হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯০৪

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গজনিত কারণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৮২৮ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক স্বাস্থ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত একদিনে নতুন করে আরও ৯০৪ জনের শরীরে হাম কিংবা এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে দুটি ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে, আর একটি রাজশাহী বিভাগে। এই হিসাবে হামের উপসর্গে সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এখন ৭৩৩ জন। তবে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হামে মৃত্যুর সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে, যা ৯৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, ১৫ মার্চ থেকে ২৮ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে সারা দেশে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৪ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে পরীক্ষা করে ১৫ হাজার ৬৬০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে।
একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪১ জন রোগী। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ লাখ ৪ হাজার ২৩৫ জন।
এর আগের কয়েক দিনেও একই ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গিয়েছিল। ২৭ জুলাই আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যুর কথা জানানো হয়, ২৬ জুলাই চার জনের মৃত্যু ও ১ হাজার ১৬০ জন নতুন আক্রান্তের তথ্য আসে, আর ২৫ জুলাই আরও ছয়জনের মৃত্যু ও ৬৯১ জন নতুন রোগী শনাক্তের খবর প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হওয়া এবং মৃত্যুর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, শিশুদের সময়মতো টিকা না দেওয়া এবং সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ না নেওয়াই এই প্রাদুর্ভাব দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম কারণ। মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শনাক্ত রোগীর তুলনায় সুস্থতার হার তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হলেও মৃত্যুর সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে, শিশুদের জ্বর, র‌্যাশ বা অন্য কোনো সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে। পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার গুরুত্বও নতুন করে তুলে ধরা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

পলিথিন বন্ধে কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর

২৭ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

হামের উপসর্গে আরও তিন শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ৯০৪

আপডেট সময় ০৪:১৫:৫৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিনটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হাম ও এর উপসর্গজনিত কারণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ৮২৮ জনে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) এক স্বাস্থ্য সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, গত একদিনে নতুন করে আরও ৯০৪ জনের শরীরে হাম কিংবা এর উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে।
সাম্প্রতিক মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে দুটি ঘটেছে চট্টগ্রাম বিভাগে, আর একটি রাজশাহী বিভাগে। এই হিসাবে হামের উপসর্গে সব মিলিয়ে মৃত্যুর সংখ্যা এখন ৭৩৩ জন। তবে পরীক্ষাগারে নিশ্চিত হওয়া হামে মৃত্যুর সংখ্যা অপরিবর্তিত রয়েছে, যা ৯৫ জন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব বলছে, ১৫ মার্চ থেকে ২৮ জুলাই সকাল ৮টা পর্যন্ত সময়ে সারা দেশে মোট ১ লাখ ২৫ হাজার ৫৪৪ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন। এদের মধ্যে পরীক্ষা করে ১৫ হাজার ৬৬০ জনের শরীরে হাম নিশ্চিত হয়েছে।
একই সময়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৮ হাজার ৪৪১ জন রোগী। এর মধ্যে সুস্থ হয়ে ইতিমধ্যে বাড়ি ফিরে গেছেন ১ লাখ ৪ হাজার ২৩৫ জন।
এর আগের কয়েক দিনেও একই ধরনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গিয়েছিল। ২৭ জুলাই আরও পাঁচ শিশুর মৃত্যুর কথা জানানো হয়, ২৬ জুলাই চার জনের মৃত্যু ও ১ হাজার ১৬০ জন নতুন আক্রান্তের তথ্য আসে, আর ২৫ জুলাই আরও ছয়জনের মৃত্যু ও ৬৯১ জন নতুন রোগী শনাক্তের খবর প্রকাশিত হয়। অর্থাৎ প্রতিদিনই নতুন রোগী শনাক্ত হওয়া এবং মৃত্যুর ধারাবাহিকতা অব্যাহত রয়েছে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরেই সতর্ক করে আসছেন, শিশুদের সময়মতো টিকা না দেওয়া এবং সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ না নেওয়াই এই প্রাদুর্ভাব দীর্ঘায়িত হওয়ার অন্যতম কারণ। মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, শনাক্ত রোগীর তুলনায় সুস্থতার হার তুলনামূলক স্বস্তিদায়ক হলেও মৃত্যুর সংখ্যা এখনও উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর অভিভাবকদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছে, শিশুদের জ্বর, র‌্যাশ বা অন্য কোনো সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে যোগাযোগ করতে। পাশাপাশি টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার গুরুত্বও নতুন করে তুলে ধরা হয়েছে।

Share this news as a Photo Card