বিশ্বকাপের ফাইনালের আগে আলোচনার কেন্দ্রে চলে এসেছে রেফারিং প্রসঙ্গ। শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার কাছে হারের পর মিসরের কোচ হোসাম হাসান এবং খেলোয়াড় মোস্তাফা জিকো সরাসরি অভিযোগ তুলেছিলেন, সেই ম্যাচে রেফারি আর্জেন্টিনাকে বাড়তি সুবিধা দিয়েছেন। এমনকি বিষয়টি নিয়ে ফিফার কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগও দাখিল করে মিসর। সেই বিতর্কের রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ফাইনালের আগে রেফারির ভূমিকা নিয়ে মুখ খুললেন স্পেনের কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে।
রোববার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের ফাইনাল, যেখানে মুখোমুখি হবে আর্জেন্টিনা ও স্পেন। এই মহাগুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের দায়িত্বে থাকছেন স্লোভেনিয়ান রেফারি স্লাভকো ভিনচিচ। ম্যাচের আগমুহূর্তে দে লা ফুয়েন্তে স্পষ্ট করেই জানিয়ে দিয়েছেন, রেফারির কাছ থেকে তিনি কী প্রত্যাশা করছেন।
স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম স্পোর্তকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে স্পেনের কোচ বলেন, ‘রেফারি কোনোভাবেই শিথিলতা দেখাতে পারেন না কিংবা নিয়ম ভাঙার সুযোগ দিতে পারেন না। ফুটবলের বৈধতার যে সীমারেখা আছে, তা কোনোভাবেই অতিক্রম করা উচিত নয়।’ তাঁর এই মন্তব্যে স্পষ্ট, খেলার নিয়ম যেন কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হয়, সে বিষয়ে তিনি বেশ সজাগ।
তবে রেফারিদের ওপর নিজের আস্থার কথা জানাতেও ভোলেননি স্পেন কোচ। তিনি বলেন, ‘রেফারিদের প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা আছে। একই সঙ্গে আমাদেরও পরিষ্কারভাবে জানা আছে, এমন ম্যাচে কীভাবে খেলতে হয়।’ অর্থাৎ রেফারিং নিয়ে সতর্কবার্তা দিলেও বিতর্ক উসকে দেওয়ার কোনো ইচ্ছা তাঁর নেই, বরং দলের প্রস্তুতি ও মানসিকতার দিকেই বেশি মনোযোগী তিনি।
কৌতূহলোদ্দীপক বিষয় হলো, আর্জেন্টিনার বর্তমান কোচ লিওনেল স্কালোনির কোচিং জীবনের একসময়ের প্রশিক্ষক ছিলেন এই দে লা ফুয়েন্তেই। সেই সম্পর্কের প্রসঙ্গ টেনে স্পেন কোচ বলেন, ফাইনালে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হবে নিজেদের খেলার ধরন অক্ষুণ্ন রাখা। তাঁর ভাষায়, ‘আর্জেন্টিনা তাদের মতো করেই খেলবে। কিন্তু আমাদের মনোযোগ থাকতে হবে শুধু নিজেদের খেলায়। নিজেদের ফুটবল আরও শক্তিশালী করা এবং সেটিকে আরও উন্নত করাই আমাদের লক্ষ্য।’
নিজেদের ফুটবল-দর্শন থেকে সরে না যাওয়ার ব্যাপারেও দলকে সতর্ক করেছেন দে লা ফুয়েন্তে। তিনি বলেন, ‘আমরা যদি আমাদের ফুটবল দর্শন ও খেলার ধরন থেকে বিচ্যুত হই, তাহলে ভুগতে হবে।’ সাম্প্রতিক ইউরো জয়ী এই কোচ আরও যোগ করেন, ‘আমরা ফুটবলটা ফুটবলের মতো খেলতেই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি। নিজেদের ভাবনায় অটল থাকতে চাই, কোনো উসকানিতে পা দিতে চাই না। অবশ্য এর মানে এই নয় যে আর্জেন্টিনা এমন কিছু করবে।’
এই মন্তব্য থেকে স্পষ্ট, ফাইনালের মতো উত্তেজনাপূর্ণ ম্যাচে মাথা ঠান্ডা রাখা এবং নিজেদের পরিকল্পনায় স্থির থাকাকেই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছেন স্পেনের কোচ। একই সঙ্গে রেফারিং নিয়ে আগেভাগে সতর্কবার্তা দিয়ে রাখাটাও অনেকটা কৌশলগত পদক্ষেপ বলেই মনে করছেন ফুটবল বিশ্লেষকেরা। কেননা, মিসরের অভিযোগের পর এমনিতেই আর্জেন্টিনাকে ঘিরে রেফারিং-বিতর্ক নতুন মাত্রা পেয়েছিল।
এখন সবার নজর থাকবে রোববার রাতের নিউ জার্সির সেই বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালের দিকে, যেখানে শিরোপার লড়াইয়ের পাশাপাশি রেফারি ভিনচিচের ভূমিকাও থাকবে আলোচনার কেন্দ্রে। মাঠের লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত কে হাসে শেষ হাসি, সেটাই দেখার অপেক্ষায় গোটা ফুটবল বিশ্ব।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 




















