পলিথিন বন্ধে কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর

নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট পরিদর্শনকালে পলিথিনবিরোধী এক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি মার্কেটের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পলিথিনের বদলে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারের আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন বন্ধে সরকার ইতোমধ্যে আইন প্রণয়ন করেছে। এখন প্রয়োজন সেই আইনের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করা। তিনি জানান, শুরুতে মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে পলিথিন ব্যবহার থেকে বিরত রাখার চেষ্টা চলছে। তবে এতে কাজ না হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে সরকার।
পরিবেশের ওপর নিষিদ্ধ পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি মাটি, পানি, বায়ু ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবেও তিনি পলিথিনকে চিহ্নিত করেন। এ সমস্যা নিরসনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী নিষিদ্ধ পলিথিন মজুত, বিক্রি কিংবা সরবরাহ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পাট, কাপড় ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য অন্যান্য পরিবেশবান্ধব উপকরণে তৈরি ব্যাগের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেন। তিনি জানান, বাজার পরিদর্শন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত চলবে, পাশাপাশি অব্যাহত থাকবে আইনি ব্যবস্থাও।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ছয় মাসে সারাদেশে পলিথিনবিরোধী ১৬৮টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে, যাতে মোট ২০৬টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব অভিযানে ১৯ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টনের অধিক নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়েছে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব বাজারের ব্যাগ বিতরণ করেন। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

পলিথিন বন্ধে কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর

২৭ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

পলিথিন বন্ধে কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর

আপডেট সময় ০৫:০৯:৪৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৭ জুলাই ২০২৬

নিষিদ্ধ পলিথিনের ব্যবহার বন্ধে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট আইনের কঠোর প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম।
সোমবার রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট পরিদর্শনকালে পলিথিনবিরোধী এক সচেতনতামূলক কর্মসূচিতে যোগ দিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি মার্কেটের ব্যবসায়ী ও ক্রেতাসাধারণের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং পলিথিনের বদলে পরিবেশবান্ধব ব্যাগ ব্যবহারের আহ্বান জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার প্রেক্ষিতে একবার ব্যবহারযোগ্য পলিথিন বন্ধে সরকার ইতোমধ্যে আইন প্রণয়ন করেছে। এখন প্রয়োজন সেই আইনের বাস্তব প্রয়োগ নিশ্চিত করা। তিনি জানান, শুরুতে মানুষকে সচেতন করার মাধ্যমে পলিথিন ব্যবহার থেকে বিরত রাখার চেষ্টা চলছে। তবে এতে কাজ না হলে কঠোর ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবে সরকার।
পরিবেশের ওপর নিষিদ্ধ পলিথিনের ক্ষতিকর প্রভাব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি মাটি, পানি, বায়ু ও জীববৈচিত্র্যের জন্য মারাত্মক হুমকিস্বরূপ। শহরাঞ্চলে জলাবদ্ধতার অন্যতম কারণ হিসেবেও তিনি পলিথিনকে চিহ্নিত করেন। এ সমস্যা নিরসনে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে প্রতিমন্ত্রী নিষিদ্ধ পলিথিন মজুত, বিক্রি কিংবা সরবরাহ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান। পাশাপাশি পাট, কাপড় ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য অন্যান্য পরিবেশবান্ধব উপকরণে তৈরি ব্যাগের ব্যবহার বাড়ানোর পরামর্শ দেন। তিনি জানান, বাজার পরিদর্শন ও সচেতনতামূলক কার্যক্রম নিয়মিত চলবে, পাশাপাশি অব্যাহত থাকবে আইনি ব্যবস্থাও।
পরিসংখ্যান তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী জানান, গত ছয় মাসে সারাদেশে পলিথিনবিরোধী ১৬৮টি মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়েছে, যাতে মোট ২০৬টি মামলা দায়ের করা হয়। এসব অভিযানে ১৯ লাখ টাকার বেশি জরিমানা আদায় এবং ৫০ হাজার মেট্রিক টনের অধিক নিষিদ্ধ পলিথিন জব্দ করা হয়েছে।
কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী ক্রেতা-বিক্রেতাদের মধ্যে পরিবেশবান্ধব বাজারের ব্যাগ বিতরণ করেন। এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card