শিরোনাম :
আগামী গ্রীষ্মের আগেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য: বিদ্যুৎমন্ত্রী ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে : প্রধানমন্ত্রী এআই যেন বেকারত্ব আরও জটিল না করে, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস হারিয়ে ইরান যুদ্ধের দায় আংশিক মানলেন ট্রাম্প মোংলায় নতুন শিল্পকারখানা গড়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর ‘ফিউচার মেকার্স’ জিতে নিল ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কিশোর নাভহান মারধরের মামলায় পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, পরীমনির জামিন মঞ্জুর শিল্পমালিক ও সাবেক মন্ত্রীরা পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়ন শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তায় ঢাকা ও আশপাশে মোতায়েন ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মাল্টা পাইকারিতে ১৮৫, খুচরায় ৩৯০ টাকা: দামে এত ফারাক কেন

চট্টগ্রামের টানা বৃষ্টি জলবায়ুর নতুন সতর্কবার্তা

চট্টগ্রামের টানা বৃষ্টি জলবায়ুর নতুন সতর্কবার্তা
চট্টগ্রামে জুলাইয়ের শুরুতে মাত্র আট দিনের ব্যবধানে প্রায় ১ হাজার ৪৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য অনুযায়ী, এটি গত সাত দশকের অন্যতম বড় ধারাবাহিক বর্ষণ। যদিও এক দিনের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ভাঙেনি, তবে টানা কয়েক দিন ধরে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অতি ভারী বৃষ্টিপাতই এবারের ঘটনাকে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে।
শুধু চট্টগ্রাম নয়, একই সময়ে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া ও টেকনাফসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধসের আশঙ্কা এবং বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৃষ্টিকে আলাদা কোনো ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ধারাবাহিকভাবে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেছে। শীতের শেষ থেকে দীর্ঘ সময় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি ছিল না। এরপর এপ্রিলে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টি হলেও জুনে আবার বৃষ্টির ঘাটতির পাশাপাশি দীর্ঘ তাপপ্রবাহ দেখা যায়। সেই অস্বাভাবিক ধারারই সর্বশেষ অধ্যায় হিসেবে এসেছে জুলাইয়ের এই অতিবৃষ্টি।
আবহাওয়াবিদদের ভাষ্য, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্প, নিম্নচাপের প্রভাব এবং বৈশ্বিক জলবায়ুগত পরিবর্তনের সম্মিলিত কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি এল নিনোর প্রভাবও বৃষ্টির ধরন পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, উষ্ণ বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হয়ে হঠাৎ অল্প কয়েক দিনের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ছে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বৈশিষ্ট্য।
চট্টগ্রামের মতো পাহাড় ও উপকূলঘেরা অঞ্চলে এমন দীর্ঘস্থায়ী ভারী বৃষ্টি নগর অবকাঠামো এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দ্রুত অচল হয়ে পড়ে, পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং উপকূলে জোয়ারের সঙ্গে মিলিত হলে বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে। তাই নগর পরিকল্পনা, পানি নিষ্কাশন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পাহাড় ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিতে নতুন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের এবারের বর্ষণ শুধু একটি আবহাওয়াগত রেকর্ড নয়; এটি বাংলাদেশের পরিবর্তিত জলবায়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা মানুষের জীবন, কৃষি, অবকাঠামো ও অর্থনীতির ওপর আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামে জেলা শিল্পী কল্যাণ সোসাইটির যাত্রা শুরু

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মাল্টা পাইকারিতে ১৮৫, খুচরায় ৩৯০ টাকা: দামে এত ফারাক কেন

০৫ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

চট্টগ্রামের টানা বৃষ্টি জলবায়ুর নতুন সতর্কবার্তা

আপডেট সময় ০১:১৪:২৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

চট্টগ্রামের টানা বৃষ্টি জলবায়ুর নতুন সতর্কবার্তা
চট্টগ্রামে জুলাইয়ের শুরুতে মাত্র আট দিনের ব্যবধানে প্রায় ১ হাজার ৪৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত দেশের আবহাওয়া ও জলবায়ু নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তরের দীর্ঘমেয়াদি তথ্য অনুযায়ী, এটি গত সাত দশকের অন্যতম বড় ধারাবাহিক বর্ষণ। যদিও এক দিনের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের রেকর্ড ভাঙেনি, তবে টানা কয়েক দিন ধরে বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে অতি ভারী বৃষ্টিপাতই এবারের ঘটনাকে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে।
শুধু চট্টগ্রাম নয়, একই সময়ে কক্সবাজার, বান্দরবান, রাঙামাটি, সীতাকুণ্ড, সন্দ্বীপ, হাতিয়া, কুতুবদিয়া ও টেকনাফসহ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের অধিকাংশ এলাকায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টি হয়েছে। ফলে জলাবদ্ধতা, পাহাড়ধসের আশঙ্কা এবং বন্যার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বৃষ্টিকে আলাদা কোনো ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। গত কয়েক মাসে বাংলাদেশের আবহাওয়ায় ধারাবাহিকভাবে অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা গেছে। শীতের শেষ থেকে দীর্ঘ সময় উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি ছিল না। এরপর এপ্রিলে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি বৃষ্টি হলেও জুনে আবার বৃষ্টির ঘাটতির পাশাপাশি দীর্ঘ তাপপ্রবাহ দেখা যায়। সেই অস্বাভাবিক ধারারই সর্বশেষ অধ্যায় হিসেবে এসেছে জুলাইয়ের এই অতিবৃষ্টি।
আবহাওয়াবিদদের ভাষ্য, সক্রিয় মৌসুমি বায়ু, বঙ্গোপসাগর থেকে আসা প্রচুর জলীয় বাষ্প, নিম্নচাপের প্রভাব এবং বৈশ্বিক জলবায়ুগত পরিবর্তনের সম্মিলিত কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি এল নিনোর প্রভাবও বৃষ্টির ধরন পরিবর্তনে ভূমিকা রাখতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, উষ্ণ বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয় বাষ্প ধারণ করতে পারে। ফলে দীর্ঘ সময় বৃষ্টি না হয়ে হঠাৎ অল্প কয়েক দিনের মধ্যে বিপুল পরিমাণ বৃষ্টিপাতের প্রবণতা বাড়ছে। এটি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি বৈশিষ্ট্য।
চট্টগ্রামের মতো পাহাড় ও উপকূলঘেরা অঞ্চলে এমন দীর্ঘস্থায়ী ভারী বৃষ্টি নগর অবকাঠামো এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে। পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা দ্রুত অচল হয়ে পড়ে, পাহাড়ধসের ঝুঁকি বেড়ে যায় এবং উপকূলে জোয়ারের সঙ্গে মিলিত হলে বন্যা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে এমন চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটতে পারে। তাই নগর পরিকল্পনা, পানি নিষ্কাশন, বন্যা নিয়ন্ত্রণ, পাহাড় ব্যবস্থাপনা এবং দুর্যোগ প্রস্তুতিতে নতুন বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
সব মিলিয়ে চট্টগ্রামের এবারের বর্ষণ শুধু একটি আবহাওয়াগত রেকর্ড নয়; এটি বাংলাদেশের পরিবর্তিত জলবায়ুর একটি গুরুত্বপূর্ণ সংকেত। সময়মতো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে এমন ঘটনা মানুষের জীবন, কৃষি, অবকাঠামো ও অর্থনীতির ওপর আরও বড় প্রভাব ফেলতে পারে।

Share this news as a Photo Card