১৮ কোটি জনতার অধিনায়ক হিসেবে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফরটি ছিল সফল ও সার্থক। ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ও সাহসীক কূটনীতিক বার্তা। ৫ ই আগস্টের পর ভারত মুনশিয়ানা দেখাতে গিয়ে যে নগ্ন রূপটি বাংলাদেশেকে দেখিয়েছে তা গ্রহণযোগ্য নয় এবং বন্ধুত্বের বাতাবরণে যায় না। ফ্যাসিস্ট সরকারের সাথে ভারতের সম্পর্ক ছিল একপাক্ষিক, স্বার্থান্বেষী ও আগ্রাসী এবং দাসত্বের শৃংখলে বাধা। ক্ষমতার লোভে তারা যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে স্বাধীন সার্বভৌম দেশের সাথে যায় না। ফ্যাসিস্ট সরকার ভুলে গিয়েছিল বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। বিশ্বের মানচিত্রে বাংলাদেশ “দেশ” হিসেবে অবস্থানে আছে এবং বাংলাদেশের নিজস্ব পতাকা আছে। স্বামী স্ত্রীর সম্পর্ক নিজস্ব ফ্ল্যাটে বা রুমে থাকতে পারে কিন্তু সেটা বৈশ্বিক কূটনীতি হতে পারে না, দেশের স্বার্থকে জলাঞ্জলি দিয়ে দেশের অধিনায়ক হওয়া যায় না। ভারত বাংলাদেশের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাপার গুলো বিশ্লেষণ করলে বোঝা যায় বাংলাদেশ তার স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ব্যাপারে কতটা উদাসীন ছিল যা কোন কূটনীতির মধ্যেই পড়ে না। প্রতিবেশী দেশের সাথে সম্পর্ক অবশ্যই রাখতে হবে তা শ্রদ্ধায় ও শিষ্টাচারে। আর যদি হয় বৃহৎ প্রতিবেশী তাহলে অবশ্যই সেটা কৌশলগত এবং কূটনৈতিকভাবে শিষ্টাচার অবলম্বন করতেই হবে। পারস্পরিক স্বার্থ সুসংহত রেখে সগৌরবে স্বমিমায় দেশাত্ববোধ সমুন্নত রেখে চলতে হবে। আমার দেশ আমারই, বাংলাদেশ কোন দেশের রাজ্য নয় যে কুর্নিশ করে চলতে হবে। কুর্নিশ আর সম্মান এক নয়। বাংলাদেশের স্বার্থ-সংশ্লিষ্ট যেকোনো ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী অগ্রণী ভূমিকা পালন করবেন এটাই সহজাত এবং একজন দেশপ্রেমিকের কাজ।
ভারত মূলত উজানে বাঁধ ও ব্যারেজ নির্মাণ করে তিস্তা নদীর পানি নিয়ন্ত্রণ করে। উজান থেকে ভারত পানি প্রত্যাহার করায় বাংলাদেশে প্রতি বছর খরা ও বন্যার মতো সমস্যা তৈরি হয়, তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে, তাছাড়া, তিস্তা প্রকল্প ও নদী খননে চীনের মতো দেশের সম্পৃক্ততা নিয়ে ভারত ভূরাজনৈতিক উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তিস্তা ব্যারেজ ও নদীর পানি ভারত তার অংশে গজলডোবা নামক স্থানে ব্যারেজ নির্মাণ করে তিস্তার বেশিরভাগ পানি সরিয়ে নেয়। এর ফলে বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলে শুকনো মৌসুমে পানির তীব্র সংকট দেখা দেয় এবং হাজার হাজার হেক্টর জমিতে ফসল ফলা ব্যাহত হয়। ১৯৪ কিলোমিটার দীর্ঘ এই নদীর পানির ন্যায্য হিস্যা পাওয়ার জন্য বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করলেও ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়নি। রাজ্য সরকারের আপত্তির কারণে ২০১১ সালে প্রায় চূড়ান্ত হওয়া চুক্তিটিও আটকে যায়। বর্ষাকালে ভারতে যখন পানি ধারণক্ষমতা ছাড়িয়ে যায়, তখন তারা হঠাৎ বাঁধ বা গেট খুলে দেয় এতে বাংলাদেশে আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। বাংলাদেশ নদীটি খনন ও উন্নয়নের জন্য চীনের সাথে “তিস্তা মহাপরিকল্পনা” নিয়ে আলোচনা করছে, ভারত আশঙ্কা করছে, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোর (চিকেনস নেক করিডোর) খুব কাছাকাছি চীনের এই ধরনের উপস্থিতি তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও অবহেলার ইতিহাসে তারেক রহমান বাধ্য হচ্ছেন চীনের সাথে চুক্তি করতে। এখানে কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হবে এবং দেশের উন্নয়নের জন্য, কৃষি খাতের উন্নয়নের জন্য এই চুক্তি বাংলাদেশের জন্য অপরিহার্য। দেশনায়ক তারেক রহমান বাংলাদেশের স্বার্থ দেখবে এটাই তো স্বাভাবিক। তাছাড়া এই সমস্যার সমাধানের জন্য ভারতের দিকেই তাকিয়ে ছিল বাংলাদেশ। এখন কৌশলগত নিরাপত্তার অজুহাতে গা জ্বলে কেন?
বাংলাদেশ সরকার ভারতের জন্য বরাদ্দকৃত মোংলা অর্থনৈতিক অঞ্চলের উন্নয়ন প্রকল্প বাতিল করেছে। ফলে মোংলায় আর কোনো ভারতীয় অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠছে না। ২০১৫ সালের সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী, ভারত সরকারের জন্য মোংলা বন্দর সংলগ্ন এলাকায় একটি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের পরিকল্পনা ছিল। তবে দীর্ঘ স্থবিরতার পর, বাংলাদেশ সরকার সম্প্রতি সেই জমি চীনা রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানের কাছে হস্তান্তর করেছে। বর্তমানে ওই স্থানে ‘চীন-বাংলাদেশ মোংলা বন্দর অর্থনৈতিক অঞ্চল’ নামে নতুন শিল্পাঞ্চল ও অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার চুক্তি বাস্তবায়িত হচ্ছে। ১১ বছর হয়ে গেল ভারত মংলায় কোন প্রকল্পই শুরু করেনি এখন কৌশলগতভাবে তারা চিন্তিত, তবে তারা শুরু করলো না কেন? ১১ বছর কি কম সময়! তারা শুরুই করল না আসলে তারা শুরু করতে চায়নি, স্থবির করে রাখতে চেয়েছিল, মূলত তাদের প্রয়োজন ছিল না সক্ষমতা ও ছিল না। বৈশ্বিক ইন্ডাস্ট্রিয়াল হাব চীনের সেই সক্ষমতা রয়েছে এবং এতে বাংলাদেশ-ই লাভবান হবে তাই তারেক রহমানের এই পদক্ষেপ সঠিক। জনগণকে শক্তিতে রূপান্তরের এই সুযোগ বাংলাদেশ হাতছাড়া কেন করবে ? তাছাড়া অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশ লাভবান হবে, বেকারত্ব ঘুচবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। কর্মসংস্থানের অভাবেই ভারতে গঠিত হয়েছে ককরোচ পার্টি তারা আমাদের বেকারত্ব কিভাবে ঘুচাবে?
বাংলাদেশ সরকার চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্পনগর’ (বর্তমানে জাতীয় বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল)-এ ভারতের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ৮৫০ একরের অর্থনৈতিক অঞ্চলটি বাতিল করেছে। দীর্ঘসূত্রিতা ও বাস্তবায়ন না হওয়ায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এই জায়গায় সরকার এখন একটি ‘ডিফেন্স ইকোনমিক জোন’ বা সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ঘটনার প্রেক্ষাপট দীর্ঘ দিনেও ভারতের পক্ষ থেকে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় বাংলাদেশ সরকার এই চুক্তি বাতিল করে। বাতিল হওয়া এই জায়গায় বাংলাদেশ সরকার একটি ‘ডিফেন্স ইকনোমিক জোন’ বা সামরিক অর্থনৈতিক অঞ্চল (Defence Industrial Zone) স্থাপনের নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে নিজস্ব প্রতিরক্ষায় স্বনির্ভরতা অর্জন এবং মৌলিক সামরিক সরঞ্জাম (যেমন- গোলাবারুদ) উৎপাদনের লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এলাকাটি কৌশলগতভাবে খুবই সংবেদনশীল এবং বাংলাদেশের চিকেন নেক। এটি চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য জেলাগুলোকে যুক্ত করেছে। এখানে নিজস্ব প্রতিরক্ষাসামগ্রী উৎপাদনের কারখানা গড়ে তোলার মাধ্যমে বাংলাদেশের জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব আরো শক্তিশালী হবে।
চীনের কুনমিং থেকে মিয়ানমার হয়ে বাংলাদেশ পর্যন্ত প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক করিডোরটি বাংলাদেশের জন্য অর্থনীতি ও বাণিজ্যের প্রসার ঘটানোর এক বিশাল সুযোগ তৈরি করেছে। এর মাধ্যমে বাংলাদেশ সরাসরি চীনের বিশাল বাজার ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোতে পণ্য রপ্তানির নতুন পথ পাবে। তবে এই প্রকল্পের লাভবান হওয়ার সম্ভাবনা মূলত নির্ভর করে মিয়ানমারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষার ওপর। বর্তমানে চীনের সাথে বাণিজ্যের বেশিরভাগ পণ্য সমুদ্রপথে দীর্ঘ পথ ঘুরে আসে। কুনমিং থেকে মিয়ানমার হয়ে স্থল ও রেলপথ তৈরি হলে তা সরাসরি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দর পর্যন্ত সংযুক্ত হবে।এতে পরিবহন সময় ও খরচ অনেক কমে যাবে, যার ফলে আমদানিকৃত কাঁচামাল সস্তা হবে এবং রপ্তানি পণ্যের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে। এই করিডোরটি বাংলাদেশকে চীনের বিশাল অভ্যন্তরীণ বাজারের সাথে যুক্ত করবে। এর ফলে তৈরি পোশাকের পাশাপাশি বাংলাদেশের চামড়া, ওষুধ ও কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের জন্য নতুন বাজার তৈরি হবে। করিডোরটি চালু হলে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়া এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যকার একটি ভৌগোলিক সেতুতে পরিণত হবে।বাংলাদেশ আঞ্চলিক ‘কানেক্টিভিটি ও লজিস্টিকস হাব’ হিসেবে আবির্ভূত হতে পারে। পণ্য পরিবহনের পাশাপাশি ট্রানজিট ট্রেড, ওয়্যারহাউজিং (গুদামজাতকরণ) এবং সাপ্লাই চেইনের নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এই করিডোর বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে চট্টগ্রাম ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের আধুনিকায়ন এবং নতুন অর্থনৈতিক অঞ্চল বা শিল্পপার্ক গড়ে ওঠার সম্ভাবনা রয়েছে। চট্টগ্রামের আনোয়ারা ও মোংলা বন্দর সংলগ্ন এলাকায় ইতিমধ্যে নতুন চাইনিজ অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা হচ্ছে। এই করিডোরের বড় একটি অংশ মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের ওপর দিয়ে যাবে। বর্তমানে সেখানে গৃহযুদ্ধ চলছে, যা অবকাঠামো নির্মাণ ও পরিচালনার জন্য বড় ঝুঁকি।
এই করিডোর চীন ও ভারতের মধ্যকার ভূ-রাজনৈতিক সমীকরণকে প্রভাবিত করতে পারে। এখানে চীনের লাভ অপরিসীম কারণ মালাক্কা প্রণালী বন্ধ হলে চীনের অর্থনীতি ধ্বসে পড়বে তাই এই করিডোর দিয়ে বঙ্গোপসাগর হয়ে বিশ্বে পৌঁছে যাবে চীনের পণ্য। ভূ রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবং অর্থনৈতিক ভাবেও এখন চীনেরই সময়। এই করিডোর থেকে সম্পূর্ণ লাভবান হতে হলে বাংলাদেশের সমুদ্রবন্দরগুলোর সর্বোচ্চ সক্ষমতা ও আধুনিক লজিস্টিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে। এই করিডোরটি পূর্বাঞ্চলের ঢোকার এক আলোর রেখা, কারণ পূর্বাঞ্চলটা বাংলাদেশের কাছে অনেকটাই অপরিচিত ও অন্ধকার। মিয়ানমার পার্শ্ববর্তী রাষ্ট্র হলেও তাদের সাথে আমাদের তেমন সুসম্পর্ক নেই। ভারতকে যেমন আমাদের মনে হয় পূর্বাঞ্চলের রাষ্ট্রগুলোকে তেমনটা মনে হয় না। পৃথিবীর কারখানা খ্যাত চীন আমাদের দেশে আসলে কর্মসংস্থানের পাশাপাশি দেশের অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন ঘটবে। তাছাড়া বর্তমানে চীন অর্থনৈতিকভাবে সারা পৃথিবীতে টেক্কা দিচ্ছে তাই এই সম্পর্কটা সুমধুর হওয়া বাঞ্জনীয়। তবে চীন ব্যবসার ছাড়া কিছু বোঝেনা এটা খেয়াল রাখতে হবে। বিগত সরকার গুলোর মত স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে কোন চুক্তি করা যাবে না।
প্রথম বিদেশ সফর হিসাবে মালয়েশিয়া গমন প্রধানমন্ত্রীর একটি মাস্টার স্ট্রোক, কারণ জনশক্তি রপ্তানি, রেমিটেন্স ও রিজার্ভ সমুন্নত রাখতে মালয়েশিয়ার অবদান অনস্বীকার্য। ১০ লাখের মতো বাঙালি সেখানে কাজ করে এবং আরো ১০ লাখের চাহিদা আছে। দেশের কর্মসংস্থানের অভাব আছে বিধায় জনশক্তি রপ্তানি দেশের জন্য কল্যাণময়। সামাজিক, আর্থসামাজিক উন্নয়নে এর গুরুত্ব অপরিসীম। আয়তনের তুলনায় জনগণের ভারবহ বাংলাদেশ শিল্পাঞ্চল গড়া ছাড়া উপায় নাই। মোদির বিজয় দিবসের বার্তা, শুভেন্দুর দুই ঘণ্টায় বাংলাদেশ দখল, হাসিনা ভারতে গেছে এটা ব্যাপার না কিন্তু তখনকার ভারতের আচরণ, বাংলাদেশের নতুন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশের সময়কার বক্তব্য, এগুলো মনে রেখেই এগোতে হবে। বৃহৎ প্রতিবেশী ভারতের সাথে সম্পর্ক উন্নয়ন অব্যাহত রেখে দেশের স্বার্থকে সমুন্নত রাখা একজন সফল রাষ্ট্রনায়কের কর্তব্য বলে মনে করি। দেশের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, কে ঝুঁকিতে আছে? সেটা দেখার ব্যাপার না, আমরা ভালো থাকবো কিনা? বাংলাদেশ ভালো থাকবে কিনা ? এটাই মুখ্য।
প্রতিরক্ষা, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং অর্থনৈতিক মানদণ্ডে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর সফল ও সার্থক।
লেখক; কবি, সংগঠক, কলামিস্ট ও সাংবাদিক
মুহাম্মদ আমির হোসেন 




















