শিরোনাম :
আগামী গ্রীষ্মের আগেই সৌরবিদ্যুৎ থেকে ৫ হাজার মেগাওয়াট উৎপাদনের লক্ষ্য: বিদ্যুৎমন্ত্রী ষড়যন্ত্রকারীদের ২০২৪ সালের মতোই জনগণ উচিত জবাব দেবে : প্রধানমন্ত্রী এআই যেন বেকারত্ব আরও জটিল না করে, সতর্ক করলেন রাষ্ট্রপতি মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেস হারিয়ে ইরান যুদ্ধের দায় আংশিক মানলেন ট্রাম্প মোংলায় নতুন শিল্পকারখানা গড়ার ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর ‘ফিউচার মেকার্স’ জিতে নিল ব্রিটিশ-বাংলাদেশি কিশোর নাভহান মারধরের মামলায় পরোয়ানার পর আদালতে আত্মসমর্পণ, পরীমনির জামিন মঞ্জুর শিল্পমালিক ও সাবেক মন্ত্রীরা পোশাক শ্রমিকদের আন্দোলনে অর্থায়ন শিল্পাঞ্চলের নিরাপত্তায় ঢাকা ও আশপাশে মোতায়েন ৩৩ প্লাটুন বিজিবি মাল্টা পাইকারিতে ১৮৫, খুচরায় ৩৯০ টাকা: দামে এত ফারাক কেন

হরমুজ সংকটে তেলের বাজারে রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা

বিশ্ব তেলবাজার দীর্ঘদিন নানা সংকট সামলে যে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছিল, ইরান-সংশ্লিষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির নতুন মোড়ে তা এখন সবচেয়ে বড় চাপের মুখে। বিশ্লেষকদের ভাষ্যে, চলমান সরবরাহ সংকট এযাবৎকালের সবচেয়ে গুরুতর—যদিও নানা বিকল্প ব্যবস্থার কারণে ভোক্তাপর্যায়ে মূল্যস্ফীতির আঘাত এখনো ততটা তীব্র হয়নি। যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে বটে, তবে ২০২২ সালের ১২৮ ডলার কিংবা ২০০৮ সালের রেকর্ড ১৪৬ ডলারের সীমা এখনো ছোঁয়নি।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে চড়ায়, পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বিশ্লেষক হেলিমা ক্রফট সতর্ক করেছেন, বাজার এতদিন যেভাবে সংকটের বিকল্প পথ বের করে নিয়েছে, সংঘাত আরও তীব্র হলে সেই ধারা আর নাও টিকতে পারে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম মে মাসের পর প্রথমবার ১০০ ডলার ছাড়িয়েছিল, পরে সামান্য কমে আসে।
পরিবহন সংকটও ঘনীভূত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানি হামলার জেরে সেখানকার ট্যাংকার চলাচল প্রায় স্থবির, আর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত বাব আল-মানদেব পথও হুতি অবরোধে কার্যত অচল। এর ওপর ইরান ফের টোল আরোপের ঘোষণা দেওয়ায় জাহাজগুলোর বিমা ঝুঁকিতে পড়েছে, কারণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী এই টোল পরিশোধ বেআইনি বিবেচিত হতে পারে।
সংকট আর শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রুশ শোধনাগার ও কৃষ্ণসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাশিয়া ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
মজুতের চিত্রও উদ্বেগজনক। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্নে নেমেছে, আর বাণিজ্যিক মজুতও ন্যূনতম সীমার কাছাকাছি। এদিকে চীন এত দিন নিজস্ব বিপুল মজুত দিয়ে চাহিদা সামাল দিলেও, বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে দেশটিকে ফের আমদানি বাড়াতে হবে।
গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক ডান স্ট্রুইভেনের পূর্বাভাস, পরিস্থিতির অবনতি হলে অক্টোবরের মধ্যে দাম ফের ১২০ ডলার ছাড়াতে পারে। আর হেলিমা ক্রফটের আশঙ্কা, পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ বাধলে ব্যারেলপ্রতি দাম ১৫০ ডলার পেরিয়ে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

কুড়িগ্রামে জেলা শিল্পী কল্যাণ সোসাইটির যাত্রা শুরু

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

মাল্টা পাইকারিতে ১৮৫, খুচরায় ৩৯০ টাকা: দামে এত ফারাক কেন

০৫ নভেম্বর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

হরমুজ সংকটে তেলের বাজারে রেকর্ড মূল্যবৃদ্ধির শঙ্কা

আপডেট সময় ০২:৫৯:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ জুলাই ২০২৬

বিশ্ব তেলবাজার দীর্ঘদিন নানা সংকট সামলে যে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছিল, ইরান-সংশ্লিষ্ট যুদ্ধ পরিস্থিতির নতুন মোড়ে তা এখন সবচেয়ে বড় চাপের মুখে। বিশ্লেষকদের ভাষ্যে, চলমান সরবরাহ সংকট এযাবৎকালের সবচেয়ে গুরুতর—যদিও নানা বিকল্প ব্যবস্থার কারণে ভোক্তাপর্যায়ে মূল্যস্ফীতির আঘাত এখনো ততটা তীব্র হয়নি। যুদ্ধ শুরুর পর অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে বটে, তবে ২০২২ সালের ১২৮ ডলার কিংবা ২০০৮ সালের রেকর্ড ১৪৬ ডলারের সীমা এখনো ছোঁয়নি।
তবে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা নতুন করে চড়ায়, পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যাচ্ছে। আরবিসি ক্যাপিটাল মার্কেটসের বিশ্লেষক হেলিমা ক্রফট সতর্ক করেছেন, বাজার এতদিন যেভাবে সংকটের বিকল্প পথ বের করে নিয়েছে, সংঘাত আরও তীব্র হলে সেই ধারা আর নাও টিকতে পারে। বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম মে মাসের পর প্রথমবার ১০০ ডলার ছাড়িয়েছিল, পরে সামান্য কমে আসে।
পরিবহন সংকটও ঘনীভূত হচ্ছে। হরমুজ প্রণালিতে ইরানি হামলার জেরে সেখানকার ট্যাংকার চলাচল প্রায় স্থবির, আর বিকল্প হিসেবে ব্যবহৃত বাব আল-মানদেব পথও হুতি অবরোধে কার্যত অচল। এর ওপর ইরান ফের টোল আরোপের ঘোষণা দেওয়ায় জাহাজগুলোর বিমা ঝুঁকিতে পড়েছে, কারণ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অনুযায়ী এই টোল পরিশোধ বেআইনি বিবেচিত হতে পারে।
সংকট আর শুধু মধ্যপ্রাচ্যে সীমাবদ্ধ নেই। ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় রুশ শোধনাগার ও কৃষ্ণসাগরের একটি গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনাল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় রাশিয়া ডিজেল রপ্তানি বন্ধ করেছে, যা বৈশ্বিক সরবরাহে বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
মজুতের চিত্রও উদ্বেগজনক। যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত তেল মজুত ১৯৮৩ সালের পর সর্বনিম্নে নেমেছে, আর বাণিজ্যিক মজুতও ন্যূনতম সীমার কাছাকাছি। এদিকে চীন এত দিন নিজস্ব বিপুল মজুত দিয়ে চাহিদা সামাল দিলেও, বিশ্লেষকদের ধারণা, আগামী তিন-চার মাসের মধ্যে দেশটিকে ফের আমদানি বাড়াতে হবে।
গোল্ডম্যান স্যাকসের বিশ্লেষক ডান স্ট্রুইভেনের পূর্বাভাস, পরিস্থিতির অবনতি হলে অক্টোবরের মধ্যে দাম ফের ১২০ ডলার ছাড়াতে পারে। আর হেলিমা ক্রফটের আশঙ্কা, পূর্ণাঙ্গ আঞ্চলিক যুদ্ধ বাধলে ব্যারেলপ্রতি দাম ১৫০ ডলার পেরিয়ে নতুন রেকর্ড গড়তে পারে।

Share this news as a Photo Card