আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে দলকে তৃণমূল পর্যায়ে আরও সুসংগঠিত ও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ লক্ষ্যে রংপুর বিভাগের কয়েকটি জেলার শীর্ষস্থানীয় নেতাদের সঙ্গে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক বৈঠকে মিলিত হয়েছেন তিনি। গত শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই রুদ্ধদ্বার বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী নির্ধারণ এবং তৃণমূলের দলীয় গ্রুপিং-কোন্দল নিরসন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, আগামী কয়েকদিনে তিনি পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য বিভাগের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও এমন মতবিনিময় সভা করবেন। উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন পর আসন্ন এই স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়াই অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যার প্রস্তুতি নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। পাশাপাশি প্রস্তুতি নিচ্ছে রাজনৈতিক দলগুলোও। তবে প্রার্থী বাছাইয়ের ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতায় পড়েছে বিএনপি। কারণ দলটির তৃণমূলে প্রার্থীর সংখ্যা অনেক বেশি, ফলে একক প্রার্থী নির্ধারণ করা হাইকমান্ডের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এই বাস্তবতায় নির্বাচনে একক প্রার্থী চূড়ান্ত করতে সরাসরি তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মতামত ও মূল্যায়ন নেওয়ার পথ বেছে নিয়েছেন তারেক রহমান। দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, তৃণমূলের যোগ্য ও জনপ্রিয় নেতাদের ভোটের মাঠে আনতে জেলা-উপজেলার শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক শুরু করেছেন তিনি। এরই ধারাবাহিকতায় গতকাল বিকেলে পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও জেলার ২৫টি উপজেলার শীর্ষ নেতাদের মতামত শোনেন তিনি। এর আগে গত ১৩ জুলাই বরিশালেও একই ধরনের সাংগঠনিক সভা করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদসহ সহসাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক ও আমিনুল ইসলাম। এ ছাড়া রংপুর বিভাগের সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোর শীর্ষস্থানীয় ও সিনিয়র নেতারাও আলোচনায় অংশ নেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান জানান, প্রথম দিনের এই বৈঠকে রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক অবস্থা, বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট এবং স্থানীয় সরকার ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডসহ নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিস্তারিত কথা হয়েছে। তৃণমূলের প্রকৃত চিত্র ও জনমতের ভিত্তিতেই আগামী নির্বাচনে প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া এগিয়ে চলেছে।
বৈঠক শেষে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ও পঞ্চগড় জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, বৈঠকে স্থানীয় সরকার, নির্বাচন ও সাংগঠনিক বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। নির্বাচনে অবশ্যই এককভাবে প্রার্থী ঠিক করতে হবে, আর সে বিষয়েই করণীয় নিয়ে কথা হয়েছে। উপজেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের মতামত নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নিজে, এবং তাদের মতের ভিত্তিতেই স্থির হবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রার্থী।
বৈঠকে অংশ নেওয়া ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আল্লামা ওয়াদুদ বিন নূর আলিফ কালবেলাকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সরাসরি বসার যে প্রত্যাশা ছিল তাদের, তা পূরণ হয়েছে। তিনি জানান, দলীয় নির্দেশনা অমান্য করে কেউ প্রার্থী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার সুস্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
দলীয় সূত্র বলছে, দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রেক্ষাপটে তৃণমূলকে আরও গতিশীল, ঐক্যবদ্ধ ও নির্বাচনমুখী করার এই উদ্যোগ আগামী দিনে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 





















