কুমিল্লায় স্কুলছাত্রী জান্নাতুন তাজমীনের হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এগিয়ে চলেছে। হত্যার আগে তাঁকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হতে তাঁর সোয়াব ও ব্যবহৃত পোশাক সিআইডির ফরেনসিক ডিএনএ ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। পাশাপাশি তাঁর মোবাইল ফোনেরও ফরেনসিক পরীক্ষা করা হবে।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা লালমাই থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুল্লাহ আল ফারুক জানান, এসব আলামত ল্যাবরেটরিতে পাঠানোর অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য, তদন্তে কোনো বিষয়ই বাদ দেওয়া হবে না। আসামিকে ইতোমধ্যে আদালতে হাজির করা হয়েছে এবং প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়েছে।
লালমাই থানার ওসি মো. মিজানুর রহমান বলেন, ভিকটিমের সোয়াব ও পোশাক ডিএনএ পরীক্ষার জন্য সিআইডির ফরেনসিকে পাঠানোর কাজ চলছে। মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
ঘটনার বিবরণ
পুলিশ সূত্র জানায়, গত বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে ফিরে কিশোরী কুমিল্লা নগরের পাদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে নামেন। সেখানে অটোরিকশাচালক সুমন মিয়া ৩০০ টাকা ভাড়ায় তাঁকে রেসকোর্স এলাকার বাসায় পৌঁছে দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু বাসায় না নিয়ে তিনি কিশোরীকে লালমাই উপজেলার একটি নির্জন কৃষিজমিতে নিয়ে যান। পুলিশের দাবি, সেখানে তাঁকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার পর কিশোরীর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে একটি দামি আইফোন নিয়ে অন্য একটি অটোরিকশায় পালিয়ে যান সুমন। গত বৃহস্পতিবার লালমাইয়ের জগতপুর এলাকার একটি কৃষিজমি থেকে ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় কিশোরীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। পরে চট্টগ্রাম থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত শনিবার আদালতে দেওয়া স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে সুমন মিয়া কিশোরীকে প্রথমে ধর্ষণ ও পরে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানা গেছে।
কক্সবাজার যোগ ও রিয়াজের বক্তব্য
তদন্ত সূত্র বলছে, কয়েক সপ্তাহ আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিশোরীর পরিচয় হয় রিয়াজ উদ্দিন ওরফে রাজু নামে এক তরুণের সঙ্গে। নিখোঁজ হওয়ার আগে কিশোরী কক্সবাজারে গিয়ে রিয়াজের সঙ্গে ছিলেন বলে প্রাথমিক তদন্ত ও রিয়াজের স্বীকারোক্তিতে উঠে এসেছে। রোববার রাত সাড়ে ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকা থেকে রিয়াজকে আটক করে পুলিশ।
জেলা পুলিশের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা জানান, কক্সবাজারের হোটেলে কিশোরীকে ডেকে নেওয়া ওই তরুণকে আইনের আওতায় আনা হবে।
রাজু নিজেকে নির্দোষ দাবি করে নিখোঁজ হওয়ার রাতের কিছু তথ্য দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, বুধবার রাতে কক্সবাজার থেকে কুমিল্লার বাসায় ফিরে মেয়েটি প্রধান ফটক বন্ধ পান। বাবা-মাকে ফোনে না পেয়ে তিনি এক ‘আঙ্কেলের’ সঙ্গে যোগাযোগ করে তাঁর বাসায় যাওয়ার কথা জানান। রিয়াজ ভিডিও কল দিলে কিশোরীকে একটি সিএনজিচালিত অটোরিকশায় দেখতে পেয়ে বকাঝকা করেন। এরপর কিশোরী ফোন কেটে দেন এবং পরে মেসেজে জানান, সকালে বাসায় ফিরবেন। রিয়াজের ধারণা, মেয়েটি যাঁকে ‘আঙ্কেল’ বলছিলেন, তিনি আসলে অটোরিকশাচালকই হতে পারেন।
তদন্তের পরবর্তী দিক
গত শনিবার জেলা পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে সংবাদ ব্রিফিংয়ে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) পঙ্কজ বড়ুয়া বলেন, কিশোরী কক্সবাজারে কার সঙ্গে গিয়েছিলেন এবং হত্যাকাণ্ডের পেছনে আর কার কার ইন্ধন বা সম্পৃক্ততা রয়েছে, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কক্সবাজার ভ্রমণ থেকে নির্জন কৃষিজমিতে হত্যাকাণ্ড পর্যন্ত পুরো ঘটনার প্রকৃত চিত্র উদ্ঘাটনে পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনি সংস্থার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক 



















