শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাসপ্তমীর আমেজ পেরিয়ে আজ সোমবার মহাষ্টমী। উৎসবের চতুর্থ দিনের এই সকালে রাজধানীর গোপীবাগের রামকৃষ্ণ মিশনসহ কয়েকটি মণ্ডপে একসঙ্গে অনুষ্ঠিত হবে কুমারী পূজা। গতকাল রোববার সন্ধ্যার পর থেকে মণ্ডপে মণ্ডপে ভক্ত, পূজারি ও দর্শনার্থীর ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। অনেক রাত পর্যন্ত চলেছে প্রতিমা দর্শন।
এবার পঞ্জিকা অনুযায়ী সপ্তমী তিথি দুদিন পড়ায় শনিবার প্রথম দিনের মহাসপ্তমী পালিত হয়েছে। গতকাল রোববার সকাল ৬টা ২২ মিনিটের মধ্যে দ্বিতীয় দিনের মতো দেবীর শুক্লা সপ্তমীবিহিত (অধিক) পূজা সম্পন্ন হয়। অনেক মণ্ডপে ভক্তিমূলক সংগীত, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও মেলার আয়োজন রয়েছে।
আজ সকাল ৭টা ৩৪ মিনিটের মধ্যে দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও মহাষ্টমীবিহিত পূজা অনুষ্ঠিত হবে। সন্ধি পূজা হবে সন্ধ্যা ৭টা ৫৫ মিনিট থেকে রাত ৮টা ৪৩ মিনিটের মধ্যে। তবে রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠসহ কয়েকটি মণ্ডপে বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত পঞ্জিকা অনুসরণ করে দুর্গাপূজা হওয়ায় সেখানে পূজার সময়ে কিছুটা হেরফের ঘটবে।
আজকের দিনের প্রধান আকর্ষণ কুমারী পূজা। রামকৃষ্ণ মিশন ও মঠের পূজামণ্ডপে সকাল সাড়ে ১০টায় এ পূজা হবে। শাস্ত্রীয় বিধান অনুযায়ী, অল্পবয়সী একটি মেয়েকে দেবী দুর্গার প্রতীক হিসেবে গণ্য করে পূজা করা হয়। মিশন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রথা ও নিরাপত্তার কারণে পূজার আগ পর্যন্ত মেয়েটির নাম ও পরিচয় প্রকাশ করা হয় না।
রাজধানীতে ভক্তি আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাস
কেউ প্রতিমার সামনে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন, কেউ বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডায় মগ্ন। কারও ব্যস্ততা আবার মণ্ডপের সাজসজ্জা ঘিরে ভিডিও বানানোয়। এরই মধ্যে মাইকে ভেসে আসে মন্ত্রপাঠের ধ্বনি, শুরু হয় পুষ্পাঞ্জলির প্রস্তুতি। তখন ছবি তোলা থামিয়ে সবাই প্রার্থনায় দাঁড়ান। গতকাল বনানী, মৌচাক, রমনা ও রামপুরাসহ বিভিন্ন এলাকার মন্দির ও মণ্ডপ ঘুরে এমন দৃশ্যই দেখা গেছে। ভক্তি, পারিবারিক বন্ধন আর তারুণ্যের উচ্ছ্বাসে রাজধানীতে উদযাপিত হচ্ছে শারদীয় দুর্গোৎসব।
বনানীর কামাল আতাতুর্ক পার্কে গুলশান-বনানী সর্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের মণ্ডপের মূল ভাবনা এবার ‘জলজ’। জলকে জীবন ও সৃষ্টির উৎস হিসেবে তুলে ধরতে বাঁশ, বেত, পাট ও প্রাকৃতিক তন্তু দিয়ে সাজানো হয়েছে মণ্ডপ। পদ্মফুলের আদলে গড়া কাঠামোর কেন্দ্রে রয়েছে দেবী দুর্গার প্রতিমা, পেছনে শঙ্খের অনুষঙ্গ। স্থপতি অমিতি কুণ্ডু ও শিল্পী পার্থপ্রতিম সাহার পরিকল্পনা ও তত্ত্বাবধানে মণ্ডপটি নির্মিত হয়েছে।
সিদ্ধেশ্বরী কালীমন্দিরেও পূজার আনুষ্ঠানিকতা ঘিরে ভক্তদের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। সেখানে মেয়েকে নিয়ে প্রতিমার সামনে ছবি তুলছিলেন মাঝবয়সী অর্ণব দত্ত। তিনি বলেন, ‘আমার স্ত্রী দেশের বাইরে। তাই যতটা সম্ভব ছবি তুলে ও ভিডিও করে তাঁকে পাঠাই।’
রমনা কালীমন্দিরের পূজা প্রাঙ্গণে বসেছে সপ্তাহব্যাপী মেলা। আলোকসজ্জায় সাজানো সেই মেলা ঘুরে পুকুরপাড়ে দেখা যায় তরুণদের আড্ডা, চা খাওয়া আর ছবি তোলার ব্যস্ততা।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 




















