শিরোনাম :
চিকিৎসকের গায়ে হাত নিয়ে ধর্মঘট, অবাবস্থাপনায় বাড়ছে মৃতের সংখ্যা সংবিধান কমিটি প্রত্যাখ্যান, ছয় দফা দাবিতে অনড় ১১-দলীয় জোট জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে সোমবার নিউইয়র্ক যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অপ্রতিম হত্যাকাণ্ডে নতুন মোড়, অভিযুক্ত তুহিনের বাসা থেকে মিলল নিহতের মায়ের আইফোন মেধা শঙ্কর-সময় রায়নার বিয়ের গুঞ্জন, নেই সরকারি ঘোষণা মায়ের আইফোন নিয়ে বেরিয়ে নিখোঁজ শিশুর মরদেহ জঙ্গলে উদ্ধার পানি ঘোলা করে খাবে বিএনপি— মন্তব্য জামায়াত আমিরের ঢাকাজুড়ে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ, তিনটি বাসে আগুন হাতকড়া পরিয়ে হাসিনাকে বরণের ঘোষণা বিমানমন্ত্রীর নতুন কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে বাড়তি গ্যাস

চিকিৎসকের গায়ে হাত নিয়ে ধর্মঘট, অবাবস্থাপনায় বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে চিকিৎসকদের কর্মবিরতির ঘটনায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা। হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, চিকিৎসাসেবা কার্যত ব্যাহত হয়ে পড়েছে, আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা।

জানা গেছে, গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই রোগীর এক স্বজন দায়িত্বরত চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকরা অভ্যন্তরীণ বৈঠক করে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেন। তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।
এই কর্মবিরতির কারণে সংশ্লিষ্ট সময়ে একাধিক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে ভর্তি রোগীদের স্বজনরা দাবি করেছেন, যদিও এই দাবির সরাসরি প্রমাণ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি—এ অংশটি স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখযোগ্য। রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, চিকিৎসকরা নিয়মিত রাউন্ডে এসে রোগী দেখছেন না, ফলে তারা যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেনি বলে অভিযোগ। পরিচালকের ব্যক্তিগত সচিবের (পিএস) নম্বর দেওয়া হলেও একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সাড়া মেলেনি বলে জানা গেছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনে আরও কিছু দীর্ঘদিনের সমস্যা সামনে এসেছে। রোগী ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে লিফটগুলোতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালের প্রায় ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ লিফট প্রায়শই বন্ধ থাকে, আর সচল লিফটগুলোতেও ফ্যান ও বাতি না থাকায় রাতের বেলা নারী রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। কোনো লিফটেই দায়িত্বরত লিফটম্যান পাওয়া যায়নি বলে রোগীরা জানিয়েছেন। এই সমস্যাটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে বলে তাদের অভিযোগ।
এছাড়া হাসপাতালের ওয়াশরুমগুলোর অবস্থা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রোগীরা। তাদের ভাষ্যমতে, কিছু ওয়াশরুম এতটাই অপরিচ্ছন্ন যে প্রবেশযোগ্য নয়, আবার কোনো কোনোটিতে দরজাও নেই।
ওষুধ সরবরাহ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। রোগীরা জানান, প্রয়োজনীয় ওষুধ চাইলে প্রায়ই “সরবরাহ নেই” বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বেলা ১২টার পর কোনো পরীক্ষার জন্য টাকা জমা নেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। ফলে ভর্তি রোগীর জরুরি কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন হলে বাইরের বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক থেকে তা করিয়ে আনতে হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা এসব সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি চেয়েছেন। তাদের একাংশের অভিযোগ, কর্মবিরতি চলাকালীন কিছু চিকিৎসক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখছেন—এই দাবিও নিশ্চিত সূত্র থেকে যাচাই করা যায়নি, তাই এটিকেও অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
সব মিলিয়ে চিকিৎসক-রোগী সম্পর্কের এক জটিল সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, যেখানে একদিকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবি, অন্যদিকে রোগীদের ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির অধিকার—দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা প্রয়োজন হবে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

চিকিৎসকের গায়ে হাত নিয়ে ধর্মঘট, অবাবস্থাপনায় বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

নতুন কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হচ্ছে বাড়তি গ্যাস

১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

চিকিৎসকের গায়ে হাত নিয়ে ধর্মঘট, অবাবস্থাপনায় বাড়ছে মৃতের সংখ্যা

আপডেট সময় ০৩:৫৬:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট উত্তেজনার জেরে চিকিৎসকদের কর্মবিরতির ঘটনায় চরম ভোগান্তির মুখে পড়েছেন সাধারণ রোগীরা। হাসপাতাল ঘুরে দেখা গেছে, চিকিৎসাসেবা কার্যত ব্যাহত হয়ে পড়েছে, আর এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে দীর্ঘদিনের অবকাঠামোগত সমস্যা।

জানা গেছে, গত বুধবার (১৭ সেপ্টেম্বর) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক রোগীর মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে ওই রোগীর এক স্বজন দায়িত্বরত চিকিৎসকের গায়ে হাত তোলেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে চিকিৎসকরা অভ্যন্তরীণ বৈঠক করে কর্মবিরতির সিদ্ধান্ত নেন। তারা জানিয়েছেন, অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে যথাযথ আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে।
এই কর্মবিরতির কারণে সংশ্লিষ্ট সময়ে একাধিক রোগীর মৃত্যু হয়েছে বলে ভর্তি রোগীদের স্বজনরা দাবি করেছেন, যদিও এই দাবির সরাসরি প্রমাণ বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি—এ অংশটি স্বতন্ত্রভাবে উল্লেখযোগ্য। রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, চিকিৎসকরা নিয়মিত রাউন্ডে এসে রোগী দেখছেন না, ফলে তারা যথাযথ চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে হাসপাতাল প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কর্তৃপক্ষ সন্তোষজনক কোনো উত্তর দিতে পারেনি বলে অভিযোগ। পরিচালকের ব্যক্তিগত সচিবের (পিএস) নম্বর দেওয়া হলেও একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সাড়া মেলেনি বলে জানা গেছে।
হাসপাতাল পরিদর্শনে আরও কিছু দীর্ঘদিনের সমস্যা সামনে এসেছে। রোগী ও দর্শনার্থীদের ভিড়ে লিফটগুলোতে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। অভিযোগ অনুযায়ী, হাসপাতালের প্রায় ৬০ থেকে ৮০ শতাংশ লিফট প্রায়শই বন্ধ থাকে, আর সচল লিফটগুলোতেও ফ্যান ও বাতি না থাকায় রাতের বেলা নারী রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। কোনো লিফটেই দায়িত্বরত লিফটম্যান পাওয়া যায়নি বলে রোগীরা জানিয়েছেন। এই সমস্যাটি দীর্ঘদিন ধরে চলে আসছে বলে তাদের অভিযোগ।
এছাড়া হাসপাতালের ওয়াশরুমগুলোর অবস্থা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন রোগীরা। তাদের ভাষ্যমতে, কিছু ওয়াশরুম এতটাই অপরিচ্ছন্ন যে প্রবেশযোগ্য নয়, আবার কোনো কোনোটিতে দরজাও নেই।
ওষুধ সরবরাহ নিয়েও অভিযোগ উঠেছে। রোগীরা জানান, প্রয়োজনীয় ওষুধ চাইলে প্রায়ই “সরবরাহ নেই” বলে জানিয়ে দেওয়া হয়। পাশাপাশি বেলা ১২টার পর কোনো পরীক্ষার জন্য টাকা জমা নেওয়া হয় না বলেও অভিযোগ করেছেন তারা। ফলে ভর্তি রোগীর জরুরি কোনো পরীক্ষার প্রয়োজন হলে বাইরের বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিক থেকে তা করিয়ে আনতে হয় বলে জানিয়েছেন স্বজনরা।
ভর্তি রোগী ও তাদের স্বজনরা এসব সমস্যা থেকে দ্রুত মুক্তি চেয়েছেন। তাদের একাংশের অভিযোগ, কর্মবিরতি চলাকালীন কিছু চিকিৎসক বেসরকারি হাসপাতালে নিয়মিত রোগী দেখছেন—এই দাবিও নিশ্চিত সূত্র থেকে যাচাই করা যায়নি, তাই এটিকেও অভিযোগ হিসেবেই বিবেচনা করা উচিত।
সব মিলিয়ে চিকিৎসক-রোগী সম্পর্কের এক জটিল সংকটের চিত্র ফুটে উঠেছে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে, যেখানে একদিকে চিকিৎসকদের নিরাপত্তার দাবি, অন্যদিকে রোগীদের ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা প্রাপ্তির অধিকার—দুটোই সমান গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বা জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে যুক্ত করা প্রয়োজন হবে।

Share this news as a Photo Card