শিরোনাম :
২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে পাঁচজন, হামের উপসর্গে তিন শিশুর মৃত্যু আওয়ামী লীগ ‘পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে বড় চোরের দল’: স্পিকার ইউরোপ জুড়ে বিক্ষোভ হুতি হামলা ঠেকাতে সৌদি আরবে টাইফুন যুদ্ধবিমান পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়তে চাই: প্রধানমন্ত্রী প্রশাসনের ঘুম ভাঙিয়ে ঢাকা জাগালেন তারেক রহমান জানা গেল রমজান শুরু তারিখ সন্তানের ভবিষ্যতের কথা মনে করে ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন রাখুন: প্রধানমন্ত্রী ব্যালন ডি’অরের সেরা মৌসুমের ভোটে মেসিকে ছাড়িয়ে ২০০৮ সালের রোনালদো ফ্রান্সজুড়ে সহিংসতা ও লুটপাট, চাপে ম্যাক্রোঁ, জরুরি বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী

ফ্রান্সজুড়ে সহিংসতা ও লুটপাট, চাপে ম্যাক্রোঁ, জরুরি বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের জেরে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা ও লুটপাটে চাপের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার। পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ অক্টোবর) জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু।

শান্তিপূর্ণ শুরু, তারপর অস্থিরতা

শনিবার (১৭ অক্টোবর) জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি আর সরকারি সেবার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে দেশজুড়ে রাস্তায় নামেন পাঁচ লাখের বেশি মানুষ। বিক্ষোভের শুরুটা ছিল শান্তিপূর্ণ। পরে মুখোশধারী কয়েকটি গোষ্ঠীর সহিংসতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

প্রায় ১ হাজার ৫০০ দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লুটপাট বা ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। সংঘর্ষে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর।

প্রেসিডেন্টের ভাষণ ও সমালোচনা

সহিংসতা ঠেকাতে কারফিউ বা জরুরি অবস্থা জারির গুঞ্জন উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। রোববার (১৮ অক্টোবর) টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রোঁ জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান এবং সহিংসতায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার আশ্বাস দেন। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপের ঘোষণা না থাকায় বিরোধী রাজনীতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি

বিক্ষোভকারীদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে হবে, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে এবং সরকারি সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে। দেশটির শ্রমিক সংগঠন সিজিটির মহাসচিব সোফি বেনের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও জীবনযাত্রার সংকট মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগের কথা বলেননি ম্যাক্রোঁ। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভে সহিংসতার কারণ এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

দায় নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সহিংসতার দায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও চলছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। ম্যাক্রোঁ ও প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু দায়ী করেছেন কট্টর বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধীদের। বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ সমালোচনা করেছেন সরকারের অদক্ষতার। ডানপন্থী নেতা মেরিন লে পেনের অভিযোগ, ম্যাক্রোঁর সরকার দিশাহীন হয়ে পড়েছে।

অর্থনৈতিক সংকটের চাপ

রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি ফ্রান্সের অর্থনৈতিক সংকটও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণে ব্যয় কমানোর চাপ আছে। কিন্তু জনসেবা ও কল্যাণ খাতে কাটছাঁট করলে নতুন করে বিক্ষোভ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার।

সামনে আরও বিক্ষোভ

আগামী ৫ নভেম্বর বড় বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিক সংগঠন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের বিভিন্ন গোষ্ঠী। এর আগে শিক্ষার্থীদের ছুটির সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। তবে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

সূত্র: বিবিসি

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ফ্রান্সজুড়ে সহিংসতা ও লুটপাট, চাপে ম্যাক্রোঁ, জরুরি বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী

১৯ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ফ্রান্সজুড়ে সহিংসতা ও লুটপাট, চাপে ম্যাক্রোঁ, জরুরি বৈঠক ডাকলেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৩:৫৬:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ফ্রান্সজুড়ে বিক্ষোভের জেরে ছড়িয়ে পড়া সহিংসতা ও লুটপাটে চাপের মুখে পড়েছে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সরকার। পরিস্থিতি পর্যালোচনা ও পরবর্তী করণীয় ঠিক করতে স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ অক্টোবর) জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠক ডেকেছেন প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু।

শান্তিপূর্ণ শুরু, তারপর অস্থিরতা

শনিবার (১৭ অক্টোবর) জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি আর সরকারি সেবার মান কমে যাওয়ার প্রতিবাদে দেশজুড়ে রাস্তায় নামেন পাঁচ লাখের বেশি মানুষ। বিক্ষোভের শুরুটা ছিল শান্তিপূর্ণ। পরে মুখোশধারী কয়েকটি গোষ্ঠীর সহিংসতায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।

প্রায় ১ হাজার ৫০০ দোকান ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান লুটপাট বা ভাঙচুরের শিকার হয়েছে। পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ও জলকামান ব্যবহার করে। সংঘর্ষে প্রায় এক হাজার পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন, তাঁদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর।

প্রেসিডেন্টের ভাষণ ও সমালোচনা

সহিংসতা ঠেকাতে কারফিউ বা জরুরি অবস্থা জারির গুঞ্জন উঠেছিল। শেষ পর্যন্ত তা হয়নি। রোববার (১৮ অক্টোবর) টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণে ম্যাক্রোঁ জাতীয় ঐক্যের আহ্বান জানান এবং সহিংসতায় জড়িতদের বিচারের মুখোমুখি করার আশ্বাস দেন। তবে সুনির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপের ঘোষণা না থাকায় বিরোধী রাজনীতিক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাঁর বক্তব্যের সমালোচনা হয়েছে।

বিক্ষোভকারীদের দাবি

বিক্ষোভকারীদের দাবি, জীবনযাত্রার ব্যয় কমাতে হবে, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন ঘটাতে হবে এবং সরকারি সেবার মান নিশ্চিত করতে হবে। দেশটির শ্রমিক সংগঠন সিজিটির মহাসচিব সোফি বেনের অভিযোগ, শিক্ষার্থীদের উদ্বেগ ও জীবনযাত্রার সংকট মোকাবিলায় কার্যকর উদ্যোগের কথা বলেননি ম্যাক্রোঁ। পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের প্রেসিডেন্ট ইয়েল ব্রাউন-পিভে সহিংসতার কারণ এবং পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন।

দায় নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ

সহিংসতার দায় নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যেও চলছে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ। ম্যাক্রোঁ ও প্রধানমন্ত্রী লেকর্নু দায়ী করেছেন কট্টর বামপন্থী গোষ্ঠী ও অপরাধীদের। বামপন্থী নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ সমালোচনা করেছেন সরকারের অদক্ষতার। ডানপন্থী নেতা মেরিন লে পেনের অভিযোগ, ম্যাক্রোঁর সরকার দিশাহীন হয়ে পড়েছে।

অর্থনৈতিক সংকটের চাপ

রাজনৈতিক অস্থিরতার পাশাপাশি ফ্রান্সের অর্থনৈতিক সংকটও পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। সরকারি ঋণ নিয়ন্ত্রণে ব্যয় কমানোর চাপ আছে। কিন্তু জনসেবা ও কল্যাণ খাতে কাটছাঁট করলে নতুন করে বিক্ষোভ বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে সরকার।

সামনে আরও বিক্ষোভ

আগামী ৫ নভেম্বর বড় বিক্ষোভের ঘোষণা দিয়েছে শ্রমিক সংগঠন ও ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের বিভিন্ন গোষ্ঠী। এর আগে শিক্ষার্থীদের ছুটির সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত থাকবে বলে আশা করছে কর্তৃপক্ষ। তবে আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকেরা।

সূত্র: বিবিসি

Share this news as a Photo Card