দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা মেলা আয়োজনের অনুমতি দিয়েছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এই মেলা আয়োজন করবে ফাউন্ডেশন অব এডুকেশনাল ট্রান্সপারেন্সি (এফইটি)। তবে এ আয়োজনের সঙ্গে সরকারের কোনো আর্থিক সম্পৃক্ততা থাকবে না বলে স্পষ্ট করেছে মন্ত্রণালয়।
সোমবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এফইটি নিজস্ব অর্থায়ন ও উদ্যোগে দেশের সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা মেলা আয়োজন করতে পারবে। তবে এ আয়োজন পরিচালনায় মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত শর্তাবলি কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে।
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শিক্ষা মেলার মূল লক্ষ্য হবে শিক্ষার্থীদের পাঠাভ্যাস গড়ে তোলা, সৃজনশীলতা বিকাশে উৎসাহ দেওয়া এবং আনন্দময় শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করা। সে কারণে মেলায় শুধু প্রদর্শনী নয়, শিক্ষার্থীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার মতো নানা কার্যক্রম রাখতে হবে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, শিক্ষা মেলায় শিক্ষার্থীদের উপযোগী শিক্ষামূলক বইয়ের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা থাকতে হবে। পাশাপাশি তাদের চিন্তাশক্তি, কল্পনাশক্তি ও মননশীলতা বিকাশে সহায়ক বিভিন্ন শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে কুইজ, জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতা, সৃজনশীল কার্যক্রম এবং অন্যান্য শিক্ষামূলক আয়োজন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে বিজয়ীদের জন্য পুরস্কারের ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
মন্ত্রণালয় বলেছে, শিক্ষা মেলার পুরো ব্যয় বহন করবে আয়োজক প্রতিষ্ঠান এফইটি। এ কার্যক্রমে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের কোনো ধরনের আর্থিক দায় বা অংশগ্রহণ থাকবে না। অর্থাৎ এটি সম্পূর্ণভাবে বেসরকারি উদ্যোগে বাস্তবায়িত হবে।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এমন আয়োজন শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবইয়ের বাইরে নতুন জ্ঞান, বইপড়া এবং সৃজনশীল কর্মকাণ্ডের প্রতি আগ্রহ বাড়াতে সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ভিত্তিক আনন্দমুখর শিক্ষার পরিবেশ তৈরিতেও এ ধরনের উদ্যোগ ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রাথমিক শিক্ষা পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের কৌতূহল, সৃজনশীলতা এবং অংশগ্রহণমূলক শিক্ষাকে উৎসাহিত করতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। শিক্ষা মেলাও সেই ধারাবাহিকতার একটি অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর জানিয়েছে, শিক্ষা মেলা আয়োজনের সময় সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। একই সঙ্গে নিশ্চিত করতে হবে, সব কার্যক্রম শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, নৈতিক বিকাশ এবং সৃজনশীল চিন্তাকে উৎসাহিত করার লক্ষ্যেই পরিচালিত হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষা মেলা আয়োজনের এ উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের জন্য বই, জ্ঞানচর্চা এবং অংশগ্রহণভিত্তিক শিক্ষার নতুন একটি ক্ষেত্র তৈরি করতে পারে। তবে পুরো আয়োজন হবে নির্ধারিত নীতিমালা মেনে এবং সরকারি অর্থায়নের বাইরে, সম্পূর্ণ আয়োজক প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্যবস্থাপনায়।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 




















