কিউশুতে ভূমিকম্প, শপিংমল ধসে নিখোঁজ ৩০

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ কিউশুতে আঘাত হেনেছে ৭ দশমিক ১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে কুমামোটো শহরের একটি জনপ্রিয় শপিংমলের দ্বিতীয় তলার একাংশ ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির দমকল বিভাগ। ঘটনার পরপরই মলের ভেতরে বহু মানুষ আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
বিবিসির বরাত দিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধসে পড়া অংশে কর্মরত প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন কর্মীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকেলে, ঠিক ৪টা ২৭ মিনিটে কিউশু দ্বীপের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। কম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এর প্রভাব পড়ে। হাজার হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি অঞ্চলটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতাকে জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতির একটি ঊর্ধ্বাকাশ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, কম্পনের আঘাতে একটি পথচারী সেতু (ফুটওভার ব্রিজ) সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে। তবে বিস্ময়করভাবে, ওই ধসে পড়া সেতুর ঠিক পাশ দিয়ে যাওয়া মূল সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিকভাবেই অব্যাহত রয়েছে, যা ভূমিকম্পের ভয়াবহতা ও এলোমেলো ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরছে।
উল্লেখ্য, ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত জাপানে চলতি বছরে এর আগেও বড় ধরনের কম্পনের ঘটনা ঘটেছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগে, গত ১৯ জুলাই আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর একটি শপিংমলে বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছিলেন। ঘন ঘন এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হলেও কঠোর নির্মাণবিধি ও প্রস্তুতির কারণে জাপান সাধারণত বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে সক্ষম হয়। তবে সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি এবং নিখোঁজদের সংখ্যা দেখে ধারণা করা যায়, এবারের কম্পনের তীব্রতা ছিল যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
কর্তৃপক্ষ এখন উদ্ধার অভিযান জোরদারের পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে কাজ করছে। বিদ্যুৎ ও সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টাও চলছে সমান্তরালভাবে। স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং পরবর্তী কম্পনের (আফটারশক) ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে বলেও জানানো

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

পলিথিন বন্ধে কঠোর হওয়ার হুঁশিয়ারি প্রতিমন্ত্রীর

২৭ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

কিউশুতে ভূমিকম্প, শপিংমল ধসে নিখোঁজ ৩০

আপডেট সময় ০৯:২৪:১৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলীয় দ্বীপ কিউশুতে আঘাত হেনেছে ৭ দশমিক ১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প। এতে কুমামোটো শহরের একটি জনপ্রিয় শপিংমলের দ্বিতীয় তলার একাংশ ধসে পড়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির দমকল বিভাগ। ঘটনার পরপরই মলের ভেতরে বহু মানুষ আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
বিবিসির বরাত দিয়ে জানা গেছে, স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ধসে পড়া অংশে কর্মরত প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন কর্মীর কোনো খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। তবে নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত থাকায় সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
স্থানীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার বিকেলে, ঠিক ৪টা ২৭ মিনিটে কিউশু দ্বীপের অভ্যন্তরীণ অঞ্চলে এই ভূমিকম্পটি অনুভূত হয়। কম্পনের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এর প্রভাব পড়ে। হাজার হাজার বাড়িতে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে, ফলে দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাশাপাশি অঞ্চলটির একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সড়ক মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতাকে জটিল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দুর্যোগ পরবর্তী পরিস্থিতির একটি ঊর্ধ্বাকাশ থেকে তোলা ছবিতে দেখা গেছে, কম্পনের আঘাতে একটি পথচারী সেতু (ফুটওভার ব্রিজ) সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে। তবে বিস্ময়করভাবে, ওই ধসে পড়া সেতুর ঠিক পাশ দিয়ে যাওয়া মূল সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিকভাবেই অব্যাহত রয়েছে, যা ভূমিকম্পের ভয়াবহতা ও এলোমেলো ক্ষয়ক্ষতির চিত্র তুলে ধরছে।
উল্লেখ্য, ভূমিকম্পপ্রবণ দেশ হিসেবে পরিচিত জাপানে চলতি বছরে এর আগেও বড় ধরনের কম্পনের ঘটনা ঘটেছে। এর মাত্র কয়েক দিন আগে, গত ১৯ জুলাই আরেকটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর একটি শপিংমলে বিস্ফোরণের ঘটনায় প্রায় ৫০ জন আহত হয়েছিলেন। ঘন ঘন এমন প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখোমুখি হলেও কঠোর নির্মাণবিধি ও প্রস্তুতির কারণে জাপান সাধারণত বড় ধরনের প্রাণহানি এড়াতে সক্ষম হয়। তবে সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্পের ক্ষয়ক্ষতি এবং নিখোঁজদের সংখ্যা দেখে ধারণা করা যায়, এবারের কম্পনের তীব্রতা ছিল যথেষ্ট উদ্বেগজনক।
কর্তৃপক্ষ এখন উদ্ধার অভিযান জোরদারের পাশাপাশি ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত চিত্র নিরূপণে কাজ করছে। বিদ্যুৎ ও সড়ক যোগাযোগ পুনঃস্থাপনের চেষ্টাও চলছে সমান্তরালভাবে। স্থানীয় প্রশাসন বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার এবং পরবর্তী কম্পনের (আফটারশক) ব্যাপারে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হবে বলেও জানানো

Share this news as a Photo Card