দেশের অন্যতম বৃহৎ দুগ্ধজাত পণ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটা তাদের দুধের দাম লিটারপ্রতি দশ টাকা বাড়িয়েছে। গত ৫ আগস্ট থেকে এই নতুন মূল্য কার্যকর হয়েছে এবং দোকানগুলোতে এখন বর্ধিত দামেই পণ্যটি বিক্রি হচ্ছে। হঠাৎ এই মূল্যবৃদ্ধিতে সাধারণ ক্রেতাদের মধ্যে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। তবে উৎপাদন প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড বলছে, সার্বিক ব্যয় উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাওয়ায় দাম সমন্বয় ছাড়া উপায় ছিল না।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রান্তিক খামারিদের কাছ থেকে দুধ সংগ্রহ এবং তা প্রক্রিয়াজাত করার খরচ—দুই ক্ষেত্রেই বড় ধরনের বৃদ্ধি ঘটেছে। এর ধারাবাহিকতায় গত ১ আগস্ট থেকে খামারি পর্যায়ে দুধ কেনার দামও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে আশপাশের বাজারে অন্যান্য কোম্পানির দুধের দামে কোনো পরিবর্তন আসেনি বলে জানিয়েছেন বিক্রেতারা, ফলে মিল্কভিটার এই সিদ্ধান্ত এককভাবেই আলোচনায় এসেছে।
মূল্যবৃদ্ধির পেছনে একাধিক কারণ তুলে ধরেছে প্রতিষ্ঠানটি। তাদের ভাষ্যমতে, দুধ প্যাকেজিংয়ের প্রয়োজনীয় সামগ্রী থেকে শুরু করে গোখাদ্যসহ প্রায় সব উপকরণের দামই বেড়ে গেছে। পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে জ্বালানি তেল, গ্যাস এবং বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাবও পড়েছে তাদের সামগ্রিক উৎপাদন ব্যয়ে। দীর্ঘদিন ধরেই খামারিরা দুধের ন্যায্য দাম পাওয়ার দাবি জানিয়ে আসছিলেন, যা এবারের সিদ্ধান্তে গুরুত্ব পেয়েছে বলে জানা গেছে। সবকিছু পর্যালোচনা করেই কর্তৃপক্ষ এই মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তে পৌঁছেছে বলে জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান এস এম আমীর হামজা শাতিল।
তিনি জানান, প্রতি লিটার দুধ উৎপাদনে খরচ বেড়েছে প্রায় এগারো থেকে সাড়ে এগারো টাকা পর্যন্ত। এই বাড়তি ব্যয়ের হিসাব কষেই প্রতিষ্ঠানকে লাভজনক রাখা কিংবা অন্তত আর্থিক ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনে দুধের দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
চেয়ারম্যানের ভাষ্যে আরও উঠে আসে, কারখানার বিদ্যুৎ বিল লক্ষণীয়ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, একই সঙ্গে গ্যাস সরবরাহে ঘাটতির কারণে বিকল্প হিসেবে এলপিজি ব্যবহার করতে গিয়ে বাড়তি খরচ গুনতে হচ্ছে। জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে পণ্য পরিবহনের খরচেও, যা সামগ্রিক ব্যয়ের চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
এসবের বাইরে খামারিদের স্বার্থ রক্ষার বিষয়টিও এই সিদ্ধান্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। চেয়ারম্যান জানান, বেসরকারি কোম্পানিগুলো তুলনামূলক বেশি দাম দিয়ে খামারিদের কাছ থেকে দুধ কিনে নেওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির নিজস্ব দুধ সংগ্রহের পরিমাণ ক্রমাগত কমে যাচ্ছিল। এই প্রবণতা ঠেকিয়ে সরবরাহ ধরে রাখতে খামারি পর্যায়ে প্রতি লিটার দুধের দাম তিন টাকা বাড়ানো হয়েছে।
সব মিলিয়ে বাড়তি উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি ও বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি এবং খামারিদের স্বার্থরক্ষার বিবেচনা—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনায় নিয়েই মিল্কভিটা দুধের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। এখন থেকে বাজারে নতুন দামেই মিলবে এই দুগ্ধজাত পণ্যটি।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















