শিরোনাম :
পূজায় তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন, পাঁচ ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি প্রত্যাহার জনগণের অর্থের প্রতিটি পয়সার সঠিক ব্যয় নিশ্চিত করার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর রূপপুরে প্রথমবার পারমাণবিক বিক্রিয়া, নভেম্বরের শেষে গ্রিডে বিদ্যুৎ সৌদি আরব থেকে এক সপ্তাহে বিতাড়িত ১০ হাজার বাংলাদেশি হামে ২৪ ঘণ্টায় সাত শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১২৭৩ সেবার মান বাড়লে চিকিৎসায় বিদেশমুখী রোগীর সংখ্যা কমবে: রাষ্ট্রপতি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে জাপানি মারুবেনির বৈঠক, আলোচনায় এআই ডেটা সেন্টার কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) নিয়ে কাজের প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে: শিক্ষামন্ত্রী মুগ্ধসহ ১১ হত্যা: ২৬ আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন ট্রাইব্যুনালে পাকিস্তানের খাইবারে জরুরি অবস্থা জারি, পিটিআই সরকারের কার্যক্রম স্থগিত

গরুর মাংসের কেজি ২৫০ টাকায় নামাতে সরকারকে আইনি নোটিশ

গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনার দাবিতে সরকারের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।

নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সরকারি সংস্থার ছয়জন কর্মকর্তাকে প্রাপক করা হয়েছে। দাম কমানোর লক্ষ্যে জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত হালাল প্যাকেটজাত মাংস আমদানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চাওয়া হয়েছে আমদানি শুল্কের যৌক্তিকীকরণ।

বর্তমান বাজারদর নিয়ে নোটিশের বক্তব্য

নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের বাজারে এখন প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকায়। এই দামের কারণে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে মাংস কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে শিশুদের পুষ্টি এবং প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

আমদানির পক্ষে যুক্তি

দাবির সপক্ষে নোটিশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ‘তুলনামূলক সুবিধা তত্ত্ব’-এর কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, যে দেশ কম খরচে কোনো পণ্য উৎপাদন করতে পারে, সেখান থেকে আমদানি করলে ক্রেতারা কম দামে পণ্যটি পেতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রসঙ্গ টানা হয়েছে। নোটিশের ভাষ্য, বিদেশ থেকে কম খরচে গরুর মাংস আনার সুযোগ থাকলে দেশের বাজারেও প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।

দেশে মাংস উৎপাদনের খরচ কেন বেশি, সে বিষয়েও নোটিশে ব্যাখ্যা আছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চারণভূমি কম, পশুখাদ্যের দাম চড়া এবং গবাদিপশু পালনেও খরচ বেশি। বিপরীতে বিশ্বের কয়েকটি দেশে বিস্তীর্ণ চারণভূমি আছে এবং বড় পরিসরে পশু পালনের সুযোগ রয়েছে। ফলে সেসব দেশে তুলনামূলক কম খরচে মাংস উৎপাদন সম্ভব বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ভিত্তি

নোটিশে সংবিধানের ১৫(ক), ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে খাদ্য, পুষ্টি ও জীবনধারণের অধিকারের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। এতে বলা হয়, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, পুষ্টির মান উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

সময়সীমা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

নোটিশে সরকারকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত হালাল হিমায়িত বা শীতলীকৃত মাংস আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আমদানি শুল্কের যৌক্তিকীকরণ এবং গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ২৫০ টাকার মধ্যে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন করা হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়েছে।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

জনপ্রিয় সংবাদ

পূজায় তিন জোড়া বিশেষ ট্রেন, পাঁচ ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি প্রত্যাহার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

পাকিস্তানের খাইবারে জরুরি অবস্থা জারি, পিটিআই সরকারের কার্যক্রম স্থগিত

১১ অক্টোবর ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

গরুর মাংসের কেজি ২৫০ টাকায় নামাতে সরকারকে আইনি নোটিশ

আপডেট সময় ০৬:৫৩:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬

গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ২৫০ টাকায় নামিয়ে আনার দাবিতে সরকারের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। রোববার (১১ অক্টোবর) জনস্বার্থে এই নোটিশ পাঠান সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. মাহমুদুল হাসান মামুন।

নোটিশে মন্ত্রিপরিষদ সচিবসহ বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, অধিদপ্তর ও সরকারি সংস্থার ছয়জন কর্মকর্তাকে প্রাপক করা হয়েছে। দাম কমানোর লক্ষ্যে জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত হালাল প্যাকেটজাত মাংস আমদানির ওপর থাকা নিষেধাজ্ঞা তুলে নিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে চাওয়া হয়েছে আমদানি শুল্কের যৌক্তিকীকরণ।

বর্তমান বাজারদর নিয়ে নোটিশের বক্তব্য

নোটিশে বলা হয়েছে, দেশের বাজারে এখন প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৭৮০ থেকে ৮৫০ টাকায়। এই দামের কারণে দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও নির্দিষ্ট আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষে মাংস কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে। ফলে শিশুদের পুষ্টি এবং প্রাণিজ আমিষের চাহিদা পূরণ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কার কথাও তুলে ধরা হয়েছে।

আমদানির পক্ষে যুক্তি

দাবির সপক্ষে নোটিশে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ‘তুলনামূলক সুবিধা তত্ত্ব’-এর কথা বলা হয়েছে। এতে বলা হয়, যে দেশ কম খরচে কোনো পণ্য উৎপাদন করতে পারে, সেখান থেকে আমদানি করলে ক্রেতারা কম দামে পণ্যটি পেতে পারেন। উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানির প্রসঙ্গ টানা হয়েছে। নোটিশের ভাষ্য, বিদেশ থেকে কম খরচে গরুর মাংস আনার সুযোগ থাকলে দেশের বাজারেও প্রতিযোগিতা বাড়তে পারে।

দেশে মাংস উৎপাদনের খরচ কেন বেশি, সে বিষয়েও নোটিশে ব্যাখ্যা আছে। বলা হয়েছে, বাংলাদেশে চারণভূমি কম, পশুখাদ্যের দাম চড়া এবং গবাদিপশু পালনেও খরচ বেশি। বিপরীতে বিশ্বের কয়েকটি দেশে বিস্তীর্ণ চারণভূমি আছে এবং বড় পরিসরে পশু পালনের সুযোগ রয়েছে। ফলে সেসব দেশে তুলনামূলক কম খরচে মাংস উৎপাদন সম্ভব বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

সাংবিধানিক ভিত্তি

নোটিশে সংবিধানের ১৫(ক), ১৮(১) ও ৩২ অনুচ্ছেদের উল্লেখ করে খাদ্য, পুষ্টি ও জীবনধারণের অধিকারের বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। এতে বলা হয়, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, পুষ্টির মান উন্নয়ন ও জনস্বাস্থ্য রক্ষা রাষ্ট্রের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

সময়সীমা ও পরবর্তী পদক্ষেপ

নোটিশে সরকারকে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে জীবিত গরু এবং আন্তর্জাতিক মানের সনদপ্রাপ্ত হালাল হিমায়িত বা শীতলীকৃত মাংস আমদানির নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, আমদানি শুল্কের যৌক্তিকীকরণ এবং গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি ২৫০ টাকার মধ্যে আনতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।

নির্ধারিত সময়ে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী হাইকোর্ট বিভাগে জনস্বার্থে রিট পিটিশন করা হবে বলেও নোটিশে জানানো হয়েছে।

Share this news as a Photo Card