বিশ্বজুড়েই ক্রনিক কিডনি রোগের প্রকোপ বাড়ছে। (আইসিএমআর)–এর এক সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০১১ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে কিডনি রোগে আক্রান্তের হার ১১.১২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৬.৩৮ শতাংশে পৌঁছেছে। শুধু প্রবীণরাই নন, কম বয়সী এমনকি শিশুরাও এই রোগে আক্রান্ত হচ্ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, কিডনির সুস্থতা বজায় রাখতে শুধু ওষুধ বা খাদ্যনিয়ন্ত্রণই যথেষ্ট নয়; নিয়মিত শরীরচর্চাও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তবে মনে রাখা জরুরি, ব্যায়াম কিডনিতে পাথর হওয়া নিশ্চিতভাবে প্রতিরোধ করে—এমন প্রমাণ নেই। বরং নিয়মিত শারীরিক সক্রিয়তা, পর্যাপ্ত পানি পান এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন সামগ্রিকভাবে কিডনির সুস্থতায় সহায়ক হতে পারে।
১. সালম্ব ভুজঙ্গাসন
এই যোগব্যায়ামটি করতে প্রথমে উপুড় হয়ে শুয়ে পড়ুন। পা সোজা রাখুন এবং কপাল মাটিতে স্পর্শ করান। এরপর ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে নিতে বুক, মাথা ও কাঁধ ওপরে তুলুন। মেরুদণ্ড হালকা বাঁকিয়ে সামনে তাকিয়ে থাকুন। ১৫ থেকে ২০ সেকেন্ড এভাবে থেকে ধীরে ধীরে আগের অবস্থায় ফিরে আসুন। কয়েকবার অনুশীলন করা যেতে পারে।
২. পদ্ম মৎস্যাসন
প্রথমে চিত হয়ে শুয়ে দুই পা ভাঁজ করে পদ্মাসনের ভঙ্গি নিন। এরপর কোমর ও বুক সামান্য উঁচু করে শরীরকে ধনুকের মতো বাঁকানোর চেষ্টা করুন। সম্ভব হলে দুই হাত দিয়ে দুই পায়ের বৃদ্ধাঙ্গুলি ধরুন। স্বাভাবিকভাবে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে নিতে ২০ থেকে ৩০ সেকেন্ড অবস্থান ধরে রাখুন। শুরুর দিকে প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে অনুশীলন করা নিরাপদ।
৩. নৌকাসন
চিত হয়ে শুয়ে ধীরে ধীরে মাথা, বুক ও দুই পা একসঙ্গে ওপরে তুলুন। শরীর এমনভাবে রাখুন যেন নৌকার আকৃতি তৈরি হয়। ১০ থেকে ৩০ সেকেন্ড এই ভঙ্গিতে থাকার চেষ্টা করুন, তারপর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসুন। প্রতিদিন কয়েকবার অনুশীলন করা যেতে পারে।
যা মনে রাখা জরুরি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিডনি সুস্থ রাখতে নিয়মিত ব্যায়ামের পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, অতিরিক্ত লবণ ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়া, রক্তচাপ ও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সতর্কতা: কোমর, মেরুদণ্ড, হৃদ্রোগ বা অন্য কোনো জটিল স্বাস্থ্যসমস্যা থাকলে কিংবা কিডনিতে পাথর বা কিডনি রোগের চিকিৎসা চললে নতুন কোনো ব্যায়াম শুরু করার আগে অবশ্যই চিকিৎসক বা প্রশিক্ষিত ফিজিওথেরাপিস্টের পরামর্শ নিন।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 
























