জুলাইয়ে রেমিট্যান্স বাড়ল ২০ শতাংশ, এলো ৩১ হাজার কোটি টাকা

চলতি জুলাই মাসে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ উল্লেখযোগ্য গতি পেয়েছে। মাসের প্রথম ২৭ দিনেই ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে ২৫২ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় প্রায় ৩১ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। ডলারের বিনিময় হার হিসাব করা হয়েছে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে।
মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি জানান, সোমবার একদিনেই দেশে এসেছে আট কোটি ৭০ লাখ ডলার, স্থানীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৭০ কোটি ১০ লাখ টাকা।
পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের জুলাই মাসের একই সময়ে অর্থাৎ প্রথম ২৭ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ২০ শতাংশ, যা অর্থনীতির জন্য স্বস্তির খবর হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মূলত ঈদুল আজহা পরবর্তী সময়ে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর প্রবণতা কিছুটা কমলেও, চলতি জুলাইয়ে তা ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খোলা বাজারের সঙ্গে ব্যাংকিং চ্যানেলের ডলার রেটের ব্যবধান কমে আসায় প্রবাসীরা এখন বৈধ পথেই বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। পাশাপাশি সরকারের প্রণোদনা এবং বিভিন্ন ব্যাংকের প্রচারণাও এক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলেও এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর আগে জুলাইয়ের ২৬ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৯ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা, আর ২৫ দিনে এই অঙ্ক ছিল ২৮ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিদিনই ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ডলার সংকটের মধ্যে প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক প্রবাহ আমদানি ব্যয় মেটাতে এবং টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জুলাই মাস শেষ হতে এখনও কয়েক দিন বাকি থাকায়, মাসিক হিসাবে এবার রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই ধারা অব্যাহত থাকলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য সুখবর বয়ে আনবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

পলিথিন বন্ধে কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর

২৭ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

জুলাইয়ে রেমিট্যান্স বাড়ল ২০ শতাংশ, এলো ৩১ হাজার কোটি টাকা

আপডেট সময় ০৯:৪০:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

চলতি জুলাই মাসে দেশে প্রবাসী আয়ের প্রবাহ উল্লেখযোগ্য গতি পেয়েছে। মাসের প্রথম ২৭ দিনেই ব্যাংকিং চ্যানেলে এসেছে ২৫২ কোটি ৪০ লাখ মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় প্রায় ৩১ হাজার ৪৫ কোটি টাকা। ডলারের বিনিময় হার হিসাব করা হয়েছে প্রতি ডলার ১২৩ টাকা ধরে।
মঙ্গলবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি জানান, সোমবার একদিনেই দেশে এসেছে আট কোটি ৭০ লাখ ডলার, স্থানীয় মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় এক হাজার ৭০ কোটি ১০ লাখ টাকা।
পরিসংখ্যান বলছে, গত বছরের জুলাই মাসের একই সময়ে অর্থাৎ প্রথম ২৭ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ২০৯ কোটি ৯০ লাখ ডলার। সেই হিসাবে বছরের ব্যবধানে প্রবাসী আয় বেড়েছে ২০ দশমিক ২০ শতাংশ, যা অর্থনীতির জন্য স্বস্তির খবর হিসেবেই দেখা হচ্ছে।
মূলত ঈদুল আজহা পরবর্তী সময়ে প্রবাসীদের অর্থ পাঠানোর প্রবণতা কিছুটা কমলেও, চলতি জুলাইয়ে তা ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। ব্যাংকিং খাত সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, খোলা বাজারের সঙ্গে ব্যাংকিং চ্যানেলের ডলার রেটের ব্যবধান কমে আসায় প্রবাসীরা এখন বৈধ পথেই বেশি অর্থ পাঠাচ্ছেন। পাশাপাশি সরকারের প্রণোদনা এবং বিভিন্ন ব্যাংকের প্রচারণাও এক্ষেত্রে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত কয়েক দিনের পরিসংখ্যান পর্যালোচনা করলেও এই ঊর্ধ্বমুখী ধারা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। এর আগে জুলাইয়ের ২৬ দিনে রেমিট্যান্স এসেছিল ২৯ হাজার ৯৭৫ কোটি টাকা, আর ২৫ দিনে এই অঙ্ক ছিল ২৮ হাজার ২৮৩ কোটি টাকা। অর্থাৎ প্রতিদিনই ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে প্রবাসী আয়ের পরিমাণ।
অর্থনীতিবিদদের মতে, রেমিট্যান্সের এই ধারাবাহিক প্রবৃদ্ধি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। ডলার সংকটের মধ্যে প্রবাসী আয়ের এই ইতিবাচক প্রবাহ আমদানি ব্যয় মেটাতে এবং টাকার বিনিময় হার স্থিতিশীল রাখতে সহায়ক হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের শুরু থেকেই রেমিট্যান্স প্রবাহে ইতিবাচক প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। জুলাই মাস শেষ হতে এখনও কয়েক দিন বাকি থাকায়, মাসিক হিসাবে এবার রেমিট্যান্সের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আগামী দিনগুলোতে এই ধারা অব্যাহত থাকলে তা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য সুখবর বয়ে আনবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা

Share this news as a Photo Card