দক্ষিণ এশিয়ায় মৌসুমি বায়ুর দাপট ক্রমেই তীব্র হয়ে উঠছে। এর জেরে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটেছে, যাতে অন্তত ১৯ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। বার্তা সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, স্থানীয় সংবাদমাধ্যম ও সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। দুর্যোগ কবলিত এলাকাগুলোতে ইতিমধ্যে উদ্ধার অভিযান জোরদার করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য নাগাল্যান্ড এবং ভারত-শাসিত জম্মু ও কাশ্মীর। মিয়ানমার সীমান্তবর্তী নাগাল্যান্ডে প্রাণ হারিয়েছেন আটজন, আর জম্মু ও কাশ্মীরে মারা গেছেন ১১ জন। দুই অঞ্চল মিলিয়ে হতাহতের এই সংখ্যা উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলেছে কর্তৃপক্ষের মধ্যে।
নাগাল্যান্ডের মন জেলার ম্যাজিস্ট্রেট ওয়েনিয়েই কোনিয়াক গণমাধ্যমকে জানান, ‘আমরা আটটি মরদেহের মধ্যে চারটি ইতিমধ্যে উদ্ধার করতে পেরেছি এবং উদ্ধারকাজ এখনও চলমান রয়েছে।’ তিনি আরও জানান, এসব দুর্ঘটনায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন, যাদের চিকিৎসা চলছে।
অন্যদিকে জম্মু অঞ্চলের রাজৌরিতে আকস্মিক বন্যা যেন এক বিভীষিকাময় রূপ নিয়ে হাজির হয়েছে। জম্মু ও কাশ্মীরের মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লার কার্যালয় থেকে দেওয়া বিবৃতিতে এই দুর্যোগে গভীর শোক প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, বন্যার পানি বাস স্ট্যান্ডসহ সরকারি ও বেসরকারি বহু স্থাপনার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি করেছে এবং অসংখ্য মানুষের জীবনযাত্রা তছনছ করে দিয়েছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির প্রতিবেদন অনুযায়ী, জম্মুতে অন্তত ১১ জনের মৃত্যু নিশ্চিত হয়েছে, তবে এখনো বেশ কয়েকজনের কোনো হদিস মেলেনি। নিখোঁজদের সন্ধানে চলছে জোর তল্লাশি।
এই বিপর্যয়ের মধ্যেই আশার আলো হয়ে দেখা দিয়েছে উদ্ধারকারীদের তৎপরতা। ভারতীয় সেনাবাহিনী জানিয়েছে, জম্মুর রাজৌরি জেলায় সেনা সদস্য ও রাজ্যের জরুরি উদ্ধারকর্মীরা যৌথ প্রচেষ্টায় পাঁচ শিশুসহ মোট ১১ জনকে জীবিত উদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছেন। এই সাফল্য দুর্যোগ মোকাবিলায় নিয়োজিত বাহিনীর জন্য কিছুটা স্বস্তির বার্তা বয়ে এনেছে, যদিও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত।
এদিকে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তর রোববার নতুন করে সতর্কবার্তা জারি করেছে। তাদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দুই দিন জম্মু ও কাশ্মীরে অত্যন্ত ভারি বৃষ্টিপাত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলতে পারে।
এমন পরিস্থিতিতে সতর্কতামূলক পদক্ষেপ হিসেবে কর্তৃপক্ষ কাশ্মীর অঞ্চলের বার্ষিক হিন্দু অমরনাথ যাত্রা সাময়িকভাবে স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। স্থানীয় সরকার রোববার এক বিবৃতিতে জানায়, তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা ও কল্যাণের কথা বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবহাওয়ার উন্নতি হলে এবং যাত্রাপথ নিরাপদ বলে ঘোষিত হওয়ার পরই তীর্থযাত্রা পুনরায় শুরু করা হবে।
উল্লেখ্য, গত বছর এই মাসব্যাপী তীর্থযাত্রায় অংশ নিয়েছিলেন চার লাখেরও বেশি হিন্দু তীর্থযাত্রী। তাই এই স্থগিতাদেশ শুধু নিরাপত্তাজনিত সিদ্ধান্তই নয়, বরং লাখো মানুষের ধর্মীয় আবেগেরও সঙ্গে জড়িত একটি স্পর্শকাতর বিষয়।
সব মিলিয়ে, মৌসুমি বায়ুর এই দাপট ভারতের একাধিক রাজ্যে যে সংকট তৈরি করেছে, তা কাটিয়ে উঠতে সময় লাগবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। উদ্ধার অভিযান, আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং প্রশাসনিক প্রস্তুতি—এই তিনের সমন্বয়েই নির্ভর করছে আগামী দিনের পরিস্থিতি।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 




















