দক্ষিণ আফ্রিকায় দোকানে আগুন লেগে ছয় বাংলাদেশির মৃত্যু

দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলীয় ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন এলাকায় একটি দোকানে ভয়াবহ আগুন লেগে ছয়জন বাংলাদেশি প্রবাসী মারা গেছেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় আরও একজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন
স্থানীয় সময় সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে কুইন্সটাউন থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরের একটি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, দোকানের ভেতরেই একটি আবাসিক কক্ষ ছিল, যেখানে সাতজন বাংলাদেশি ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়লে তাঁদের মধ্যে ছয়জন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। বাকি একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তিনি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। তাঁরা হলেন মো. ফয়সাল (২৫), মো. ফাহিম (২৮), শামীম হাসান (৩০) এবং মোহাম্মদ আপন (২৪)। বাকি দুইজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ এখনো চলছে। জানা গেছে, নিহত সবার বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলায়।
আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের বেলা দোকানের ভেতরের আবাসিক কক্ষ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে, যা মুহূর্তের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় হতাহতরা আগুন থেকে বাঁচার তেমন সুযোগ পাননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশটিতে সক্রিয় বিভিন্ন প্রবাসী সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে শোকবার্তা দিয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। প্রবাসীদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমানো বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ ছোট ছোট দোকান বা ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং প্রায়ই নিরাপত্তার কারণে সেই দোকানের ভেতরেই রাত্রিযাপন করেন। এর আগেও দেশটিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের দোকানে ডাকাতি ও সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটেছে, তবে অগ্নিকাণ্ডে এত বড় সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বিরল বলে মনে করছেন প্রবাসীরা।
বাংলাদেশ সরকার বা স্থানীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

পলিথিন বন্ধে কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর

২৭ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

দক্ষিণ আফ্রিকায় দোকানে আগুন লেগে ছয় বাংলাদেশির মৃত্যু

আপডেট সময় ০৫:০২:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্বাঞ্চলীয় ইস্টার্ন কেপ প্রদেশের কুইন্সটাউন এলাকায় একটি দোকানে ভয়াবহ আগুন লেগে ছয়জন বাংলাদেশি প্রবাসী মারা গেছেন। গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় আরও একজনকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছেন
স্থানীয় সময় সোমবার দিবাগত রাত আনুমানিক তিনটার দিকে কুইন্সটাউন থেকে প্রায় দেড়শ কিলোমিটার দূরের একটি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে। জানা গেছে, দোকানের ভেতরেই একটি আবাসিক কক্ষ ছিল, যেখানে সাতজন বাংলাদেশি ঘুমিয়ে ছিলেন। গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের শিখা ছড়িয়ে পড়লে তাঁদের মধ্যে ছয়জন ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। বাকি একজনকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও তিনি মারাত্মকভাবে দগ্ধ হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে চারজনের পরিচয় ইতিমধ্যে নিশ্চিত হয়েছে। তাঁরা হলেন মো. ফয়সাল (২৫), মো. ফাহিম (২৮), শামীম হাসান (৩০) এবং মোহাম্মদ আপন (২৪)। বাকি দুইজনের পরিচয় শনাক্তের কাজ এখনো চলছে। জানা গেছে, নিহত সবার বাড়ি বাংলাদেশের নারায়ণগঞ্জ জেলায়।
আগুন লাগার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো জানা যায়নি। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বলে জানা গেছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, রাতের বেলা দোকানের ভেতরের আবাসিক কক্ষ থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে, যা মুহূর্তের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। ঘুমন্ত অবস্থায় থাকায় হতাহতরা আগুন থেকে বাঁচার তেমন সুযোগ পাননি বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়ার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দেশটিতে সক্রিয় বিভিন্ন প্রবাসী সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন নিহতদের আত্মার শান্তি কামনা করে শোকবার্তা দিয়েছে এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়েছে। প্রবাসীদের অনেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করে নিহতদের মরদেহ দ্রুত দেশে পাঠানোর দাবি জানিয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় জীবিকার সন্ধানে পাড়ি জমানো বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ ছোট ছোট দোকান বা ব্যবসা পরিচালনা করেন এবং প্রায়ই নিরাপত্তার কারণে সেই দোকানের ভেতরেই রাত্রিযাপন করেন। এর আগেও দেশটিতে বাংলাদেশি প্রবাসীদের দোকানে ডাকাতি ও সহিংসতার একাধিক ঘটনা ঘটেছে, তবে অগ্নিকাণ্ডে এত বড় সংখ্যক প্রাণহানির ঘটনা সাম্প্রতিক সময়ে বিরল বলে মনে করছেন প্রবাসীরা।
বাংলাদেশ সরকার বা স্থানীয় দূতাবাসের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি পাওয়া যায়নি। তবে নিহতদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানা গেছে। ঘটনার আরও বিস্তারিত তথ্য জানার চেষ্টা চলছে।

Share this news as a Photo Card