শিরোনাম :
‘বাংলা কিউআর’-এর ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ক্যাশলেস অর্থনীতির চিত্র এলপিজির দাম কমল ৩৫৭ টাকা,১২ কেজির নতুন দাম হয়েছে ১ হাজার ৫২৮ টাকা। নির্বাচনে শিক্ষকদের অংশগ্রহণে ‘চাকরি ছেড়ে ভোটে আসতে হবে’, আইন করার দাবি শিক্ষামন্ত্রীর নতুন দায়িত্বে স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী : ঔষধ উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন বাজেট ২০২৬-২৭: সংসদে সরব বিরোধী দল, তবে অর্থবিলে নেই কোনো সংশোধনী প্রস্তাব—কী বার্তা দিচ্ছে এই নীরবতা? সামনে নরওয়ে জুজু! যাদের বিপক্ষে কখনই জয় পায়নি ব্রাজিল:ভাঙবে কি ইতিহাস? বাংলাদেশে আর সন্ত্রাসবাদ নয় মেট্রোরেল–টার্মিনালসহ নানা ইস্যুতে জাপানের সঙ্গে ‘টানাপোড়েন’  সম্পর্ক ঠিক রাখতে চায় সরকার কেরানীগঞ্জে বিস্ফোরণ : নব্য জেএমবির পুনরুত্থান ও নিরাপত্তা ঝুঁকি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হাসানুল হক ইনু

‘দেশের স্বার্থে আপস নয়, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ’— ডা. জাহেদ

বিশেষ প্রতিবেদক | চলমানবার্তা

৩০ জুন ২০২৬

ভারতের সঙ্গে তিস্তা ও গঙ্গাসহ সব অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ তার অবস্থানে অনড় থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যেকোনো দ্বিপাক্ষিক বা আঞ্চলিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ সব বিষয়ে এই নীতি বজায় থাকবে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে তিস্তা প্রকল্প, দুর্নীতি দমন, রাজনৈতিক দলের নিষেধাজ্ঞা এবং জননিরাপত্তাসহ সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতের রোডম্যাপ তুলে ধরেন উপদেষ্টা।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও ভূ-রাজনীতি

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান চীনের প্রাথমিক প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হলো নদীশাসন, সুপরিকল্পিত ড্রেজিং এবং নদীর তীর সংরক্ষণ। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে উত্তরবঙ্গের পানির তীব্র সংকট মোকাবিলায় তিস্তায় একটি নতুন ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।

ভূ-রাজনৈতিক কৌশল ও প্রতিবেশী দেশের আপত্তির বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন:

“অন্য কোনো দেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ বা ভূ-রাজনৈতিক কোনো প্রশ্ন থাকলে বাংলাদেশ তা অবশ্যই ইতিবাচকভাবে বিবেচনায় নেবে। তবে কোনো অবস্থাতেই দেশের অভ্যন্তরীণ স্বার্থ বা জনগণের অধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। আমরা তিস্তা এবং গঙ্গাসহ প্রতিটি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা চাই এবং এটি আমাদের অধিকার।”

দুর্নীতি দমন ও আইনি অবস্থান

দুর্নীতি প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দুর্নীতি একটি সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধ এবং আইনের চোখে এর কোনো তামাদি বা মেয়াদোত্তীর্ণের সুযোগ নেই। দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, “দুদকের উচিত বর্তমান সরকারের সময়কালের যেকোনো দুর্নীতির অভিযোগ যেমন স্বাধীনভাবে তদন্ত করা, ঠিক তেমনি আগের সরকারের আমলের অনিয়মগুলোকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে আইনি আওতায় আনা। অপরাধী কে বা কোন সময়ের, সেটি বিবেচ্য নয়।”

একই ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন ডা. জাহেদ। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রিফাইন্ড’, ‘তৃণমূল’ বা অন্য কোনো নতুন মোড়কে বা নামে দলটির কর্মসূচি পালন করার কোনো সুযোগ নেই। আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকা উচিত বলেই সরকার মনে করে।

এছাড়া, শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারের ওপর আদালতের যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যারা এই নির্দেশনা অমান্য করছেন, তারা সরাসরি আদালত অবমাননা করছেন। সরকার আশা করে, দেশের প্রতিটি গণমাধ্যম আদালতের এই আদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।

কমিশন গঠন ও প্রশাসনিক সংস্কার

দেশের গণমাধ্যম ও তথ্য অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “তথ্য কমিশন ও গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হবে, যা দেশের সাংবাদিকতা ও তথ্য প্রাপ্তির পরিবেশকে আরও স্বাধীন ও স্বচ্ছ করবে।”

খাদ্য নিরাপত্তা, টোল প্লাজা ও স্বাস্থ্য খাতের চিত্র

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি এই ব্রিফিংয়ে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়:

  • খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার নিয়ন্ত্রণ: দেশে বর্তমানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপদেষ্টা। এই মজুদের ফলে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা সহজ হচ্ছে। এর ফলে কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য এমন একটি বাজার ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে ভবিষ্যতে ওএমএস বা টিসিবির ট্রাকের পেছনে সাধারণ মানুষকে আর লাইনে দাঁড়াতে হবে না।

  • যোগাযোগ খাতে আধুনিকায়ন: দেশের যোগাযোগ খাতকে পুরোপুরি ডিজিটাল করতে সব টোল প্লাজায় একটি সমন্বিত ‘ইন্টিগ্রেটেড ট্যাগ’ ব্যবস্থার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে দেশজুড়ে ‘ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন’ বা অটোমেটিক টোল আদায় সম্ভব হবে, যা মহাসড়কগুলোর যানজট ও টোল প্লাজার ভোগান্তি দূর করবে।

  • স্বাস্থ্য খাতের স্থবিরতা কাটানো: স্বাস্থ্য খাতের কিছু সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে ডা. জাহেদ জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস পর পর শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ করার কথা থাকলেও, নানা জটিলতায় এবার তা ১৫ মাস পর দেওয়া হয়েছে। তবে সরকার এই সেবাগুলোকে আবার নিয়মিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

হজ, ডিজিটাল সংযোগ ও জলবায়ু মোকাবিলা

চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে উপদেষ্টা জানান, এ বছর সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন করতে যাওয়া সব বাংলাদেশি হাজি নিরাপদে দেশে ফিরে এসেছেন। এই মুহূর্তে কোনো হাজি নিখোঁজ থাকার তথ্য সরকারের কাছে নেই।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের হাওর, বাওড় ও দুর্গম অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি ফ্রি ওয়াই-ফাই হটস্পট চালু করা হয়েছে। এই হটস্পটের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে আরও বাড়ানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বজ্রপাতে প্রাণহানি আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন হাওর ও কৃষিপ্রধান অঞ্চলে কৃষকদের সুরক্ষায় বিশেষ ‘কৃষক ছাউনি’ নির্মাণ এবং আধুনিক বজ্র নিরোধক দণ্ড (লাইটেনিং অ্যারেস্টার) স্থাপনের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

জাতীয় পতাকায় আরবি হরফ বিতর্ক

সম্প্রতি দেশের কিছু স্থানে জাতীয় পতাকায় আরবি হরফ ব্যবহার করার ঘটনাটি সরকারের নজরে এসেছে বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বলেন, “এই ধরনের কর্মকাণ্ডের সাথে সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। কেন বা কোন উদ্দেশ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে, তা প্রশাসন খতিয়ে দেখছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, জাতীয় পতাকার নকশা পরিবর্তন বা সেখানে ধর্মীয় হরফ ব্যবহারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভুল বার্তা যাওয়ার চরম আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

‘বাংলা কিউআর’-এর ছোঁয়ায় বদলে যাচ্ছে ক্যাশলেস অর্থনীতির চিত্র

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

জুলাই গণ-অভ্যুত্থান: ১০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হাসানুল হক ইনু

৩০ জুন ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

‘দেশের স্বার্থে আপস নয়, অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা চায় বাংলাদেশ’— ডা. জাহেদ

আপডেট সময় ০১:৩৫:২২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

বিশেষ প্রতিবেদক | চলমানবার্তা

৩০ জুন ২০২৬

ভারতের সঙ্গে তিস্তা ও গঙ্গাসহ সব অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ তার অবস্থানে অনড় থাকবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, যেকোনো দ্বিপাক্ষিক বা আঞ্চলিক সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে এবং তিস্তা মহাপরিকল্পনাসহ সব বিষয়ে এই নীতি বজায় থাকবে।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কার্যক্রমের অগ্রগতি ও সমসাময়িক ইস্যু নিয়ে আয়োজিত এক বিশেষ প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন। বৈঠকে তিস্তা প্রকল্প, দুর্নীতি দমন, রাজনৈতিক দলের নিষেধাজ্ঞা এবং জননিরাপত্তাসহ সরকারের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতের রোডম্যাপ তুলে ধরেন উপদেষ্টা।

তিস্তা মহাপরিকল্পনা ও ভূ-রাজনীতি

তিস্তা মহাপরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করতে গিয়ে ডা. জাহেদ উর রহমান চীনের প্রাথমিক প্রস্তাবের কথা উল্লেখ করেন। তিনি জানান, এই পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হলো নদীশাসন, সুপরিকল্পিত ড্রেজিং এবং নদীর তীর সংরক্ষণ। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে উত্তরবঙ্গের পানির তীব্র সংকট মোকাবিলায় তিস্তায় একটি নতুন ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে।

ভূ-রাজনৈতিক কৌশল ও প্রতিবেশী দেশের আপত্তির বিষয়ে মন্তব্য করতে গিয়ে তিনি বলেন:

“অন্য কোনো দেশের নিরাপত্তা উদ্বেগ বা ভূ-রাজনৈতিক কোনো প্রশ্ন থাকলে বাংলাদেশ তা অবশ্যই ইতিবাচকভাবে বিবেচনায় নেবে। তবে কোনো অবস্থাতেই দেশের অভ্যন্তরীণ স্বার্থ বা জনগণের অধিকারের প্রশ্নে কোনো আপস করা হবে না। আমরা তিস্তা এবং গঙ্গাসহ প্রতিটি অভিন্ন নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা চাই এবং এটি আমাদের অধিকার।”

দুর্নীতি দমন ও আইনি অবস্থান

দুর্নীতি প্রসঙ্গে অন্তর্বর্তী সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির কথা পুনর্ব্যক্ত করেন তথ্য উপদেষ্টা। তিনি বলেন, দুর্নীতি একটি সুনির্দিষ্ট ফৌজদারি অপরাধ এবং আইনের চোখে এর কোনো তামাদি বা মেয়াদোত্তীর্ণের সুযোগ নেই। দুর্নীতি দমন কমিশনকে (দুদক) সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

উপদেষ্টা স্পষ্ট করে বলেন, “দুদকের উচিত বর্তমান সরকারের সময়কালের যেকোনো দুর্নীতির অভিযোগ যেমন স্বাধীনভাবে তদন্ত করা, ঠিক তেমনি আগের সরকারের আমলের অনিয়মগুলোকেও সমান গুরুত্ব দিয়ে আইনি আওতায় আনা। অপরাধী কে বা কোন সময়ের, সেটি বিবেচ্য নয়।”

একই ব্রিফিংয়ে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন ডা. জাহেদ। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কার্যক্রম বর্তমানে নিষিদ্ধ রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘রিফাইন্ড’, ‘তৃণমূল’ বা অন্য কোনো নতুন মোড়কে বা নামে দলটির কর্মসূচি পালন করার কোনো সুযোগ নেই। আদালতের চূড়ান্ত রায় না আসা পর্যন্ত দলটির সব ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ থাকা উচিত বলেই সরকার মনে করে।

এছাড়া, শেখ হাসিনার বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচারের ওপর আদালতের যে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে, তা মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, যারা এই নির্দেশনা অমান্য করছেন, তারা সরাসরি আদালত অবমাননা করছেন। সরকার আশা করে, দেশের প্রতিটি গণমাধ্যম আদালতের এই আদেশের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে।

কমিশন গঠন ও প্রশাসনিক সংস্কার

দেশের গণমাধ্যম ও তথ্য অধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় সংস্কারের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি বলেন, “তথ্য কমিশন ও গণমাধ্যম কমিশন গঠনের প্রক্রিয়া চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এই দুটি গুরুত্বপূর্ণ কমিশন আনুষ্ঠানিকভাবে গঠন করা হবে, যা দেশের সাংবাদিকতা ও তথ্য প্রাপ্তির পরিবেশকে আরও স্বাধীন ও স্বচ্ছ করবে।”

খাদ্য নিরাপত্তা, টোল প্লাজা ও স্বাস্থ্য খাতের চিত্র

দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের কাজের অগ্রগতি এই ব্রিফিংয়ে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়:

  • খাদ্য নিরাপত্তা ও বাজার নিয়ন্ত্রণ: দেশে বর্তমানে স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় অনেক বেশি খাদ্যশস্য মজুদ রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন উপদেষ্টা। এই মজুদের ফলে চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজারমূল্য স্থিতিশীল রাখা সহজ হচ্ছে। এর ফলে কৃষকরাও তাদের উৎপাদিত ধানের ন্যায্যমূল্য পাচ্ছেন। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি লক্ষ্য এমন একটি বাজার ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে ভবিষ্যতে ওএমএস বা টিসিবির ট্রাকের পেছনে সাধারণ মানুষকে আর লাইনে দাঁড়াতে হবে না।

  • যোগাযোগ খাতে আধুনিকায়ন: দেশের যোগাযোগ খাতকে পুরোপুরি ডিজিটাল করতে সব টোল প্লাজায় একটি সমন্বিত ‘ইন্টিগ্রেটেড ট্যাগ’ ব্যবস্থার কাজ চলছে। এর মাধ্যমে দেশজুড়ে ‘ইলেকট্রনিক টোল কালেকশন’ বা অটোমেটিক টোল আদায় সম্ভব হবে, যা মহাসড়কগুলোর যানজট ও টোল প্লাজার ভোগান্তি দূর করবে।

  • স্বাস্থ্য খাতের স্থবিরতা কাটানো: স্বাস্থ্য খাতের কিছু সীমাবদ্ধতার কথা স্বীকার করে ডা. জাহেদ জানান, নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ছয় মাস পর পর শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল বিতরণ করার কথা থাকলেও, নানা জটিলতায় এবার তা ১৫ মাস পর দেওয়া হয়েছে। তবে সরকার এই সেবাগুলোকে আবার নিয়মিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

হজ, ডিজিটাল সংযোগ ও জলবায়ু মোকাবিলা

চলতি বছরের হজ ব্যবস্থাপনা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করে উপদেষ্টা জানান, এ বছর সৌদি আরবে পবিত্র হজ পালন করতে যাওয়া সব বাংলাদেশি হাজি নিরাপদে দেশে ফিরে এসেছেন। এই মুহূর্তে কোনো হাজি নিখোঁজ থাকার তথ্য সরকারের কাছে নেই।

প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে ডিজিটাল অবকাঠামো সম্প্রসারণের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে দেশের হাওর, বাওড় ও দুর্গম অঞ্চলের সাধারণ মানুষের ইন্টারনেট সুবিধা নিশ্চিত করতে ইতোমধ্যে এক হাজারের বেশি ফ্রি ওয়াই-ফাই হটস্পট চালু করা হয়েছে। এই হটস্পটের সংখ্যা পর্যায়ক্রমে আরও বাড়ানো হচ্ছে।

অন্যদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বজ্রপাতে প্রাণহানি আশঙ্কাজনকহারে বেড়েছে। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় বিশেষ প্রকল্প হাতে নিয়েছে। দেশের বিভিন্ন হাওর ও কৃষিপ্রধান অঞ্চলে কৃষকদের সুরক্ষায় বিশেষ ‘কৃষক ছাউনি’ নির্মাণ এবং আধুনিক বজ্র নিরোধক দণ্ড (লাইটেনিং অ্যারেস্টার) স্থাপনের কাজ দ্রুত বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

জাতীয় পতাকায় আরবি হরফ বিতর্ক

সম্প্রতি দেশের কিছু স্থানে জাতীয় পতাকায় আরবি হরফ ব্যবহার করার ঘটনাটি সরকারের নজরে এসেছে বলে জানান উপদেষ্টা। তিনি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বলেন, “এই ধরনের কর্মকাণ্ডের সাথে সরকারের কোনো ধরনের সম্পৃক্ততা নেই। কেন বা কোন উদ্দেশ্যে এ ধরনের ঘটনা ঘটানো হচ্ছে, তা প্রশাসন খতিয়ে দেখছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, জাতীয় পতাকার নকশা পরিবর্তন বা সেখানে ধর্মীয় হরফ ব্যবহারের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে ভুল বার্তা যাওয়ার চরম আশঙ্কা রয়েছে। তাই বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Share this news as a Photo Card