শিরোনাম :
ইরান যুদ্ধের অবসানে কূটনীতির চেষ্টা, কাতারের আমিরকে ট্রাম্পের ফোন ওপেনিংয়ে ওলটপালট, শেষ বিকেলে হৃদয়-মুশফিকের প্রতিরোধ সংবিধানে আল্লাহর প্রতি আস্থা ফেরানোর প্রতিশ্রুতি দিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আগামী গ্রীষ্মের আগেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য: বিদ্যুৎমন্ত্রী ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে : প্রধানমন্ত্রী এআই যেন বেকারত্ব আরও জটিল না করে, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস হারিয়ে ইরান যুদ্ধের দায় আংশিক মানলেন ট্রাম্প মোংলায় নতুন শিল্পকারখানা গড়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর ‘ফিউচার মেকার্স’ জিতে নিল ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কিশোর নাভহান মারধরের মামলায় পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, পরীমনির জামিন মঞ্জুর

৭ নভেম্বরের কুচকাওয়াজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সিপাহী-জনতার বিপ্লবকে স্মরণ

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত কুচকাওয়াজে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। সেখানে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত শেষে তিনি কুচকাওয়াজে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতেরাও এতে অংশ নিয়েছেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) তিন হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। তাঁর ভাষ্যে, ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের শত্রু ও মিত্র চিহ্নিত করার দিন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চরম আকার ধারণ করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় পহেলা নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়। স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দি রেখে শুরু হওয়া সেই চক্রান্ত সিপাহী-জনতা রুখে দিয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এ কারণেই জাতীয়তাবাদী গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর।

তারেক রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, যারা দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে এবং একদলীয় শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল, সেই শক্তি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত হয়েছে। তবে পরাজিত সেই শক্তির ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি বলে দাবি করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা মহাজোটের নামে একজোট হয়ে আবার দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। পিলখানায় বিডিআরের ঘটনাকে তিনি “পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ” আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েমের অভিযোগও তোলেন তিনি।

২০২৪ সালের প্রসঙ্গ

বক্তব্যে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গও আসে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ৭ নভেম্বরের সেই পরাজিত শক্তি আবার পরাজিত হয়েছে এবং দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহত ও শহীদদের অবদান তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তাঁর ভাষ্য, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও সিপাহী-জনতা একইভাবে রাজপথে নেমে এসেছিল।

ঐক্য ও পরিচয়ের কথা

৭ নভেম্বরকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দিন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই দিনটি ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ণয়ের দিন। যতবার দেশ এই পথরেখা থেকে সরে গেছে, ততবার জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি ৭ নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের “ম্যাগনা কার্টা” বলে অভিহিত করেন।

বক্তব্যের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, সব নাগরিকের একটাই গর্বিত পরিচয়, তাঁরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়ই মানুষকে ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রাসঙ্গিক থাকবে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

৭ নভেম্বরের কুচকাওয়াজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সিপাহী-জনতার বিপ্লবকে স্মরণ

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মারধরের মামলায় পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, পরীমনির জামিন মঞ্জুর

০৫ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

৭ নভেম্বরের কুচকাওয়াজে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সিপাহী-জনতার বিপ্লবকে স্মরণ

আপডেট সময় ১২:২৯:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে রাজধানীর বনানীর আর্মি স্টেডিয়ামে আয়োজিত কুচকাওয়াজে যোগ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আজ শনিবার (৭ নভেম্বর) সকালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সমাধিতে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন তিনি। সেখানে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত শেষে তিনি কুচকাওয়াজে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে উপস্থিত রয়েছেন সেনাবাহিনী ও বিমানবাহিনীর প্রধান, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য এবং সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক ও রাষ্ট্রদূতেরাও এতে অংশ নিয়েছেন।

প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনায় এবং সশস্ত্র বাহিনীর তত্ত্বাবধানে এই আয়োজন করা হয়েছে। অনুষ্ঠানের বিশেষ প্রদর্শনীতে অংশ নিচ্ছেন বাংলাদেশ ন্যাশনাল ক্যাডেট কোরের (বিএনসিসি) তিন হাজার ক্যাডেট এবং বাংলাদেশ স্কাউটসের ৫০০ সদস্য।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য

অনুষ্ঠানে দেওয়া বক্তব্যে তারেক রহমান বলেন, ১৯৭৫ সালের এই দিনে দেশপ্রেমিক সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধভাবে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের বিরুদ্ধে সব ষড়যন্ত্র রুখে দিয়েছিল। তাঁর ভাষ্যে, ৭ নভেম্বর ছিল বাংলাদেশের শত্রু ও মিত্র চিহ্নিত করার দিন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৫ সালের নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চরম আকার ধারণ করেছিল। সেই ধারাবাহিকতায় পহেলা নভেম্বর দিবাগত মধ্যরাতে তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল জিয়াউর রহমানকে সপরিবারে গৃহবন্দি করা হয়। স্বাধীনতার ঘোষককে বন্দি রেখে শুরু হওয়া সেই চক্রান্ত সিপাহী-জনতা রুখে দিয়েছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, এ কারণেই জাতীয়তাবাদী গণতন্ত্রকামী মানুষের কাছে ৭ নভেম্বর জাতীয় ঐক্যের চেতনার বাতিঘর।

তারেক রহমানের বক্তব্য অনুযায়ী, যারা দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করতে এবং একদলীয় শাসন কায়েম করতে চেয়েছিল, সেই শক্তি ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পরাজিত হয়েছে। তবে পরাজিত সেই শক্তির ষড়যন্ত্র থেমে থাকেনি বলে দাবি করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা মহাজোটের নামে একজোট হয়ে আবার দেশকে তাবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করেছিল। পিলখানায় বিডিআরের ঘটনাকে তিনি “পরিকল্পিত সেনা হত্যাযজ্ঞ” আখ্যা দিয়ে বলেন, এতে সেনাবাহিনীর গৌরব ও মর্যাদা ক্ষুণ্ন হয়েছে। একই সঙ্গে গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার কেড়ে নিয়ে ফ্যাসিবাদী শাসন কায়েমের অভিযোগও তোলেন তিনি।

২০২৪ সালের প্রসঙ্গ

বক্তব্যে ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গও আসে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, হাজারো শহীদের প্রাণের বিনিময়ে ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী গণ-অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ৭ নভেম্বরের সেই পরাজিত শক্তি আবার পরাজিত হয়েছে এবং দেশ ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে। ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে হতাহত ও শহীদদের অবদান তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।

তাঁর ভাষ্য, ১৯৭১ সালের যুদ্ধ ছিল স্বাধীনতা অর্জনের, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট যেভাবে সর্বস্তরের মানুষ রাজপথে নেমেছিল, ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরও সিপাহী-জনতা একইভাবে রাজপথে নেমে এসেছিল।

ঐক্য ও পরিচয়ের কথা

৭ নভেম্বরকে ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ দিন উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, এই দিনটি ছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ পথরেখা নির্ণয়ের দিন। যতবার দেশ এই পথরেখা থেকে সরে গেছে, ততবার জনগণের সার্বভৌমত্ব হুমকির মুখে পড়েছে। তিনি ৭ নভেম্বরকে স্বাধীন বাংলাদেশের ইতিহাসের “ম্যাগনা কার্টা” বলে অভিহিত করেন।

বক্তব্যের শেষ দিকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠী, সব নাগরিকের একটাই গর্বিত পরিচয়, তাঁরা বাংলাদেশি। এই পরিচয়ই মানুষকে ঐক্যবদ্ধ জাতিতে পরিণত করেছে বলে তিনি মনে করেন। তাঁর ভাষ্য, যতদিন বাংলাদেশ থাকবে, ততদিন ৭ নভেম্বরের সিপাহী-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের গুরুত্ব ও তাৎপর্য প্রাসঙ্গিক থাকবে।

Share this news as a Photo Card