মাতৃত্বের সময়টা এখন আর শুধু বয়সের ওপর নির্ভর করে না—চিকিৎসাবিজ্ঞান একে কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আনার সুযোগ দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে অনেক নারীই পেশাগত কারণে বা উপযুক্ত সঙ্গীর অপেক্ষায় মা হওয়া পিছিয়ে দিচ্ছেন, আর সে সিদ্ধান্তের সঙ্গী হয়ে উঠেছে ডিম্বাণু বা ভ্রূণ সংরক্ষণের প্রযুক্তি। একাধিক বিদেশি তারকা সম্প্রতি প্রকাশ্যে নিজেদের ডিম্বাণু সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন, যা এই বিষয় নিয়ে নতুন করে আলোচনা উস্কে দিয়েছে। বাংলাদেশেও ঢাকাসহ বিভিন্ন শহরের ফার্টিলিটি সেন্টারে এখন আইভিএফ ও সংশ্লিষ্ট সেবা পাওয়া যাচ্ছে, যদিও ডিম্বাণু বা ভ্রূণ ফ্রিজিংয়ের প্রচলন এখনও তুলনামূলক সীমিত।
চিকিৎসকদের ভাষ্যমতে, নারীর শরীরে জন্ম থেকেই নির্দিষ্টসংখ্যক ডিম্বাণু থাকে, যা বয়সের সঙ্গে কমতে থাকে। সাধারণত ৩০ বছর পর ডিম্বাণুর সংখ্যা ও মান কমতে শুরু করে, আর ৩৫ পেরোলে গর্ভধারণের সম্ভাবনা দ্রুত কমে যায়। এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই অনেকে আগে থেকেই ডিম্বাণু বা ভ্রূণ জমিয়ে রাখার পথ বেছে নিচ্ছেন।
কার জন্য কোনটি উপযুক্ত
চিকিৎসকদের মতে, যেসব নারী এখনো বিয়ে করেননি বা সন্তান নেওয়ার সিদ্ধান্ত পরে নিতে চান, তাদের জন্য ডিম্বাণু সংরক্ষণ ভালো বিকল্প। ক্যানসার চিকিৎসা, পিসিওএস, এন্ডোমেট্রিওসিস কিংবা পরিবারে অল্প বয়সে রজোনিবৃত্তির ইতিহাস থাকলেও এটি কার্যকর হতে পারে। অন্যদিকে, বিবাহিত দম্পতি যারা এখন সন্তান চান না কিন্তু ভবিষ্যতে চান, অথবা যাদের ক্ষেত্রে স্বামী বা স্ত্রীর উর্বরতা কমছে, তাদের জন্য ভ্রূণ সংরক্ষণ তুলনামূলক নিরাপদ ও কার্যকর বলে মনে করা হয়। জিনগত রোগের ঝুঁকি থাকলে ভ্রূণ তৈরির পর জিনগত স্ক্রিনিং করেও সুস্থ ভ্রূণ বেছে রাখা সম্ভব।
পদ্ধতি ও ঝুঁকি
ডিম্বাণু সংরক্ষণের প্রক্রিয়া তুলনামূলক জটিল। হরমোন ইনজেকশনের মাধ্যমে ডিম্বাশয়ে একাধিক ডিম্বাণু পরিপক্ব করে বিশেষ কৌশলে সংগ্রহ করা হয়, এরপর ‘ভিট্রিফিকেশন’ পদ্ধতিতে তরল নাইট্রোজেনে হিমাঙ্কের নিচে সংরক্ষণ করা হয়। বিপরীতে ভ্রূণ সংরক্ষণে ডিম্বাণু ও শুক্রাণু একত্রে নিষিক্ত করে ভ্রূণ তৈরি করা হয়, যা দীর্ঘদিন অক্ষত থাকার সম্ভাবনা বেশি। চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ, আধুনিক ভিট্রিফিকেশন পদ্ধতিতে সংরক্ষিত ডিম্বাণু বা ভ্রূণ প্রায় ৯০-৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে সুরক্ষিত থাকে।
খরচ কেমন
ভারতে এই ধরনের চিকিৎসার খরচ প্রতি সাইকেলে দেড় থেকে আড়াই লাখ রুপির মতো পড়ে, আর প্রতি বছর সংরক্ষণ বাবদ অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হয়। বাংলাদেশেও ঢাকার কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতাল ও ফার্টিলিটি সেন্টারে আইভিএফ-সংশ্লিষ্ট সেবা মেলে, তবে খরচ নির্ভর করে হাসপাতাল, সংরক্ষণের মেয়াদ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষার ওপর। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অবশ্যই একজন প্রজনন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে পরামর্শ করে নিজের শারীরিক অবস্থা যাচাই করে নেওয়া উচিত।
শিরোনাম :
দেরিতে মা হতে চাইলে ডিম্বাণু না ভ্রূণ সংরক্ষণ, কোনটি ভালো?
-
চলমান বার্তা ডেস্ক : - আপডেট সময় ০১:৫৬:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬
- 7
ট্যাগস
খরচ ও উপযুক্ততা। দেরিতে মা হওয়ার পরিকল্পনা করছেন? জেনে নিন ডিম্বাণু বনাম ভ্রূণ সংরক্ষণের পার্থক্য
জনপ্রিয় সংবাদ


























