শিরোনাম :
বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকতে গবেষণা ও এআইয়ে জোর দিতে বললেন শিক্ষামন্ত্রী বন্যায় প্লাবিত গাজার ৭০ হাজার তাঁবু, ঝুঁকিতে ৪ লাখ মানুষ সড়কে একসঙ্গে প্রাণ হারাচ্ছে পরিবার, ছয় বছরে প্রায় ৩০০ পরিবার নিশ্চিহ্ন সিলেট টেস্টে হজের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে কঠিন হলো বাংলাদেশের জয়ের পথ সমবায় আন্দোলনকে দুর্নীতিমুক্ত ও পুনরুজ্জীবিত করার আহ্বান রাষ্ট্রপতির সমবায়ের আদর্শে মানুষকে স্বনির্ভর করতে হবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী মাদ্রাসায় মুজিববাদ-মওদুদীবাদ চলবে না: সরোয়ার আলমগীর ৬ থেকে ১৬ বছর বয়সী শিশুরাও এনআইডি সেবার আওতায় আসবে: ইসি টং দোকান থেকে ক্যাসিনো সম্রাট রুবেল শত কোটি টাকার মালিক! ঘুম ভেঙেই মোবাইল নয়, ভোরের আলোয় খুঁজুন জীবনের সৌন্দর্য

ভূরুঙ্গামারীতে বিধবার সোয়া লাখ টাকার গাছ আটকে দিলো ইউপি চেয়ারম্যান

কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় এক বিধবা নারী তার জমিতে থাকা সোয়া লাখ টাকা মূল্যের শাল গাছ বিক্রি করলে তা আটক করে পরিষদে রেখেছেন পাইকেরছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার । এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেও গাছ ফেরত পাচ্ছেন না ওই নারী।  
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকেরছড়া এলাকার রশিদা বেগমের স্বামী ফয়েজ উদ্দিন প্রায় ৪৩ বছর আগে পার্শ্ববতী টরেয়া ব্যাপারীর নিকট ৮ শতক জমি কিনে ভোগদখল শুরু করেন।  ক্রয়কৃত জায়গায় একটি শালগাছের চারা থাকায় সেটি ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময়ে গাছটি বিশাল আকৃতির বড় হয়ে যায়। এক সময় স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা রশিদা বেগম সংসারে অভাব অনটনের প্রয়োজনে গাছটি বিক্রি করতে চাইলে পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাছটি তার ভাইয়ের দাবি করে কাটতে বাধা প্রদান করেন। বাধা পেয়ে ভুক্তভোগী বিধবা রাশিদা বেগম গাছ কাটার অনুমতি চেয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক সুষ্ঠু তদন্ত করে জানতে পারেন, যে জায়গাটিতে শাল গাছটি রয়েছে সে জায়গাটি এবং গাছটি রশিদা বেগমের।  যেখানে সরকারের কোনো স্বার্থ জড়িত নেই মর্মে গাছটি কেটে নেয়ার জন্য অনুমতি দিয়ে চিঠি প্রদান করেন।
চিঠি পেয়ে রশিদা বেগম তার ক্রয়কৃত জায়গার শাল গাছটি আব্দুল করিম নামের এক গাছের পাইকারের নিকট ১ লাখ ১৮ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করলে গত ২০ আগস্ট ওই পাইকার গাছটি কেটে নিয়ে ভ্যানগাড়িতে করে সাধুর মোড় এলাকায় তার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গেলে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, দেওয়ানের খামার এলাকার রহমান হাজীর ছেলে খালেদুল ও সেলিম মিয়া, প্রতিবেশী জোনাতুল্লা মুন্সির ছেলে কাছুয়াসহ কয়েকজন মিলে পরিবহনকৃত গাছের গাড়ি আটক দিয়ে গাছের খন্ডগুলো নামিয়ে নেন।  ফলে গাছের মূল্যের টাকা রশিদা বেগমের নিকট ফেরত চেয়ে গাছের পাইকার আব্দুল করিম চাপ দিচ্ছে।
এ অবস্থায় লোকবল না থাকায় ওই বিধবা নারী রশিদা বেগম দিশাহারা হয়ে গাছ উদ্ধারে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।
বিধবা রশিদা বেগম জানায়,  আমার স্বামীর কেনা জমিতে গাছ বড় করেছি। কিন্তু রাজ্জাক চেয়ারম্যান ওই গাছের দাবি করে এখন গাছের তিন ভাগের দুই ভাগ অর্থ দাবি করছে। না হলে নাকি গাছ দেবে না। আমি একজন বিধবা মহিলা। এই গাছ বিক্রির টাকায় আমি আমার সংসারের খরচ মেটাব। এবং কিছু ঋণ পরিশোধ করব। কিন্তু চেয়ারম্যানের কারণে পারছি না। পাওনাদাররা আমাকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছে। আমার জায়গার আশেপাশে তো চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের কারো কোনো জায়গাও নেই। তাহলে উনি গাছের দাবি করেন কীভাবে। আমি একজন অসহায় বিধবা বলে চেয়ারম্যান গায়ের জোরে এমন করছে।
আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই এবং আমার গাছ ফেরত চাই।
এ বিষেয় জমির পূর্ববতী মালিক টরেয়া ব্যাপারী জানান, জমিটা আমি বহু বছর আগে রশিদা বেগমের স্বামীর কাছে বিক্রি করেছি। ওই জমিতেই গাছ। এ হিসেবে গাছটি জমির বর্তমান মালিকের। জমির সাথেই আমার আরও অন্য জমি রয়েছে। কিন্তু ওই গাছ অন্য কেউ দাবি করে কীভাবে আমার বুঝে আসে না।
গাছের পাইকার আব্দুল করিম জানান, ১ লাখ ১৮ হাজার টাকায় তিনি গাছাটি কিনেছেন। গাছ কেটে নিয়ে সাধুর বাজারের কাছে তার বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরিষদের সামনে দিয়ে যাওয়ার পথেই চেয়ারম্যান ও তার চৌকিদার মিলে হুমকী ধামকী দিয়ে ১০টি ভ্যানগাড়ির গাছের খন্ডগুলো নামিয়ে নিয়েছে।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের সাথে কথা বলতে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে পরিষদ বন্ধ পাওয়া যায়।
 তবে পরিষদের সামনে গাছের গুড়িগুলো দেখা গেছে। মোবাইল ফোনে চেয়ারম্যান জানান জায়গাটি রশিদা বেগমের হলেও আব্দুল ওহাব সরকার নামের একজন গাছটি রোপন করেছিলো। তাই আটক দেয়া হয়েছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য দুই পক্ষকে ডাকা হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপজন মিত্রকে একাধিকবার ফোন দিলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Share this news as a Photo Card

ট্যাগস

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় টিকতে গবেষণা ও এআইয়ে জোর দিতে বললেন শিক্ষামন্ত্রী

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

ঘুম ভেঙেই মোবাইল নয়, ভোরের আলোয় খুঁজুন জীবনের সৌন্দর্য

০৮ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ভূরুঙ্গামারীতে বিধবার সোয়া লাখ টাকার গাছ আটকে দিলো ইউপি চেয়ারম্যান

আপডেট সময় ১১:১৭:৩১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৯ অগাস্ট ২০২৫
কুড়িগ্রাম জেলার ভূরুঙ্গামারী উপজেলায় এক বিধবা নারী তার জমিতে থাকা সোয়া লাখ টাকা মূল্যের শাল গাছ বিক্রি করলে তা আটক করে পরিষদে রেখেছেন পাইকেরছড়া ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক সরকার । এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিত অভিযোগ করেও গাছ ফেরত পাচ্ছেন না ওই নারী।  
অভিযোগে জানা যায়, উপজেলার পাইকেরছড়া ইউনিয়নের পাইকেরছড়া এলাকার রশিদা বেগমের স্বামী ফয়েজ উদ্দিন প্রায় ৪৩ বছর আগে পার্শ্ববতী টরেয়া ব্যাপারীর নিকট ৮ শতক জমি কিনে ভোগদখল শুরু করেন।  ক্রয়কৃত জায়গায় একটি শালগাছের চারা থাকায় সেটি ধীরে ধীরে বেড়ে উঠেছে। দীর্ঘ সময়ে গাছটি বিশাল আকৃতির বড় হয়ে যায়। এক সময় স্বামীর মৃত্যুর পর বিধবা রশিদা বেগম সংসারে অভাব অনটনের প্রয়োজনে গাছটি বিক্রি করতে চাইলে পাইকেরছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাছটি তার ভাইয়ের দাবি করে কাটতে বাধা প্রদান করেন। বাধা পেয়ে ভুক্তভোগী বিধবা রাশিদা বেগম গাছ কাটার অনুমতি চেয়ে ভূরুঙ্গামারী উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নিকট লিখিতভাবে অভিযোগ করেন।
অভিযোগের প্রেক্ষিতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) কর্তৃক সুষ্ঠু তদন্ত করে জানতে পারেন, যে জায়গাটিতে শাল গাছটি রয়েছে সে জায়গাটি এবং গাছটি রশিদা বেগমের।  যেখানে সরকারের কোনো স্বার্থ জড়িত নেই মর্মে গাছটি কেটে নেয়ার জন্য অনুমতি দিয়ে চিঠি প্রদান করেন।
চিঠি পেয়ে রশিদা বেগম তার ক্রয়কৃত জায়গার শাল গাছটি আব্দুল করিম নামের এক গাছের পাইকারের নিকট ১ লাখ ১৮ হাজার টাকার বিনিময়ে বিক্রি করলে গত ২০ আগস্ট ওই পাইকার গাছটি কেটে নিয়ে ভ্যানগাড়িতে করে সাধুর মোড় এলাকায় তার বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। কিন্তু নিয়ে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে ইউনিয়ন পরিষদের সামনে গেলে ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক, দেওয়ানের খামার এলাকার রহমান হাজীর ছেলে খালেদুল ও সেলিম মিয়া, প্রতিবেশী জোনাতুল্লা মুন্সির ছেলে কাছুয়াসহ কয়েকজন মিলে পরিবহনকৃত গাছের গাড়ি আটক দিয়ে গাছের খন্ডগুলো নামিয়ে নেন।  ফলে গাছের মূল্যের টাকা রশিদা বেগমের নিকট ফেরত চেয়ে গাছের পাইকার আব্দুল করিম চাপ দিচ্ছে।
এ অবস্থায় লোকবল না থাকায় ওই বিধবা নারী রশিদা বেগম দিশাহারা হয়ে গাছ উদ্ধারে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না।
বিধবা রশিদা বেগম জানায়,  আমার স্বামীর কেনা জমিতে গাছ বড় করেছি। কিন্তু রাজ্জাক চেয়ারম্যান ওই গাছের দাবি করে এখন গাছের তিন ভাগের দুই ভাগ অর্থ দাবি করছে। না হলে নাকি গাছ দেবে না। আমি একজন বিধবা মহিলা। এই গাছ বিক্রির টাকায় আমি আমার সংসারের খরচ মেটাব। এবং কিছু ঋণ পরিশোধ করব। কিন্তু চেয়ারম্যানের কারণে পারছি না। পাওনাদাররা আমাকে নানাভাবে চাপ দিচ্ছে। আমার জায়গার আশেপাশে তো চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের কারো কোনো জায়গাও নেই। তাহলে উনি গাছের দাবি করেন কীভাবে। আমি একজন অসহায় বিধবা বলে চেয়ারম্যান গায়ের জোরে এমন করছে।
আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই এবং আমার গাছ ফেরত চাই।
এ বিষেয় জমির পূর্ববতী মালিক টরেয়া ব্যাপারী জানান, জমিটা আমি বহু বছর আগে রশিদা বেগমের স্বামীর কাছে বিক্রি করেছি। ওই জমিতেই গাছ। এ হিসেবে গাছটি জমির বর্তমান মালিকের। জমির সাথেই আমার আরও অন্য জমি রয়েছে। কিন্তু ওই গাছ অন্য কেউ দাবি করে কীভাবে আমার বুঝে আসে না।
গাছের পাইকার আব্দুল করিম জানান, ১ লাখ ১৮ হাজার টাকায় তিনি গাছাটি কিনেছেন। গাছ কেটে নিয়ে সাধুর বাজারের কাছে তার বাড়িতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। পরিষদের সামনে দিয়ে যাওয়ার পথেই চেয়ারম্যান ও তার চৌকিদার মিলে হুমকী ধামকী দিয়ে ১০টি ভ্যানগাড়ির গাছের খন্ডগুলো নামিয়ে নিয়েছে।
এ ব্যাপারে চেয়ারম্যান ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাকের সাথে কথা বলতে ইউনিয়ন পরিষদে গেলে পরিষদ বন্ধ পাওয়া যায়।
 তবে পরিষদের সামনে গাছের গুড়িগুলো দেখা গেছে। মোবাইল ফোনে চেয়ারম্যান জানান জায়গাটি রশিদা বেগমের হলেও আব্দুল ওহাব সরকার নামের একজন গাছটি রোপন করেছিলো। তাই আটক দেয়া হয়েছে। বিষয়টি মীমাংসার জন্য দুই পক্ষকে ডাকা হয়েছে।
এ বিষয়ে কথা বলতে উপজেলা নির্বাহী অফিসার দীপজন মিত্রকে একাধিকবার ফোন দিলেও তার ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।

Share this news as a Photo Card