পিসিওএস ও ডিম্বাশয়ের সিস্ট নিয়ন্ত্রণে সহজ তিনটি যোগাসন

আধুনিক জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস আর কায়িক পরিশ্রমের অভাবে নারীদের মধ্যে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস-এর প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশেও চিকিৎসকরা বলছেন, শহরাঞ্চলে কর্মজীবী নারীদের মধ্যে এই সমস্যা ক্রমেই বেশি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রজননক্ষম বয়সের প্রতি পাঁচজন নারীর মধ্যে অন্তত একজন কোনো না কোনোভাবে এই হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছেন।
পিসিওএস মূলত একটি হরমোনের ভারসাম্যহীনতাজনিত রোগ। এতে ডিম্বাশয় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পুরুষ হরমোন বা অ্যান্ড্রোজেন উৎপাদন করে, যার ফলে ডিম্বাণু ঠিকমতো পরিপক্ব হতে পারে না এবং ডিম্বাশয়ের চারপাশে ছোট ছোট সিস্টের আস্তরণ জমতে থাকে। এর জেরে অনিয়মিত মাসিক, ওজন বৃদ্ধি, মুখে-শরীরে অতিরিক্ত লোম গজানো, চুল পড়া এবং মানসিক অস্থিরতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, ওষুধ ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা এই রোগ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন সকালে দ্রুত হাঁটা, জগিং বা সাইকেল চালানোর মতো কার্ডিও ব্যায়াম সবচেয়ে বেশি উপকারী বলে বিবেচিত হলেও, যাদের পক্ষে এসব সম্ভব নয়, তাদের জন্য যোগাসন হতে পারে চমৎকার বিকল্প।
জানুশীর্ষাসন: পা সামনে ছড়িয়ে বসে একটি পা ভাঁজ করে অন্য পায়ের ঊরুর সঙ্গে লাগাতে হয়। এরপর সোজা পায়ের বুড়ো আঙুল দুই হাতে ধরে সামনের দিকে ঝুঁকে কপাল হাঁটুর কাছে নিয়ে যেতে হয়। শ্বাস স্বাভাবিক রেখে ২০-৩০ সেকেন্ড এই ভঙ্গি ধরে রাখতে হবে।
নৌকাসন: পিঠের ওপর সোজা হয়ে শুয়ে শ্বাস নিতে নিতে মাথা, ঘাড় ও পা একসঙ্গে প্রায় ৪৫ ডিগ্রি কোণে তুলতে হয়, হাত দুটো সামনের দিকে সোজা রাখতে হয়। শরীরের ভার থাকে নিতম্বের ওপর।
গোমুখাসন: বসা অবস্থায় এক পা ভাঁজ করে অন্য পায়ের ওপর রেখে দুই হাঁটু কাছাকাছি আনতে হয়, এরপর দুই হাত পিঠের পেছনে নিয়ে গিয়ে একসঙ্গে ধরার চেষ্টা করতে হয়। স্ত্রীরোগজনিত সমস্যায় এই আসন বিশেষভাবে উপকারী বলে জানা যায়।
চিকিৎসকরা বলছেন, এসব আসন নিয়মিত অভ্যাস করলে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য হয় এবং ধীরে ধীরে সিস্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে। তবে যেকোনো নতুন ব্যায়াম শুরুর আগে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

সাকিবের ব্যাট-বলে ফের অলরাউন্ড ঝলক

২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

পিসিওএস ও ডিম্বাশয়ের সিস্ট নিয়ন্ত্রণে সহজ তিনটি যোগাসন

আপডেট সময় ০৫:২৮:১১ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

আধুনিক জীবনযাত্রা, অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাস আর কায়িক পরিশ্রমের অভাবে নারীদের মধ্যে পলিসিস্টিক ওভারি সিনড্রোম বা পিসিওএস-এর প্রকোপ দিন দিন বাড়ছে। বাংলাদেশেও চিকিৎসকরা বলছেন, শহরাঞ্চলে কর্মজীবী নারীদের মধ্যে এই সমস্যা ক্রমেই বেশি দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশ প্রজনন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রজননক্ষম বয়সের প্রতি পাঁচজন নারীর মধ্যে অন্তত একজন কোনো না কোনোভাবে এই হরমোনজনিত সমস্যায় ভুগছেন।
পিসিওএস মূলত একটি হরমোনের ভারসাম্যহীনতাজনিত রোগ। এতে ডিম্বাশয় স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পুরুষ হরমোন বা অ্যান্ড্রোজেন উৎপাদন করে, যার ফলে ডিম্বাণু ঠিকমতো পরিপক্ব হতে পারে না এবং ডিম্বাশয়ের চারপাশে ছোট ছোট সিস্টের আস্তরণ জমতে থাকে। এর জেরে অনিয়মিত মাসিক, ওজন বৃদ্ধি, মুখে-শরীরে অতিরিক্ত লোম গজানো, চুল পড়া এবং মানসিক অস্থিরতার মতো উপসর্গ দেখা দেয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শ, ওষুধ ও নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি নিয়মিত শরীরচর্চা এই রোগ নিয়ন্ত্রণে বড় ভূমিকা রাখে। প্রতিদিন সকালে দ্রুত হাঁটা, জগিং বা সাইকেল চালানোর মতো কার্ডিও ব্যায়াম সবচেয়ে বেশি উপকারী বলে বিবেচিত হলেও, যাদের পক্ষে এসব সম্ভব নয়, তাদের জন্য যোগাসন হতে পারে চমৎকার বিকল্প।
জানুশীর্ষাসন: পা সামনে ছড়িয়ে বসে একটি পা ভাঁজ করে অন্য পায়ের ঊরুর সঙ্গে লাগাতে হয়। এরপর সোজা পায়ের বুড়ো আঙুল দুই হাতে ধরে সামনের দিকে ঝুঁকে কপাল হাঁটুর কাছে নিয়ে যেতে হয়। শ্বাস স্বাভাবিক রেখে ২০-৩০ সেকেন্ড এই ভঙ্গি ধরে রাখতে হবে।
নৌকাসন: পিঠের ওপর সোজা হয়ে শুয়ে শ্বাস নিতে নিতে মাথা, ঘাড় ও পা একসঙ্গে প্রায় ৪৫ ডিগ্রি কোণে তুলতে হয়, হাত দুটো সামনের দিকে সোজা রাখতে হয়। শরীরের ভার থাকে নিতম্বের ওপর।
গোমুখাসন: বসা অবস্থায় এক পা ভাঁজ করে অন্য পায়ের ওপর রেখে দুই হাঁটু কাছাকাছি আনতে হয়, এরপর দুই হাত পিঠের পেছনে নিয়ে গিয়ে একসঙ্গে ধরার চেষ্টা করতে হয়। স্ত্রীরোগজনিত সমস্যায় এই আসন বিশেষভাবে উপকারী বলে জানা যায়।
চিকিৎসকরা বলছেন, এসব আসন নিয়মিত অভ্যাস করলে হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য হয় এবং ধীরে ধীরে সিস্ট হওয়ার ঝুঁকি কমে। তবে যেকোনো নতুন ব্যায়াম শুরুর আগে চিকিৎসক বা প্রশিক্ষকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো।

Share this news as a Photo Card