠে দেখাতে পারল না সেলেসাওরা। মরক্কোর মতো কঠিন প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে ১-১ গোলের ড্র নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয়েছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের।

ম্যাচটিতে ব্রাজিল হারেনি ঠিকই, তবে এই ড্রয়ের পর দলের পারফরম্যান্স নিয়ে খোদ ড্রেসিংরুমের ভেতরেই তৈরি হয়েছে তীব্র অসন্তোষ। ম্যাচ শেষে মিক্সড জোনে এসে দলের প্রতিনিধি হয়ে সেই হতাশা ও ক্ষোভের কথা অকপটে স্বীকার করেছেন ২৫ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার দানিলো। তাঁর মতে, প্রথমার্ধে ব্রাজিল এতটাই অগোছালো ও দিশেহারা ফুটবল খেলেছে যে, ভাগ্য ভালো থাকায় বড় বিপদের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছে দল।

মেটলাইফ স্টেডিয়ামের সেই কঠিন প্রথমার্ধ

যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সির বিখ্যাত মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিলকে চেপে ধরে উত্তর আফ্রিকার দেশ মরক্কো। ম্যাচের ২১ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে গোল খেয়ে পিছিয়ে পড়ে সেলেসাওরা। তবে গোল খাওয়ার ধাক্কা সামলে ওঠার চেষ্টা করে তারা। ১১ মিনিট পর, অর্থাৎ ম্যাচের ৩২ মিনিটে দলের ত্রাণকর্তা হিসেবে আবির্ভূত হন তারকা ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। তাঁর দুর্দান্ত এক গোলে ম্যাচে সমতা টানে ব্রাজিল। ১-১ স্কোরে প্রথমার্ধ শেষ হলেও মাঠের নিয়ন্ত্রণ কিন্তু ব্রাজিলের হাতে ছিল না।

ম্যাচের ৮০তম মিনিটে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামা বোতাফোগোর মিডফিল্ডার দানিলো প্রথম ৪৫ মিনিটের পারফরম্যান্স নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেছেন।

“প্রথমার্ধে আমরা খুবই বাজে খেলেছি। মাঠে আমাদের অবস্থান, টেকনিক্যাল সিদ্ধান্ত কিংবা ট্যাকটিক্স—কোনো দিক থেকেই আমরা আমাদের চেনা ছন্দে ছিলাম না।”

— ম্যাচ শেষে দানিলোর ক্ষোভ প্রকাশ।

স্নায়ুচাপ ও অহেতুক উদ্বেগ

দানিলোর মতে, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচ হওয়ার কারণে দলের তরুণ ও অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের মধ্যে এক ধরনের মানসিক চাপ কাজ করছিল। আর এই অতিরিক্ত স্নায়ুচাপের কারণেই প্রথমার্ধে মরক্কোর একের পর এক আক্রমণ সামলাতে হিমশিম খেতে হয়েছে ডিফেন্ডারদের।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমরা খুবই স্নায়ুচাপে ছিলাম, এক ধরনের উদ্বেগ কাজ করছিল আমাদের মধ্যে। ফলে নিজেদের ভুলের কারণেই বারবার রক্ষণভাগ ভেঙে পড়ছিল এবং বিপদে পড়ছিলাম আমরা। সত্যি বলতে, ভাগ্যিস প্রথমার্ধে আমরা আরও বেশি গোল হজম করে পিছিয়ে পড়িনি। তা না হলে ম্যাচ থেকে ওখানেই ছিটকে যেতে হতো।”

দ্বিতীয়র্ধের কৌশল বদল ও ঘুরে দাঁড়ানো

প্রথমার্ধের ভুলগুলো বিরতির সময় ড্রেসিংরুমে বসে শুধরে নেওয়ার চেষ্টা করেন কোচ। দ্বিতীয় অর্ধের শুরুতেই কৌশলগত কিছু পরিবর্তন আনা হয় দলে, যার মধ্যে অন্যতম ছিল দানিলোকে মাঠে নামানো।

দ্বিতীয়ার্ধের এই পরিবর্তনগুলো মাঠে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। মরক্কোকে আর আগের মতো চড়াও হতে দেয়নি ব্রাজিলের মাঝমাঠ। এই অংশটি নিয়ে কিছুটা স্বস্তি প্রকাশ করে দানিলো বলেন, “ম্যাচের পরের অংশে আমরা বল নিজেদের দখলে রাখতে পেরেছি এবং গোল করার মতো বেশ কিছু ভালো সুযোগও তৈরি করেছি। ম্যাচ জিততে না পারলেও এই ঘুরে দাঁড়ানোটাই টুর্নামেন্টের পরের ম্যাচগুলোর জন্য আমাদের ড্রেসিংরুমে আত্মবিশ্বাস জোগাবে।”

‘এটি স্বপ্নের মতো শুরু ছিল না’— কাসেমিরো

দলের অন্যতম অভিজ্ঞ তারকা এবং মাঝমাঠের চালিকাশক্তি কাসেমিরোও দানিলোর সুরেই কথা বলেছেন। তাঁর মতে, প্রথম ম্যাচ থেকেই পূর্ণ ৩ পয়েন্ট তুলে নিয়ে টুর্নামেন্ট শুরু করার পরিকল্পনা ছিল তাঁদের, কিন্তু মাঠের বাস্তবতা ছিল ভিন্ন।

খেলা শেষে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে কাসেমিরো বলেন, “আমরা শুরু থেকেই জানতাম ম্যাচটি সহজ হবে না। মরক্কো অত্যন্ত মানসম্পন্ন এবং শক্তিমত্তা সম্পন্ন একটি দল। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো, ম্যাচের শুরু থেকে মরক্কোর ওপর কোনো বাড়তি চাপ ছিল না, তারা মুক্ত মনে খেলেছে। বিপরীতে আমাদের মধ্যে এক ধরনের জয় পাওয়ার ব্যাকুলতা বা উদ্বেগ কাজ করছিল। আমরা সব সময় জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করতে চাই, কিন্তু এই ম্যাচটা ছিল একটি দুর্দান্ত প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। তাই স্বীকার করতেই হবে, এটি আমাদের জন্য কোনো স্বপ্নের মতো শুরু ছিল না।”

তবে এই ড্রয়ের তিক্ত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে ব্রাজিল দল দ্রুতই নিজেদের গুছিয়ে নেবে এবং পরের ম্যাচে চেনা ছন্দে ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডার।