শিরোনাম :
পদত্যাগ প্রশ্নে বিরক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদে ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ কে এই খাইরুল দেওয়ান ? শুক্রবার সারা ভারতে জুড়ে বিক্ষোভের ডাক ককরোচ পার্টির ভেনিস উৎসবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সিনেমা ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও বিতর্কের জেরে জামাত নেতা গাজী নজরুলকে বহিষ্কার, ইসি-স্পিকারকে চিঠি শাহজাদপুরে ১৫৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ মোদির সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

নওগাঁর আমবাণিজ্যে লাভ, হারিয়ে যাচ্ছে নারীর কর্মসংস্থান

নওগাঁ একসময় ধান উৎপাদনের জন্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা হিসেবে পরিচিত ছিল। কাটারিভোগ, কালিজিরার মতো উন্নতমানের ধান এবং শত শত চালকলকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল শক্তিশালী কৃষিনির্ভর অর্থনীতি। কিন্তু গত এক দশকে সেই চিত্র দ্রুত বদলে গেছে। জেলার সাপাহার ও পোরশাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ধানের জমি রূপ নিয়েছে আমবাগানে। মৌসুমি এই অর্থকরী ফসল স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আনলেও এর দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় জমির মালিক ও বিনিয়োগকারীরাই মূলত আম চাষে এগিয়ে এসেছেন। অনেক কৃষক দীর্ঘমেয়াদে জমি লিজ দিচ্ছেন, আবার কেউ নিজের জমিকেই আমবাগানে রূপান্তর করছেন। ফলে ধান চাষের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ও অবকাঠামো সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ছোট কৃষকেরা চারপাশে আমবাগান গড়ে ওঠায় আগের মতো ধান উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারছেন না।
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নারী শ্রমিকদের ওপর। আগে ধান রোপণ, কাটা, মাড়াই ও চালকলে কাজ করে বছরের বড় সময় আয় করার সুযোগ ছিল তাঁদের। বিশেষ করে সমতলের আদিবাসী নারীরা কৃষিশ্রমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু আম চাষে নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক কম। ফলে অনেকেই নিয়মিত আয়ের পথ হারিয়ে অর্থনৈতিকভাবে আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কিছু এলাকায় ঘন আমবাগান নারীদের জন্য নিরাপত্তা-ঝুঁকিও তৈরি করেছে। নির্জন পরিবেশে যৌন হয়রানি ও সহিংসতার অভিযোগ সামনে আসায় অনেক নারী সেখানে কাজ করতে অনাগ্রহী। পরিবার থেকেও তাঁদের নিরুৎসাহিত করা হয়। একই ধরনের কাজ করেও অনেক ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকেরা পুরুষদের তুলনায় কম মজুরি পান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো অঞ্চলে একটি মাত্র অর্থকরী ফসলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কৃষির বৈচিত্র্য কমিয়ে দেয়। ধানের মতো খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমে গেলে স্থানীয় খাদ্যনিরাপত্তাও বাজারনির্ভর হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন এক ধরনের চাষাবাদ চলতে থাকলে মাটির উর্বরতা কমে যাওয়া, কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
ইতিহাসেও একক ফসলের ওপর অতিনির্ভরতার নেতিবাচক উদাহরণ রয়েছে। তাই গবেষকদের মতে, আমের বাণিজ্য অবশ্যই অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ; তবে সেই উন্নয়ন যেন কৃষির বৈচিত্র্য, খাদ্যনিরাপত্তা, নারী কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই কৃষিনীতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নই হতে পারে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কার্যকর

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগ প্রশ্নে বিরক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

২৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

নওগাঁর আমবাণিজ্যে লাভ, হারিয়ে যাচ্ছে নারীর কর্মসংস্থান

আপডেট সময় ১২:৩৬:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

নওগাঁ একসময় ধান উৎপাদনের জন্য দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জেলা হিসেবে পরিচিত ছিল। কাটারিভোগ, কালিজিরার মতো উন্নতমানের ধান এবং শত শত চালকলকে ঘিরে গড়ে উঠেছিল শক্তিশালী কৃষিনির্ভর অর্থনীতি। কিন্তু গত এক দশকে সেই চিত্র দ্রুত বদলে গেছে। জেলার সাপাহার ও পোরশাসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ধানের জমি রূপ নিয়েছে আমবাগানে। মৌসুমি এই অর্থকরী ফসল স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি আনলেও এর দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বড় জমির মালিক ও বিনিয়োগকারীরাই মূলত আম চাষে এগিয়ে এসেছেন। অনেক কৃষক দীর্ঘমেয়াদে জমি লিজ দিচ্ছেন, আবার কেউ নিজের জমিকেই আমবাগানে রূপান্তর করছেন। ফলে ধান চাষের জন্য প্রয়োজনীয় জমি ও অবকাঠামো সংকুচিত হয়ে পড়ছে। ছোট কৃষকেরা চারপাশে আমবাগান গড়ে ওঠায় আগের মতো ধান উৎপাদন চালিয়ে যেতে পারছেন না।
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে বড় প্রভাব পড়েছে নারী শ্রমিকদের ওপর। আগে ধান রোপণ, কাটা, মাড়াই ও চালকলে কাজ করে বছরের বড় সময় আয় করার সুযোগ ছিল তাঁদের। বিশেষ করে সমতলের আদিবাসী নারীরা কৃষিশ্রমের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে যুক্ত ছিলেন। কিন্তু আম চাষে নারীর কর্মসংস্থানের সুযোগ তুলনামূলক কম। ফলে অনেকেই নিয়মিত আয়ের পথ হারিয়ে অর্থনৈতিকভাবে আরও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, কিছু এলাকায় ঘন আমবাগান নারীদের জন্য নিরাপত্তা-ঝুঁকিও তৈরি করেছে। নির্জন পরিবেশে যৌন হয়রানি ও সহিংসতার অভিযোগ সামনে আসায় অনেক নারী সেখানে কাজ করতে অনাগ্রহী। পরিবার থেকেও তাঁদের নিরুৎসাহিত করা হয়। একই ধরনের কাজ করেও অনেক ক্ষেত্রে নারী শ্রমিকেরা পুরুষদের তুলনায় কম মজুরি পান বলেও অভিযোগ রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কোনো অঞ্চলে একটি মাত্র অর্থকরী ফসলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা কৃষির বৈচিত্র্য কমিয়ে দেয়। ধানের মতো খাদ্যশস্যের উৎপাদন কমে গেলে স্থানীয় খাদ্যনিরাপত্তাও বাজারনির্ভর হয়ে পড়ে। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন এক ধরনের চাষাবাদ চলতে থাকলে মাটির উর্বরতা কমে যাওয়া, কীটনাশকের ব্যবহার বৃদ্ধি এবং পরিবেশগত ভারসাম্য নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিও বাড়ে।
ইতিহাসেও একক ফসলের ওপর অতিনির্ভরতার নেতিবাচক উদাহরণ রয়েছে। তাই গবেষকদের মতে, আমের বাণিজ্য অবশ্যই অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ; তবে সেই উন্নয়ন যেন কৃষির বৈচিত্র্য, খাদ্যনিরাপত্তা, নারী কর্মসংস্থান ও সামাজিক নিরাপত্তাকে ক্ষতিগ্রস্ত না করে, সে দিকেও সমান গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। দীর্ঘমেয়াদে টেকসই কৃষিনীতি এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়নই হতে পারে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার কার্যকর

Share this news as a Photo Card