শিরোনাম :
মন্দা ও মূল্যস্ফীতির সময় নীতি প্রবর্তনে নোবেল জিতলেন রবার্ট হল ও মাইকেল উডফোর্ড সন্ত্রাসবিরোধী মামলায় দুই সেনা কর্মকর্তা (অব:) গ্রেপ্তার ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক পরিচয়েই অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী আবুধাবি টেস্টে ৪৪৩ রানে এগিয়ে বাংলাদেশ, সেঞ্চুরির অপেক্ষায় লিটন রাজশাহীতে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস উদযাপন, ১৩০ জনের মাঝে ২৩ লাখ ৫৩ হাজার টাকা বিতরণ রবীন্দ্রনাথের গ্রাফিতিতে কালি ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্টের বিষবাষ্প আগামী ২১ জানুয়ারি থেকে পাঁচ ধাপে অনুষ্ঠিত হবে ইউপি নির্বাচন চুয়েটে তালা ভেঙে দপ্তরে নতুন উপাচার্য রুশ ডিজেল আমদানির পরিকল্পনায় ট্রাম্পকে ঘিরে ওয়াশিংটনে বিতর্ক জ্যাম কমাতে রাস্তায় নামলেন ঢাকার বাস মালিকরা

ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক পরিচয়েই অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

ধর্মের ভিত্তিতে নয়, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, নাগরিক হিসেবে যার যে অধিকার রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আসনটির আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে পূজার আমন্ত্রণ জানাতে গিয়েছিলেন।

বৈঠকে নেতারা বিএনপি সরকারের ক্ষমতায় আসার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে নেওয়া নানা উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোর জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান। নেতারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিতে বসবাস করছেন এবং কোনো সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে না। সরকারের প্রতি তাঁদের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে বলেও জানান তাঁরা।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই বলেছেন এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।’

মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান, সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।’

আওয়ামী লীগের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, মুসলমান কর্মীরা যেমন নির্যাতিত হয়েছেন, হিন্দু কর্মীরাও তেমনই হয়েছেন; সেখানে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না।

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহতালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।’

মতবিনিময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য। এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

নির্মাতা হওয়াই প্রধান লক্ষ্য, অভিনেতা পরিচয় বাড়তি পাওয়া: শিমুল শর্মা

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

জ্যাম কমাতে রাস্তায় নামলেন ঢাকার বাস মালিকরা

১২ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

ধর্মের ভিত্তিতে নয়, নাগরিক পরিচয়েই অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৪:১৬:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬

ধর্মের ভিত্তিতে নয়, দেশের নাগরিক হিসেবে প্রত্যেকের প্রাপ্য অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, নাগরিক হিসেবে যার যে অধিকার রয়েছে, তা নিশ্চিত করা সরকারপ্রধান হিসেবে তাঁর দায়িত্ব।

সোমবার (১২ অক্টোবর) সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ঢাকা-১৭ আসনের হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আসনটির আটটি মন্দিরের প্রতিনিধিরা প্রধানমন্ত্রীকে পূজার আমন্ত্রণ জানাতে গিয়েছিলেন।

বৈঠকে নেতারা বিএনপি সরকারের ক্ষমতায় আসার পর হিন্দু সম্প্রদায়ের কল্যাণে নেওয়া নানা উদ্যোগের প্রশংসা করেন। পূজার ছুটি ও অনুদান বাড়ানোর জন্য তাঁরা প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদও জানান। নেতারা বলেন, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর তাঁরা শান্তিতে বসবাস করছেন এবং কোনো সমস্যার মুখে পড়তে হচ্ছে না। সরকারের প্রতি তাঁদের সমর্থন ও সহযোগিতা থাকবে বলেও জানান তাঁরা।

এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা নিজেরাই বলেছেন এই অল্প সময়ের মধ্যে যতটুকু কাজ হয়েছে, আমরা তা করেছি। আরও কিছু বিষয়ে আমরা চেষ্টা করছি। এ থেকেই প্রমাণ হয়, আমাদের সদিচ্ছা রয়েছে।’

মুক্তিযুদ্ধ ও দেশের বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, তাঁর বাবা মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। সেই যুদ্ধে মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান, সব ধর্মের মানুষ অংশ নিয়েছেন। ১৯৯০ সালের গণ-আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের আন্দোলনেও ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে সবাই অংশগ্রহণ করেছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জাতির ক্রান্তিলগ্নে যখন আমরা ধর্মকে বিবেচনায় আনিনি, তখন অন্য কাজে কেন ধর্মকে বিবেচনা করব? দেশটা সবাই মিলে স্বাধীন করেছি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সবাই অংশ নিয়েছি।’

আওয়ামী লীগের শাসনামলে আন্দোলন-সংগ্রামে বিভিন্ন ধর্মের নেতাকর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর ভাষ্য, মুসলমান কর্মীরা যেমন নির্যাতিত হয়েছেন, হিন্দু কর্মীরাও তেমনই হয়েছেন; সেখানে ধর্মের কোনো পার্থক্য ছিল না।

নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, আল্লাহতালা আমাকে একটি সুযোগ দিয়েছেন। আমি আমার অবস্থান থেকে চেষ্টা করব, ধর্মের পরিপ্রেক্ষিতে নয়, বরং মানুষ হিসেবে প্রত্যেককে আমার ক্ষমতার মধ্যে যতটুকু নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব, তা নিশ্চিত করতে।’

মতবিনিময়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের নেতাদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য রমেশ দত্ত, গুলশান-বনানী সার্বজনীন পূজা ফাউন্ডেশনের সভাপতি অলক সাহা, বারিধারা ডিওএইচ পূজা কমিটির সভাপতি জীবন কানাই দাস, ব্রিটিশ চন্দ্র কর্মকার, নারায়ণ চন্দ্র সাহা, প্রদীপ চন্দ্র দাস, শিখা রানী দাস, শ্যামল কুমার দাস ও রাজিব কুমার আচার্য। এ ছাড়া ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য তারেক রহমানের প্রতিনিধি আব্দুর রহমান সানি এবং বনানী সোসাইটির কোষাধ্যক্ষ সফিকুজ্জামান রতন উপস্থিত ছিলেন।

Share this news as a Photo Card