কুড়িগ্রামের দুধকুমার নদে নদীশাসন প্রকল্পের বাঁধ ঘেঁষে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের অভিযোগ উঠেছে।
ভূরুঙ্গামারী উপজেলার আন্ধারীঝাড় ইউনিয়নের চর ধার্উরারকুটি এবং নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ ইউনিয়নের নতুন সুইসগেট (কমলারকুটি) এলাকায় গত এক সপ্তাহ ধরে এভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
এতে নদীভাঙনের ঝুঁকিতে পড়েছে ফসলি জমি, বসতবাড়ি ও গুরুত্বপূর্ণ সুইসগেট। একই সঙ্গে চলমান নদীশাসন প্রকল্পের বাঁধও হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, হাজীরমোড় এলাকার বালু ব্যবসায়ী ইসাহাক আলী ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দুধকুমার নদ থেকে বালু উত্তোলন করছেন।
প্রতি হাজার ঘনফুট বালু প্রায় ৬ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে নদীর বাঁধ ঘেঁষে এভাবে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে।
সরেজমিনে জানা যায়, দুধকুমার নদীর ভাঙন রোধে চর ধার্উরারকুটি থেকে রায়গঞ্জ ইউনিয়নের নতুন সুইসগেট (কমলারকুটি) পর্যন্ত এলাকায় একনেকের অনুমোদিত প্রকল্পের আওতায় নদীশাসনের কাজ চলমান রয়েছে। ইতোমধ্যে নদীর তীরবর্তী বাঁধে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে এবং বোল্ডার দিয়ে বাঁধ নির্মাণের প্রস্তুতি চলছে। এমন পরিস্থিতিতে বাঁধের কাছাকাছি ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ফলে স্রোতের গতিপথ ও নদীর তলদেশের ভারসাম্য পরিবর্তিত হয়ে ভাঙন তীব্র হতে পারে।
ইতোমধ্যে একের পর এক ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে এবং বসতবাড়িও ভাঙনের হুমকিতে রয়েছে। নদীর তীরে অবস্থিত নতুন সুইসগেটও ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন তাঁরা।
স্থানীয় কৃষক বাবলু মিয়া, হাসান আলী, মতিউর রহমান, হযরত আলী, শাহের উদ্দিন ও জামাত আলীসহ কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, নদীর বাঁধ ঘেঁষে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনের কারণে তাঁদের ফসলি জমি নদীতে বিলীন হচ্ছে। বসতবাড়িও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। তাঁদের অভিযোগ, হাজীরমোড় এলাকার ইসাহাক আলী বর্তমান সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে এবং রাজনৈতিক প্রভাব দেখিয়ে বালু উত্তোলন ও বিক্রি করছেন।
তবে বালু ব্যবসায়ী ইসাহাক আলী দাবি করেন, বর্তমান সংসদ সদস্য তাঁকে বালু উত্তোলনের মৌখিক নির্দেশ দিয়েছেন। এ ছাড়া ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবগত করেই ড্রেজার মেশিন দিয়ে দুধকুমার নদ থেকে বালু উত্তোলন করছেন।
এ বিষয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেব নাথ বলেন, ‘অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে নদী থেকে বালু উত্তোলনের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথ বলেন, ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে বালু উত্তোলন করা হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এলাকাবাসীর দাবি, চলমান নদীশাসন প্রকল্প ও নদীর তীরবর্তী জনবসতি রক্ষায় দ্রুত অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে ঘটনাস্থল সরেজমিনে পরিদর্শন করে বালু উত্তোলনের বৈধতা যাচাই, জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত কৃষিজমি ও বসতবাড়ি রক্ষায় এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
নুরুল আমিন, (স্টাফ রিপোর্টার) 























