৮১ ফুট রামমূর্তি ঘোষণায় আলোচিত হরিদাস চন্দ্র গ্রেপ্তার

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে কয়েক সপ্তাহ আগে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি মানি লন্ডারিং (অর্থ পাচার) মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (১২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্যরামচন্দ্রপুর এলাকার শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে তাকে আটক করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে কয়েকজন ব্যক্তি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন। পরে তারা হরিদাস চন্দ্রকে বাইরে ডেকে আনেন এবং হাতকড়া পরিয়ে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। ঘটনার পরপরই এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন, রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি মানি লন্ডারিং মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইডি তাকে গ্রেপ্তার করেছে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সংস্থাই পরিচালনা করবে।

হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস চলতি বছরের জুন মাসে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করে আলোচনায় আসেন। প্রকল্পটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ধর্মীয় মহল এবং বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় জুনের শেষ দিকে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির পরিচালনা কমিটি মূর্তি নির্মাণের কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। সে সময় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, এ সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক চাপ ছিল না।

এদিকে হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তারের পর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণ ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ইরান-সংঘাতে তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী, চাপে এশিয়ার শেয়ারবাজার

১৩ জুলাই ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

৮১ ফুট রামমূর্তি ঘোষণায় আলোচিত হরিদাস চন্দ্র গ্রেপ্তার

আপডেট সময় ০৫:৪৯:৫৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের ঘোষণা দিয়ে কয়েক সপ্তাহ আগে দেশজুড়ে আলোচনায় আসা হরিদাস চন্দ্র তরণী দাসকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের ক্রিমিনাল ইনভেস্টিগেশন ডিপার্টমেন্ট (সিআইডি)। রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি মানি লন্ডারিং (অর্থ পাচার) মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

রোববার (১২ জুলাই) দিবাগত রাত প্রায় ১২টার দিকে পলাশবাড়ী উপজেলার হোসেনপুর ইউনিয়নের মধ্যরামচন্দ্রপুর এলাকার শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ কালী মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে তাকে আটক করা হয়।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, গভীর রাতে কয়েকজন ব্যক্তি জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) পরিচয়ে মন্দিরে প্রবেশ করেন। পরে তারা হরিদাস চন্দ্রকে বাইরে ডেকে আনেন এবং হাতকড়া পরিয়ে একটি গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। ঘটনার পরপরই এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়।

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে পলাশবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সরোয়ার আলম খান বলেন, রাজধানীর উত্তরা পশ্চিম থানায় দায়ের করা একটি মানি লন্ডারিং মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে সিআইডি তাকে গ্রেপ্তার করেছে। পরবর্তী আইনি কার্যক্রম সংশ্লিষ্ট সংস্থাই পরিচালনা করবে।

হরিদাস চন্দ্র তরণী দাস চলতি বছরের জুন মাসে গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে ৮১ ফুট উচ্চতার রামমূর্তি নির্মাণের পরিকল্পনা ঘোষণা করে আলোচনায় আসেন। প্রকল্পটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ধর্মীয় মহল এবং বিভিন্ন পর্যায়ে ব্যাপক আলোচনা ও মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

পরিস্থিতি বিবেচনায় জুনের শেষ দিকে শ্রী শ্রী রাধা গোবিন্দ ও কালী মন্দির পরিচালনা কমিটি মূর্তি নির্মাণের কার্যক্রম স্থগিত করার ঘোষণা দেয়। সে সময় কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তারা দাবি করেন, এ সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক চাপ ছিল না।

এদিকে হরিদাস চন্দ্রকে গ্রেপ্তারের পর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। মন্দির প্রাঙ্গণ ও আশপাশের গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে, যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয়।

তদন্ত-সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, মামলার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে আদালতের সিদ্ধান্ত এবং তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতেই পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারিত হবে।

Share this news as a Photo Card