শিরোনাম :
পদত্যাগ প্রশ্নে বিরক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতি পদে ‘জনপ্রিয়তার শীর্ষে’ কে এই খাইরুল দেওয়ান ? শুক্রবার সারা ভারতে জুড়ে বিক্ষোভের ডাক ককরোচ পার্টির ভেনিস উৎসবে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশের সিনেমা ‘ব্যক্তিগত মুহূর্তের’ ভিডিও বিতর্কের জেরে জামাত নেতা গাজী নজরুলকে বহিষ্কার, ইসি-স্পিকারকে চিঠি শাহজাদপুরে ১৫৫ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক নেই, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম কলেজছাত্রীকে ধর্ষণের দায়ে এনসিপি নেতা গ্রেপ্তার নয়াদিল্লিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ মোদির সাংবিধানিকভাবে পদত্যাগ করবেন রাষ্ট্রপতি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

ইংল্যান্ড ম্যাচে ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি, বললেন ম্যারাডোনা জুনিয়র

বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই মানেই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। ইতিহাস, আবেগ, রাজনৈতিক স্মৃতি এবং ডিয়েগো ম্যারাডোনার কিংবদন্তি—সব মিলিয়ে এই দ্বৈরথের আলাদা এক আবেদন রয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। ম্যাচটির আগে সেই আবেগের কথাই স্মরণ করিয়ে দিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনার ছেলে ডিয়েগো ম্যারাডোনা জুনিয়র
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাঁর বাবা কখনোই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচকে সাধারণ কোনো ফুটবল লড়াই হিসেবে দেখতেন না। তাঁর ভাষায়, এই ম্যাচ আর্জেন্টিনার মানুষের জন্য বিশেষ অর্থ বহন করে।
ম্যারাডোনা জুনিয়র বলেন, “সব আর্জেন্টাইন এবং আমার বাবার ভক্তদের কাছে এই ম্যাচ একটি বিশেষ মুহূর্ত। এটি ফকল্যান্ড যুদ্ধে প্রাণ হারানো আমাদের ভাইদের কথা মনে করিয়ে দেয়। একই সঙ্গে ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের স্মৃতিও ফিরিয়ে আনে, যেখানে আমার বাবা আর্জেন্টিনাকে অবিস্মরণীয় এক জয় এনে দিয়েছিলেন।”
১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়। সেই সংঘাতে উভয় পক্ষ মিলিয়ে ৯০০–এর বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। যুদ্ধের মাত্র চার বছর পর, ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফুটবল মাঠে মুখোমুখি হয় দুই দেশ। সেই ম্যাচই ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত বিশ্বকাপ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সেদিন ম্যারাডোনা দুটি গোল করেছিলেন। প্রথমটি ছিল হাত দিয়ে করা বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল, যা আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত। এরপর অসাধারণ একক নৈপুণ্যে তিনি যে দ্বিতীয় গোলটি করেন, সেটি পরে ফিফার জরিপে ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। আর্জেন্টিনা ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে।
ম্যারাডোনা জুনিয়রের মতে, সেই জয়ের পর থেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রতিটি ম্যাচই আর্জেন্টিনার কাছে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। ইতিহাস, জাতীয় আবেগ এবং ফুটবল—সবকিছু মিলেই এই লড়াইকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
তবে এবারের সেমিফাইনাল সহজ হবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ইংল্যান্ড বর্তমানে দারুণ ছন্দে রয়েছে এবং শক্তিশালী দল হিসেবেই মাঠে নামবে। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, তাদের প্রতিপক্ষ কিন্তু বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
তিনি বলেন, “এটি আমাদের জন্য কঠিন একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে। ইংল্যান্ড ভালো খেলছে, কিন্তু তাদের সামনে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তাই দুই দলের জন্যই এটি সমান কঠিন এবং রোমাঞ্চকর লড়াই হবে।”
বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ শুধু ফলাফলের জন্য নয়, বরং অতীতের স্মৃতি, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ম্যারাডোনার কিংবদন্তিকে ঘিরেও বারবার আলোচনায় এসেছে। এবারও সেমিফাইনালের আগে সেই পুরোনো ইতিহাস নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ম্যারাডোনা জুনিয়রের মন্তব্যে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

পদত্যাগ প্রশ্নে বিরক্ত রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

২০৩৪ সালে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতির অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর

২৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ইংল্যান্ড ম্যাচে ফকল্যান্ড যুদ্ধের স্মৃতি, বললেন ম্যারাডোনা জুনিয়র

আপডেট সময় ১২:৫২:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের মঞ্চে আর্জেন্টিনা ও ইংল্যান্ডের লড়াই মানেই শুধু একটি ফুটবল ম্যাচ নয়। ইতিহাস, আবেগ, রাজনৈতিক স্মৃতি এবং ডিয়েগো ম্যারাডোনার কিংবদন্তি—সব মিলিয়ে এই দ্বৈরথের আলাদা এক আবেদন রয়েছে। ২০২৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে আবারও মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল। ম্যাচটির আগে সেই আবেগের কথাই স্মরণ করিয়ে দিলেন ডিয়েগো ম্যারাডোনার ছেলে ডিয়েগো ম্যারাডোনা জুনিয়র
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম মার্কাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, তাঁর বাবা কখনোই ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচকে সাধারণ কোনো ফুটবল লড়াই হিসেবে দেখতেন না। তাঁর ভাষায়, এই ম্যাচ আর্জেন্টিনার মানুষের জন্য বিশেষ অর্থ বহন করে।
ম্যারাডোনা জুনিয়র বলেন, “সব আর্জেন্টাইন এবং আমার বাবার ভক্তদের কাছে এই ম্যাচ একটি বিশেষ মুহূর্ত। এটি ফকল্যান্ড যুদ্ধে প্রাণ হারানো আমাদের ভাইদের কথা মনে করিয়ে দেয়। একই সঙ্গে ১৯৮৬ সালের সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের স্মৃতিও ফিরিয়ে আনে, যেখানে আমার বাবা আর্জেন্টিনাকে অবিস্মরণীয় এক জয় এনে দিয়েছিলেন।”
১৯৮২ সালে ফকল্যান্ড দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে আর্জেন্টিনা ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ৭৪ দিনের যুদ্ধ হয়। সেই সংঘাতে উভয় পক্ষ মিলিয়ে ৯০০–এর বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। যুদ্ধের মাত্র চার বছর পর, ১৯৮৬ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ফুটবল মাঠে মুখোমুখি হয় দুই দেশ। সেই ম্যাচই ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত বিশ্বকাপ ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সেদিন ম্যারাডোনা দুটি গোল করেছিলেন। প্রথমটি ছিল হাত দিয়ে করা বিতর্কিত ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল, যা আজও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত মুহূর্ত। এরপর অসাধারণ একক নৈপুণ্যে তিনি যে দ্বিতীয় গোলটি করেন, সেটি পরে ফিফার জরিপে ‘শতাব্দীর সেরা গোল’ হিসেবে স্বীকৃতি পায়। আর্জেন্টিনা ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতে সেমিফাইনালে ওঠে।
ম্যারাডোনা জুনিয়রের মতে, সেই জয়ের পর থেকে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রতিটি ম্যাচই আর্জেন্টিনার কাছে ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে। ইতিহাস, জাতীয় আবেগ এবং ফুটবল—সবকিছু মিলেই এই লড়াইকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।
তবে এবারের সেমিফাইনাল সহজ হবে না বলেও সতর্ক করেছেন তিনি। তাঁর মতে, ইংল্যান্ড বর্তমানে দারুণ ছন্দে রয়েছে এবং শক্তিশালী দল হিসেবেই মাঠে নামবে। একই সঙ্গে তিনি মনে করিয়ে দেন, তাদের প্রতিপক্ষ কিন্তু বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা।
তিনি বলেন, “এটি আমাদের জন্য কঠিন একটি ম্যাচ হতে যাচ্ছে। ইংল্যান্ড ভালো খেলছে, কিন্তু তাদের সামনে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। তাই দুই দলের জন্যই এটি সমান কঠিন এবং রোমাঞ্চকর লড়াই হবে।”
বিশ্বকাপের ইতিহাসে আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড দ্বৈরথ শুধু ফলাফলের জন্য নয়, বরং অতীতের স্মৃতি, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং ম্যারাডোনার কিংবদন্তিকে ঘিরেও বারবার আলোচনায় এসেছে। এবারও সেমিফাইনালের আগে সেই পুরোনো ইতিহাস নতুন করে আলোচনায় উঠে এসেছে ম্যারাডোনা জুনিয়রের মন্তব্যে।

Share this news as a Photo Card