শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধের অবসানে কূটনীতির চেষ্টা, কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোন ওপেনিংয়ে ওলটপালট, শেষ বিকেলে হৃদয়-মুশফিকের প্রতিরোধ সংবিধানে আল্লাহর প্রতি আস্থা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী গ্রীষ্মের আগেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য: বিদ্যুৎমন্ত্রী ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে : প্রধানমন্ত্রী এআই যেন বেকারত্ব আরও জটিল না করে, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস হারিয়ে ইরান যুদ্ধের দায় আংশিক মানলেন ট্রাম্প মোংলায় নতুন শিল্পকারখানা গড়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর ‘ফিউচার মেকার্স’ জিতে নিল ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কিশোর নাভহান মারধরের মামলায় পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, পরীমনির জামিন মঞ্জুর

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে এক মাসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সরকারি সূত্রে জানা যায়, কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনিকে সদস্য করা হয়েছে।

বৈঠকে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই, সিটি করপোরেশনসহ মাঠপর্যায়ে ভেজালবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন। তারা নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতার বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।

কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, জেলা পর্যায়ে জনবলের ঘাটতি, আধুনিক পরীক্ষাগারের অভাব, মান নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের সংকট এবং মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনার সময় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির মতো বিষয়গুলো কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। পাশাপাশি ভেজাল ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে অনেক সময় অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সহায়তার প্রয়োজন হয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়েও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, নতুন গঠিত কমিটি স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—উভয় ধরনের সমস্যার তালিকা তৈরি করবে এবং বাস্তবসম্মত সুপারিশ সরকারের কাছে উপস্থাপন করবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের পথে চ্যালেঞ্জ থাকবেই, তবে সেই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেই এগিয়ে যেতে হবে। তাঁর ভাষায়, “সমস্যা থাকবেই। তারপরও সেই সমস্যার মধ্য দিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বসে থাকলে চলবে না। পৃথিবীর অনেক দেশ একসময় আমাদের চেয়েও অনুন্নত ছিল, অথচ আজ তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থে সরকারি কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষ—সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী গুলশান লেকের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণের মতো অনেক সমস্যার পেছনে নাগরিকদের অসচেতনতাও বড় কারণ। তাঁর মতে, শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; দেশের উন্নয়ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সাত্তার, বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং ভেজালবিরোধী অভিযানে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে জনস্বার্থে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান যুদ্ধের অবসানে কূটনীতির চেষ্টা, কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোন

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মারধরের মামলায় পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, পরীমনির জামিন মঞ্জুর

০৫ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করণে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ

আপডেট সময় ০৮:২১:০৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ৬ জুলাই ২০২৬

নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা এবং ভেজালবিরোধী অভিযান পরিচালনাকারী সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে তিন সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের বিদ্যমান সমস্যা চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের লক্ষ্যে এক মাসের মধ্যে সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে তিনি এ নির্দেশনা দেন।

সরকারি সূত্রে জানা যায়, কমিটিতে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী এবং মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. নাসিমুল গনিকে সদস্য করা হয়েছে।

বৈঠকে ভোক্তা অধিকার অধিদপ্তর, বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ, বিএসটিআই, সিটি করপোরেশনসহ মাঠপর্যায়ে ভেজালবিরোধী অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা অংশ নেন। তারা নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনায় নানা ধরনের সীমাবদ্ধতা ও প্রতিবন্ধকতার বিষয় প্রধানমন্ত্রীর সামনে তুলে ধরেন।

কর্মকর্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে, জেলা পর্যায়ে জনবলের ঘাটতি, আধুনিক পরীক্ষাগারের অভাব, মান নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত সরঞ্জামের সংকট এবং মাঠপর্যায়ে অভিযান পরিচালনার সময় নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির মতো বিষয়গুলো কার্যক্রমকে ব্যাহত করছে। পাশাপাশি ভেজাল ও অনিয়মের সঙ্গে জড়িত প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে গিয়ে অনেক সময় অতিরিক্ত প্রশাসনিক ও নিরাপত্তা সহায়তার প্রয়োজন হয় বলেও তারা উল্লেখ করেন।

বৈঠকে অংশ নেওয়া কর্মকর্তারা ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম আরও কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় ক্ষমতা ও সহায়তা বৃদ্ধির বিষয়েও সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং এসব সমস্যা সমাধানে দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, নতুন গঠিত কমিটি স্বল্পমেয়াদি ও দীর্ঘমেয়াদি—উভয় ধরনের সমস্যার তালিকা তৈরি করবে এবং বাস্তবসম্মত সুপারিশ সরকারের কাছে উপস্থাপন করবে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের পথে চ্যালেঞ্জ থাকবেই, তবে সেই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করেই এগিয়ে যেতে হবে। তাঁর ভাষায়, “সমস্যা থাকবেই। তারপরও সেই সমস্যার মধ্য দিয়েই আমাদের এগিয়ে যেতে হবে। বসে থাকলে চলবে না। পৃথিবীর অনেক দেশ একসময় আমাদের চেয়েও অনুন্নত ছিল, অথচ আজ তারা অনেক দূর এগিয়ে গেছে। আমাদেরও এগিয়ে যেতে হবে।”

তিনি আরও বলেন, দেশের স্বার্থে সরকারি কর্মকর্তা, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণ মানুষ—সবার সম্মিলিত দায়িত্বশীল ভূমিকা প্রয়োজন।

জনসচেতনতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী গুলশান লেকের উদাহরণ দেন। তিনি বলেন, পরিবেশ দূষণের মতো অনেক সমস্যার পেছনে নাগরিকদের অসচেতনতাও বড় কারণ। তাঁর মতে, শুধু সরকারি উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; দেশের উন্নয়ন ও নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে।

সভায় প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব আব্দুস সাত্তার, বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান, প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন এবং বিএসটিআইয়ের মহাপরিচালক কাজী ইমদাদুল হকসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারের এই উদ্যোগের লক্ষ্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিতকরণ, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ এবং ভেজালবিরোধী অভিযানে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়িয়ে জনস্বার্থে আরও কার্যকর ব্যবস্থা গড়ে তোলা।

Share this news as a Photo Card