মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগদানে করলে “লাভ ও ঝুঁকি”

২০২৬ সালের ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি (Mecca Joint Defense Agreement)-তে সৌদি আরব প্রধান আর্থিক ও রাজনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে (সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান) ঘোষণা করা হয়েছে যে, যেকোনো এক দেশের ওপর হামলা মানে তিন দেশের ওপরই হামলা। মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মার্কিন নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা কমানো এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অর্জনই রিয়াদের মূল লক্ষ্য। সৌদি আরব তার বিশাল আর্থিক সম্পদ, বিনিয়োগ ক্ষমতা এবং তেল সরবরাহের শক্তির মাধ্যমে এই জোটের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোর খাদেম হিসেবে সৌদি আরবের যে নরম শক্তি (soft power) ও ধর্মীয় গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তা পুরো মুসলিম বিশ্বে এই জোটকে বিশেষ ভূরাজনৈতিক প্রভাব ও বৈধতা এনে দিয়েছে। এককভাবে মার্কিন বা বাইরের শক্তির ওপর শতভাগ নির্ভর না করে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর (তুরস্কের ড্রোন ও সামরিক প্রযুক্তি এবং পাকিস্তানের পেশাদার বাহিনী ও পারমাণবিক সক্ষমতা) সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে এবং ইসরায়েল বা ইরানের প্রভাবে উদ্ভূত কৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রিয়াদ এখন অনেক বেশি আত্মনির্ভরশীল ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট ও উপকূলীয় অবকাঠামো সুরক্ষায় ত্রিদেশীয় নৌ-সমন্বয় সৌদি আরবের বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনকে নিরাপদ করেছে।

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ (মক্কা প্যাক্ট)-এ তুরস্কের প্রভাব ও ভূমিকা অত্যন্ত গভীর এবং কৌশলগত। ন্যাটো-ভুক্ত সামরিক শক্তি ও উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্পের (যেমন ড্রোন প্রযুক্তি ও যুদ্ধবিমান কর্মসূচি) অধিকারী হিসেবে তুরস্ক এই জোটে প্রধান চালিকাশক্তিগুলোর একটি। তুরস্ক তার শক্তিশালী সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে (যেমন বায়কার ড্রোন ইকোসিস্টেম এবং কান ফাইটার প্রোগ্রাম) এই কাঠামোর সাথে যুক্ত করেছে। ন্যাটোর বাইরেও মুসলিম বিশ্বে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে আঙ্কারার কৌশলগত ও সামরিক প্রভাব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এই চুক্তি। লোহিত সাগর এবং কর্ন অব আফ্রিকায় তুরস্কের নৌবাহিনীর উপস্থিতি ও বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষায় চুক্তিটি নতুন ভূরাজনৈতিক পথ খুলে দিয়েছে। ওয়াশিংটনের ওপর একচেটিয়া নির্ভরতা কমিয়ে এই চুক্তির মাধ্যমে তুরস্ক ও সৌদি আরব যৌথ প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের একটি স্বাধীন বলয় তৈরি করেছে। আঞ্চলিক প্রভাব এটি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। এই জোট দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন প্রভাব ফেলছে, যা বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির কৌশলগত পরিসরেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ফলে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সহায়তা ও বিনিয়োগ প্রাপ্তি ঘটবে। মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে এবং ভারতের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য অর্জনের মাধ্যমে পাকিস্তান ব্যাপকভাবে লাভবান হবে। সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তায় পাকিস্তান তার অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা প্রকল্প ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নত করতে পারবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই শক্তিশালী জোটে যুক্ত হওয়ায় পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতার নতুন দুয়ার উন্মুক্ত হয়েছে। ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি ইসলামাবাদকে একটি বাড়তি কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক স্বস্তি ও ভারসাম্য দিবে। তুরস্কের অত্যাধুনিক ড্রোন, মিসাইল এবং সামরিক প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থায় পাকিস্তানের ভূমিকা ও কূটনৈতিক ওজন বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। পাকিস্তানের চিরশত্রু ভারতের সাথে যুদ্ধ লেগে গেলে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশ সমূহ এবং চীনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা পাকিস্তানকে অজয় করে তুলবে।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও সাহসী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। মক্কা চুক্তিতে যদি বাংলাদেশ যোগ দেয় তবে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরো সুদৃঢ় হবে। এমনিতেই পাকিস্তান বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক জোরদার করতে মরিয়া এবং এর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ৭ আগস্ট ২০২৬-এ সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে। কৌশলগত কারণে এই তিনটি দেশ ই চাচ্ছে বাংলাদেশকে যুক্ত করতে। কারণ সৌদির বিশাল শ্রমবাজার এর চালিকাশক্তি হতে পারে বাংলাদেশ, সৌদি আরব থেকে ধীরে ধীরে ভারতীয় শ্রমিক প্রত্যাহার করে নিলে সেই সংস্থান পূরণ করবে বাংলাদেশ। তুরস্কের সামরিক অস্ত্রের নতুন বাজার বাংলাদেশ, আর পাকিস্তান তো বাংলাদেশকে মনেপ্রাণে চাইছে এর কারণ কৌশলগত। বাংলাদেশ তথা বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার এই জোটের প্রভাব বিস্তারের জন্য বাংলাদেশ অপরিহার্য । ভবিষ্যতে ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়া যদি এই জোটে যুক্ত হয় তাহলে সরু মালাক্কা প্রণালী এই জোটের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে ।আর এতে চীনের লাভ অপরিসীম। চীনের সাথে পাকিস্তানের বন্ধুত্ব খুবই নিবিড় এবং দৃঢ় । ফলে মালাক্কা প্রণালীর যে ভয় চীনকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে এই ইসলামিক জোটে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া যুক্ত হলে সেই ভয় আর থাকবে না।

বাংলাদেশ যদি এতে যোগ দেয়- ভারতের নিরাপত্তা-উদ্বেগ বাড়বে, ভারতের অর্থনৈতিক/ভৌগোলিক ও কৌশলগত পরাজয় ঘটবে। ভারত ইতিমধ্যে
সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্ক চুক্তির প্রভাব নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনা করছে। বাংলাদেশ যোগ দিলে ভারতের জন্য আরও সংবেদনশীল হবে, কারণ: বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য আরো শক্তিশালী হবে। এতে করে ভারতের স্বার্থ ও আঞ্চলিক বলয় ক্ষুন্ন হবে।কোন কারনে ভারতের সাথে পাকিস্তানের আবার যুদ্ধ লাগলে বাংলাদেশ সেই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। আবার ভারত চতুর্মুখী আক্রমণের শিকার হতে পারে। এবং বাংলাদেশের জন্য ও এটা ঝুঁকিপূর্ণ।
তুরস্ক বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আগ্রহী, সৌদি আরব বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও শ্রমবাজারের অংশীদার, বঙ্গোপসাগর ভারতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভারত সম্ভবত সরাসরি শত্রুতামূলক প্রতিক্রিয়া দেখাবে না। বরং দিল্লি বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগ বাড়াবে এবং বোঝার চেষ্টা করবে চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রকৃত প্রতিশ্রুতি কী। ভারত নিজের প্রয়োজনে ঢাকার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াবে। বর্তমানে বাংলাদেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে ভারত মরিয়া হয়ে উঠেছে, এর কারণ স্বার্থসংশ্লিষ্ট।
চীনের প্রতিক্রিয়া সম্ভবত সবচেয়ে কৌশলী হবে।
চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বড় প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী এবং পাকিস্তানেরও প্রধান কৌশলগত অংশীদার। তাই বাংলাদেশ যদি পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়, বেইজিং এটিকি লুফে নেবে কারণ তাদের স্বার্থই রক্ষা করবে এই জোট।‌ কারণ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব জোট ভারতীয় একচেটিয়া প্রভাবকে ক্ষুন্ন করবে। চীনের জন্য আরও একটি সুবিধা আছে—তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বাড়লে চীন পরোক্ষভাবে নিজের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও কৌশলগত প্রভাবের ক্ষেত্রও বাড়াতে পারে।
এই জোটে বাংলাদেশ যোগ দিলে পাকিস্তান সম্ভবত সবচেয়ে বেশি কূটনৈতিক ও সামরিকভাবে উৎসাহিত ও লাভবান হবে। কারণ পাকিস্তানের জন্য এটি হবে একটি বড় কৌশলগত সাফল্য। যা বিগত ৫৫ বছরে সম্পর্ক স্থাপন-ই করতে পারেনি।
বিশেষ করে পাকিস্তান চাইবে বাংলাদেশের সঙ্গে:
সামরিক প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা সহযোগিতা, নৌবাহিনী সহযোগিতা, সন্ত্রাসবিরোধী প্রশিক্ষণ, সামরিক প্রযুক্তি, যৌথ মহড়া বাড়াতে। আর তাতেই ভারতের পেটে ডায়রিয়া হওয়ার উপক্রম সৃষ্টি হবে। আর ভারতের পক্ষে হিন্দু সামরিক জোট গঠন করা সম্ভব নয়। ভারত হয়ে পড়বে একা। আর মক্কা চুক্তিতে যদি মিশর, সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাক, কাতার, কুয়েত এবং ইরান যুক্ত হয় তবেই ইসলামের স্বর্ণযুগ প্রতিষ্ঠিত হবে।
পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় লাভ দক্ষিণ এশিয়ায় পরম বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশকে পাওয়া। একটি কৌশলগত সেতু, বিশেষত বঙ্গোপসাগরের কারণে বাংলাদেশের অবস্থান পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যদিও “চুক্তিটি কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়; ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।” কিন্তু বাংলাদেশ যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক ব্যবস্থা বা যৌথ অভিযানকে সমর্থন করে, তাহলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যাবে।

এই জোটে সৌদি আরব — বাংলাদেশের যোগদানকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ইতিবাচক মনে করবে।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম-জনসংখ্যার দেশ; জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে বাংলাদেশের আছে। সৌদি আরবে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী রয়েছে;
সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ যোগ দিলে সৌদি আরবের কাছে চুক্তির ভৌগোলিক বিস্তার বাড়বে: এটি সৌদি আরবের জন্য বড় কৌশলগত সুবিধা।

বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তুরস্ক সফর এবং তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনের খবরও দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের ইঙ্গিত দেয়। তাই বাংলাদেশ এই চুক্তিতে যোগ দিলে আঙ্কারা পাবে “তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য বাংলাদেশের বাজার এবং দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত প্রবেশদ্বার।” এখানে তুরস্কের জন্য বাংলাদেশের ভূগোল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তুরস্ক যদি সৌদি–পাকিস্তান–বাংলাদেশের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারে, তাহলে তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্য থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
বাংলাদেশ যুক্ত হলে, এটি আর শুধু মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে না; এটি হয়ে উঠতে পারে মধ্যপ্রাচ্য–দক্ষিণ এশিয়া নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক।
এখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সম্পদ হবে তার ভূগোল—বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগরের প্রবেশপথ এবং দক্ষিণ এশিয়ার কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি অবস্থান এবং জনসম্পদ।

যদি সৌদি আরব চায় বাংলাদেশে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হোক, তাহলে বাংলাদেশের পক্ষে অগ্রাহ্য করা সম্ভব নয় । কারণ বাংলাদেশের প্রধান মিত্র, বাংলাদেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা রেমিটেন্স অর্জনকারী দেশ সৌদি আরব। তাকে উপেক্ষা করার সাহস এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ আমাদের নেই।

বাংলাদেশকে সামরিক সহযোগিতার বিনিময়ে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, যৌথ উৎপাদন ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এতে করে বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে, সামরিকভাবে এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান ও শক্তিশালী হবে। এবং বাংলাদেশ যদি পারে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও সীমান্ত সহযোগিতা, চীনের সঙ্গে অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, তুরস্কের সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তি, সৌদির সঙ্গে শ্রম ও বিনিয়োগ, পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ইরানের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক—সবগুলো একসঙ্গে বজায় রাখতে তবেই সাফল্য আসবে ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশের নীতি হচ্ছে “সবার সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে শত্রুতা নয়” কিন্তু এই মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে সম্পৃক্ত হলে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। যা নীতিগতভাবে সাংঘর্ষিক।                                                                                                               মুহাম্মদ আমির হোসেন
লেখক: কবি সাংবাদিক ও সংগঠক

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগদানে করলে “লাভ ও ঝুঁকি”

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ভারত সফরে তাড়াহুড়ো নয়, বললেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

২০ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে বাংলাদেশ যোগদানে করলে “লাভ ও ঝুঁকি”

আপডেট সময় ০৩:২৪:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

২০২৬ সালের ৭ আগস্ট স্বাক্ষরিত মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি (Mecca Joint Defense Agreement)-তে সৌদি আরব প্রধান আর্থিক ও রাজনৈতিক চালিকাশক্তি হিসেবে ভূমিকা পালন করছে। এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে (সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তান) ঘোষণা করা হয়েছে যে, যেকোনো এক দেশের ওপর হামলা মানে তিন দেশের ওপরই হামলা। মধ্যপ্রাচ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে মার্কিন নিরাপত্তার ওপর দীর্ঘমেয়াদি নির্ভরতা কমানো এবং কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন অর্জনই রিয়াদের মূল লক্ষ্য। সৌদি আরব তার বিশাল আর্থিক সম্পদ, বিনিয়োগ ক্ষমতা এবং তেল সরবরাহের শক্তির মাধ্যমে এই জোটের অর্থনৈতিক মেরুদণ্ড হিসেবে কাজ করছে। ইসলামের পবিত্র স্থানগুলোর খাদেম হিসেবে সৌদি আরবের যে নরম শক্তি (soft power) ও ধর্মীয় গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে, তা পুরো মুসলিম বিশ্বে এই জোটকে বিশেষ ভূরাজনৈতিক প্রভাব ও বৈধতা এনে দিয়েছে। এককভাবে মার্কিন বা বাইরের শক্তির ওপর শতভাগ নির্ভর না করে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর (তুরস্কের ড্রোন ও সামরিক প্রযুক্তি এবং পাকিস্তানের পেশাদার বাহিনী ও পারমাণবিক সক্ষমতা) সমন্বয়ে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বেষ্টনী তৈরি হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতে এবং ইসরায়েল বা ইরানের প্রভাবে উদ্ভূত কৌশলগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় রিয়াদ এখন অনেক বেশি আত্মনির্ভরশীল ও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। লোহিত সাগর, আরব সাগর এবং হরমুজ প্রণালীর মতো গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক রুট ও উপকূলীয় অবকাঠামো সুরক্ষায় ত্রিদেশীয় নৌ-সমন্বয় সৌদি আরবের বাণিজ্য ও জ্বালানি পরিবহনকে নিরাপদ করেছে।

সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ (মক্কা প্যাক্ট)-এ তুরস্কের প্রভাব ও ভূমিকা অত্যন্ত গভীর এবং কৌশলগত। ন্যাটো-ভুক্ত সামরিক শক্তি ও উন্নত প্রতিরক্ষা শিল্পের (যেমন ড্রোন প্রযুক্তি ও যুদ্ধবিমান কর্মসূচি) অধিকারী হিসেবে তুরস্ক এই জোটে প্রধান চালিকাশক্তিগুলোর একটি। তুরস্ক তার শক্তিশালী সামরিক ও প্রতিরক্ষা শিল্পকে (যেমন বায়কার ড্রোন ইকোসিস্টেম এবং কান ফাইটার প্রোগ্রাম) এই কাঠামোর সাথে যুক্ত করেছে। ন্যাটোর বাইরেও মুসলিম বিশ্বে এবং উপসাগরীয় অঞ্চলে আঙ্কারার কৌশলগত ও সামরিক প্রভাব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে এই চুক্তি। লোহিত সাগর এবং কর্ন অব আফ্রিকায় তুরস্কের নৌবাহিনীর উপস্থিতি ও বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষায় চুক্তিটি নতুন ভূরাজনৈতিক পথ খুলে দিয়েছে। ওয়াশিংটনের ওপর একচেটিয়া নির্ভরতা কমিয়ে এই চুক্তির মাধ্যমে তুরস্ক ও সৌদি আরব যৌথ প্রতিরক্ষা ও গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের একটি স্বাধীন বলয় তৈরি করেছে। আঞ্চলিক প্রভাব এটি মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার ভূরাজনীতিতে একটি নতুন মেরুকরণ তৈরি করেছে। এই জোট দক্ষিণ এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা সমীকরণে নতুন প্রভাব ফেলছে, যা বিভিন্ন আঞ্চলিক শক্তির কৌশলগত পরিসরেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির ফলে পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সহায়তা ও বিনিয়োগ প্রাপ্তি ঘটবে। মধ্যপ্রাচ্যে কৌশলগত ও রাজনৈতিক গুরুত্ব বৃদ্ধি পাবে এবং ভারতের বিরুদ্ধে দীর্ঘমেয়াদি ভূরাজনৈতিক ভারসাম্য অর্জনের মাধ্যমে পাকিস্তান ব্যাপকভাবে লাভবান হবে। সৌদি আরবের আর্থিক সহায়তায় পাকিস্তান তার অভ্যন্তরীণ প্রতিরক্ষা প্রকল্প ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা উন্নত করতে পারবে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই শক্তিশালী জোটে যুক্ত হওয়ায় পাকিস্তানের ভঙ্গুর অর্থনীতিতে বৈদেশিক বিনিয়োগ ও জ্বালানি সহযোগিতার নতুন দুয়ার উন্মুক্ত হয়েছে। ভারতের সঙ্গে দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এই ত্রিপক্ষীয় চুক্তি ইসলামাবাদকে একটি বাড়তি কৌশলগত ও ভূরাজনৈতিক স্বস্তি ও ভারসাম্য দিবে। তুরস্কের অত্যাধুনিক ড্রোন, মিসাইল এবং সামরিক প্রযুক্তির অভিজ্ঞতা পাকিস্তানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজে লাগানোর সুযোগ তৈরি হবে। এই চুক্তির ফলে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তাব্যবস্থায় পাকিস্তানের ভূমিকা ও কূটনৈতিক ওজন বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। পাকিস্তানের চিরশত্রু ভারতের সাথে যুদ্ধ লেগে গেলে মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির অন্তর্ভুক্ত দেশ সমূহ এবং চীনের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা পাকিস্তানকে অজয় করে তুলবে।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশ স্বাধীন, ভারসাম্যপূর্ণ ও সাহসী পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। মক্কা চুক্তিতে যদি বাংলাদেশ যোগ দেয় তবে সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব আরো সুদৃঢ় হবে। এমনিতেই পাকিস্তান বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক জোরদার করতে মরিয়া এবং এর কৌশলগত গুরুত্ব অপরিসীম। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি ৭ আগস্ট ২০২৬-এ সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছে। কৌশলগত কারণে এই তিনটি দেশ ই চাচ্ছে বাংলাদেশকে যুক্ত করতে। কারণ সৌদির বিশাল শ্রমবাজার এর চালিকাশক্তি হতে পারে বাংলাদেশ, সৌদি আরব থেকে ধীরে ধীরে ভারতীয় শ্রমিক প্রত্যাহার করে নিলে সেই সংস্থান পূরণ করবে বাংলাদেশ। তুরস্কের সামরিক অস্ত্রের নতুন বাজার বাংলাদেশ, আর পাকিস্তান তো বাংলাদেশকে মনেপ্রাণে চাইছে এর কারণ কৌশলগত। বাংলাদেশ তথা বঙ্গোপসাগর এবং দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার এই জোটের প্রভাব বিস্তারের জন্য বাংলাদেশ অপরিহার্য । ভবিষ্যতে ইন্দোনেশিয়া এবং মালয়েশিয়া যদি এই জোটে যুক্ত হয় তাহলে সরু মালাক্কা প্রণালী এই জোটের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে ।আর এতে চীনের লাভ অপরিসীম। চীনের সাথে পাকিস্তানের বন্ধুত্ব খুবই নিবিড় এবং দৃঢ় । ফলে মালাক্কা প্রণালীর যে ভয় চীনকে তাড়া করে বেড়াচ্ছে এই ইসলামিক জোটে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া যুক্ত হলে সেই ভয় আর থাকবে না।

বাংলাদেশ যদি এতে যোগ দেয়- ভারতের নিরাপত্তা-উদ্বেগ বাড়বে, ভারতের অর্থনৈতিক/ভৌগোলিক ও কৌশলগত পরাজয় ঘটবে। ভারত ইতিমধ্যে
সৌদি–পাকিস্তান–তুরস্ক চুক্তির প্রভাব নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে পর্যালোচনা করছে। বাংলাদেশ যোগ দিলে ভারতের জন্য আরও সংবেদনশীল হবে, কারণ: বাংলাদেশের সঙ্গে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও বাণিজ্য আরো শক্তিশালী হবে। এতে করে ভারতের স্বার্থ ও আঞ্চলিক বলয় ক্ষুন্ন হবে।কোন কারনে ভারতের সাথে পাকিস্তানের আবার যুদ্ধ লাগলে বাংলাদেশ সেই যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে। আবার ভারত চতুর্মুখী আক্রমণের শিকার হতে পারে। এবং বাংলাদেশের জন্য ও এটা ঝুঁকিপূর্ণ।
তুরস্ক বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে আগ্রহী, সৌদি আরব বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক ও শ্রমবাজারের অংশীদার, বঙ্গোপসাগর ভারতীয় নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে ভারত সম্ভবত সরাসরি শত্রুতামূলক প্রতিক্রিয়া দেখাবে না। বরং দিল্লি বাংলাদেশের সঙ্গে কূটনৈতিক ও সামরিক যোগাযোগ বাড়াবে এবং বোঝার চেষ্টা করবে চুক্তিতে বাংলাদেশের প্রকৃত প্রতিশ্রুতি কী। ভারত নিজের প্রয়োজনে ঢাকার সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক যোগাযোগ বাড়াবে। বর্তমানে বাংলাদেশের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনে ভারত মরিয়া হয়ে উঠেছে, এর কারণ স্বার্থসংশ্লিষ্ট।
চীনের প্রতিক্রিয়া সম্ভবত সবচেয়ে কৌশলী হবে।
চীন বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের বড় প্রতিরক্ষা সরবরাহকারী এবং পাকিস্তানেরও প্রধান কৌশলগত অংশীদার। তাই বাংলাদেশ যদি পাকিস্তান-তুরস্ক-সৌদি প্রতিরক্ষা কাঠামোর সঙ্গে যুক্ত হয়, বেইজিং এটিকি লুফে নেবে কারণ তাদের স্বার্থই রক্ষা করবে এই জোট।‌ কারণ বাংলাদেশ, পাকিস্তান, তুরস্ক, সৌদি আরব জোট ভারতীয় একচেটিয়া প্রভাবকে ক্ষুন্ন করবে। চীনের জন্য আরও একটি সুবিধা আছে—তুরস্ক ও পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বাড়লে চীন পরোক্ষভাবে নিজের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি ও কৌশলগত প্রভাবের ক্ষেত্রও বাড়াতে পারে।
এই জোটে বাংলাদেশ যোগ দিলে পাকিস্তান সম্ভবত সবচেয়ে বেশি কূটনৈতিক ও সামরিকভাবে উৎসাহিত ও লাভবান হবে। কারণ পাকিস্তানের জন্য এটি হবে একটি বড় কৌশলগত সাফল্য। যা বিগত ৫৫ বছরে সম্পর্ক স্থাপন-ই করতে পারেনি।
বিশেষ করে পাকিস্তান চাইবে বাংলাদেশের সঙ্গে:
সামরিক প্রশিক্ষণ, গোয়েন্দা সহযোগিতা, নৌবাহিনী সহযোগিতা, সন্ত্রাসবিরোধী প্রশিক্ষণ, সামরিক প্রযুক্তি, যৌথ মহড়া বাড়াতে। আর তাতেই ভারতের পেটে ডায়রিয়া হওয়ার উপক্রম সৃষ্টি হবে। আর ভারতের পক্ষে হিন্দু সামরিক জোট গঠন করা সম্ভব নয়। ভারত হয়ে পড়বে একা। আর মক্কা চুক্তিতে যদি মিশর, সিরিয়া, লিবিয়া, ইরাক, কাতার, কুয়েত এবং ইরান যুক্ত হয় তবেই ইসলামের স্বর্ণযুগ প্রতিষ্ঠিত হবে।
পাকিস্তানের সবচেয়ে বড় লাভ দক্ষিণ এশিয়ায় পরম বন্ধু হিসেবে বাংলাদেশকে পাওয়া। একটি কৌশলগত সেতু, বিশেষত বঙ্গোপসাগরের কারণে বাংলাদেশের অবস্থান পাকিস্তানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

যদিও “চুক্তিটি কোনো রাষ্ট্রের বিরুদ্ধে নয়; ইরানের সঙ্গে বাংলাদেশের স্বাভাবিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক অব্যাহত থাকবে।” কিন্তু বাংলাদেশ যদি ইরানের বিরুদ্ধে কোনো সামরিক ব্যবস্থা বা যৌথ অভিযানকে সমর্থন করে, তাহলে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন হয়ে যাবে।

এই জোটে সৌদি আরব — বাংলাদেশের যোগদানকে অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে ও রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত ইতিবাচক মনে করবে।
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মুসলিম-জনসংখ্যার দেশ; জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে; বঙ্গোপসাগরের গুরুত্বপূর্ণ ভৌগোলিক অবস্থানে বাংলাদেশের আছে। সৌদি আরবে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী রয়েছে;
সৌদি আরবের সঙ্গে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশ যোগ দিলে সৌদি আরবের কাছে চুক্তির ভৌগোলিক বিস্তার বাড়বে: এটি সৌদি আরবের জন্য বড় কৌশলগত সুবিধা।

বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের ২০২৬ সালের জুলাইয়ে তুরস্ক সফর এবং তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের বিভিন্ন স্থাপনা পরিদর্শনের খবরও দুই দেশের সামরিক সম্পর্কের ক্রমবর্ধমান গুরুত্বের ইঙ্গিত দেয়। তাই বাংলাদেশ এই চুক্তিতে যোগ দিলে আঙ্কারা পাবে “তুরস্কের প্রতিরক্ষা শিল্পের জন্য বাংলাদেশের বাজার এবং দক্ষিণ এশিয়ায় কৌশলগত প্রবেশদ্বার।” এখানে তুরস্কের জন্য বাংলাদেশের ভূগোল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তুরস্ক যদি সৌদি–পাকিস্তান–বাংলাদেশের সঙ্গে একটি দীর্ঘমেয়াদি প্রতিরক্ষা নেটওয়ার্ক তৈরি করতে পারে, তাহলে তার প্রভাব মধ্যপ্রাচ্য থেকে দক্ষিণ এশিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত হবে।
বাংলাদেশ যুক্ত হলে, এটি আর শুধু মধ্যপ্রাচ্যের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকবে না; এটি হয়ে উঠতে পারে মধ্যপ্রাচ্য–দক্ষিণ এশিয়া নিরাপত্তা নেটওয়ার্ক।
এখানে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় কৌশলগত সম্পদ হবে তার ভূগোল—বঙ্গোপসাগর, ভারত মহাসাগরের প্রবেশপথ এবং দক্ষিণ এশিয়ার কেন্দ্রস্থলের কাছাকাছি অবস্থান এবং জনসম্পদ।

যদি সৌদি আরব চায় বাংলাদেশে এই জোটে অন্তর্ভুক্ত হোক, তাহলে বাংলাদেশের পক্ষে অগ্রাহ্য করা সম্ভব নয় । কারণ বাংলাদেশের প্রধান মিত্র, বাংলাদেশের প্রধান বৈদেশিক মুদ্রা রেমিটেন্স অর্জনকারী দেশ সৌদি আরব। তাকে উপেক্ষা করার সাহস এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ আমাদের নেই।

বাংলাদেশকে সামরিক সহযোগিতার বিনিময়ে প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, যৌথ উৎপাদন ও অর্থনৈতিক বিনিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। এতে করে বাংলাদেশ কূটনৈতিকভাবে, সামরিকভাবে এবং অর্থনৈতিকভাবে লাভবান ও শক্তিশালী হবে। এবং বাংলাদেশ যদি পারে ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য ও সীমান্ত সহযোগিতা, চীনের সঙ্গে অর্থনীতি ও প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি, তুরস্কের সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তি, সৌদির সঙ্গে শ্রম ও বিনিয়োগ, পাকিস্তানের সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এবং ইরানের সঙ্গে স্বাভাবিক কূটনৈতিক সম্পর্ক—সবগুলো একসঙ্গে বজায় রাখতে তবেই সাফল্য আসবে ইনশাআল্লাহ।

বাংলাদেশের নীতি হচ্ছে “সবার সাথে বন্ধুত্ব কারো সাথে শত্রুতা নয়” কিন্তু এই মক্কা প্রতিরক্ষা জোটে সম্পৃক্ত হলে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। যা নীতিগতভাবে সাংঘর্ষিক।                                                                                                               মুহাম্মদ আমির হোসেন
লেখক: কবি সাংবাদিক ও সংগঠক

Share this news as a Photo Card