চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যে প্রশাসনিক ভবনের তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে প্রবেশ করেছেন নতুন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। সোমবার (১২ অক্টোবর) সকাল পৌনে ৮টার দিকে তিনি প্রশাসনিক ভবন-২-এর তালা ভেঙে ভেতরে ঢোকেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ১১ ও ১২ অক্টোবর ঢাকায় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) একটি গুরুত্বপূর্ণ সভায় তার অংশ নেওয়ার কথা ছিল। এ জন্য ১০ অক্টোবর বিকেলে তার ঢাকা যাওয়ার কথাও জানানো হয়। তার অনুপস্থিতিতে ওই দুই দিনের জন্য যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আরাফাত রহমানকে উপাচার্যের রুটিন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
পূর্বঘোষিত সূচি অনুযায়ী উপাচার্য ঢাকায় থাকার কথা থাকলেও সোমবার সকালে একটি হাইয়েস মাইক্রোবাসে চড়ে তিনি ক্যাম্পাসে পৌঁছান। ফটকে নিজের পরিচয় দেন শুধু ‘শিক্ষক’ হিসেবে। পরে ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে নিয়ে তালা ভেঙে নিজের দপ্তরে যান।
এ প্রসঙ্গে শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবু সুফিয়ান আল সাবিত একটি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, “আমরা স্যারের সঙ্গে সাধারণ শিক্ষার্থী হিসেবেই ভেতরে ঢুকেছি। কোনো দলীয় পরিচয়ে ক্যাম্পাসে যাইনি। স্যার সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে নিজের কাজে যোগ দিয়েছেন।”
ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক বিপ্লব হোসেন তন্বয় বলেন, “সরকার যেহেতু স্যারকে দায়িত্ব দিয়েছে, তার দায়িত্ব পালনে আমরা ছাত্রদলের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করেছি।” শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “যাকে কোনো কাজ করতে দেওয়া হয়নি, তার কাজ নিয়ে শিক্ষার্থীদের শঙ্কিত হওয়া উচিত নয়। স্যারকে কাজের সুযোগ দিয়ে তাকে মূল্যায়ন করা উচিত।”
পরে রুটিন দায়িত্বে থাকা অধ্যাপক আরাফাত রহমান নতুন উপাচার্যের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। এর পর সকাল ১০টার দিকে উপাচার্য ভবনের সামনে জড়ো হতে থাকেন শিক্ষার্থীরা। সেখানে অবস্থান নিয়ে তারা নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানান।
চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মাহিদুর রহমান ওসমানী বলেন, “আমরা ওনাকে প্রত্যাখ্যান করেছি। সবাই যখন ঘুমে ছিল, তখন তিনি চুপিচুপি ঢুকলেই আমরা মেনে নেব, এটা ভাবা বোকামি। তার বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান অব্যাহত থাকবে।”
প্রেক্ষাপট
গত ২১ সেপ্টেম্বর দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র ৫৬ দিনের মাথায় অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে উপাচার্যের পদ থেকে অপসারণ করা হয়। একই দিন অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নতুন উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দিয়ে প্রজ্ঞাপন জারি হয়। এর প্রতিবাদে ওই রাতেই প্রশাসনিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন শিক্ষার্থীরা।
পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ‘সর্বাত্মক শাটডাউন’ কর্মসূচি চালিয়ে আসছেন তারা। এ সময় মশাল মিছিল ও লাল কার্ড প্রদর্শনসহ নানা কর্মসূচিও পালিত হয়েছে। সাবেক উপাচার্য সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও কর্মবিরতি ও অবস্থান কর্মসূচিতে আছেন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 




















