অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের তথ্য কাজে লাগিয়ে বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ ঠেকানো সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। একই অনুষ্ঠানে তিনি ঢাকা শহরের সাব-রেজিস্ট্রারদের পদায়নে লটারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগের কথাও জানান।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর ব্র্যাক লার্নিং সেন্টারে অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধন সফটওয়্যারের ব্যবহারবিষয়ক কর্মসূচির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
এক ব্যবস্থায় সব তথ্য
মন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে বিবাহ নিবন্ধনের তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্টের সঙ্গে যুক্ত করা হবে। কেন্দ্রীয়ভাবে এসব তথ্য সংযুক্ত হলে একজন মানুষের নানা তথ্য একটি ব্যবস্থার মাধ্যমেই পাওয়া যাবে। অনলাইনে বিবাহ ও তালাক নিবন্ধনের সুফল অনেক বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আইনমন্ত্রীর ভাষ্য, জন্মনিবন্ধন, এনআইডি ও পাসপোর্টের তথ্য এখন যেভাবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কিত, বিবাহ নিবন্ধনের তথ্যও একইভাবে যুক্ত হবে। তিনি বলেন, জন্মের পর শিশুর জন্মনিবন্ধন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। আঠারো বছর বয়সে এনআইডি করতে সেই তথ্য লাগে। আবার পাসপোর্টের জন্য প্রয়োজন হয় জন্মনিবন্ধন ও এনআইডির তথ্য। অর্থাৎ একজন ব্যক্তির জীবনের নানা পর্যায়ের তথ্য পরস্পরের সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে।
মন্ত্রীর মতে, বিভিন্ন দেশে মানুষের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জাতীয় পরিচয়পত্রের সঙ্গে যুক্ত থাকে। বাংলাদেশেও এনআইডি নম্বরের মাধ্যমে নানা তথ্য সংযুক্ত করার ব্যবস্থা গড়ে তোলা হচ্ছে।
বহুবিবাহ ও বাল্যবিবাহ ঠেকানোর পথ
আইনমন্ত্রী বলেন, কেউ এক জায়গায় বিয়ে করে তথ্য গোপন করে অন্য জায়গায় আবার বিয়ে করতে গেলে অনলাইনে তাঁর আগের তথ্য দেখা যাবে। এনআইডি নম্বর দিয়ে অনুসন্ধান করলেই বিস্তারিত তথ্য সামনে চলে আসবে। তখন আগের স্ত্রীর অনুমতি ছাড়া ওই ব্যক্তির আরেকটি বিয়ে নিবন্ধন করা যাবে কি না, তা যাচাই করা সম্ভব হবে।
বাল্যবিবাহ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, কোনো এলাকায় বাল্যবিবাহ হচ্ছে কি না, তা আন্তর্জাতিক পরিসরে দেখাতে হচ্ছে। এ বিষয়ে দেশে আইন আছে এবং তার যথাযথ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি। অনলাইন নিবন্ধনের তথ্য বাল্যবিবাহ প্রতিরোধেও সহায়তা করবে বলে জানান মন্ত্রী।
উত্তরাধিকার ও বিদেশযাত্রায় সুবিধা
মন্ত্রী বলেন, কোনো ব্যক্তির মৃত্যুর পর স্ত্রী বা সন্তানদের পক্ষ থেকে একাধিক দাবি উঠলেও নিবন্ধিত তথ্যের মাধ্যমে তা যাচাই করা যাবে। এতে এ ধরনের দাবি নিয়ে মামলা-মোকদ্দমার সুযোগ কমবে, রাষ্ট্রের ওপরও বাড়তি চাপ পড়বে না বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বিদেশ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, কেউ বিদেশে গিয়ে স্ত্রীকে সঙ্গে নিতে চাইলে সংশ্লিষ্ট দেশ অনলাইনে তথ্য যাচাই করতে পারবে। এতে প্রকৃত স্ত্রী কে, সে বিষয়ে দ্রুত তথ্য মিলবে।
পুলিশ ভেরিফিকেশনের দৃষ্টান্ত
অনলাইনভিত্তিক তথ্যব্যবস্থার প্রয়োজনীয়তা বোঝাতে মন্ত্রী পুলিশ ভেরিফিকেশনে ঘুস দাবির একটি ঘটনার কথা তুলে ধরেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শরীয়তপুরের নড়িয়া থানায় একজন সাব-ইন্সপেক্টর বিদেশ যাওয়ার জন্য পুলিশ ভেরিফিকেশন করাতে গেলে তাঁর কাছে প্রথমে ২ হাজার ২০০ টাকা, পরে ২ হাজার টাকা ঘুস চাওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ৭০০ টাকায় রফা হয়। বিবাহ নিবন্ধন অনলাইনে এলে এ ধরনের কিছু প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বন্ধে সহায়তা পাওয়া যাবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মন্ত্রী আরও বলেন, ডিজিটালাইজেশনের বিভিন্ন ব্যবস্থা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হলে এর দীর্ঘমেয়াদি সুফল পাওয়া যাবে।
সাব-রেজিস্ট্রারদের লটারি
ঢাকা শহরের সাব-রেজিস্ট্রারদের পোস্টিংয়ে লটারি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান আইনমন্ত্রী। তাঁর ভাষ্য, ঢাকার সাব-রেজিস্ট্রাররা দীর্ঘদিন একই জায়গায় থাকায় তাঁদের বদলি করতে গেলে নানা দিক থেকে তদবির আসে। এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতেই লটারির উদ্যোগ। নিয়মনীতি মেনে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে মন্ত্রী আরও জানান, দেশের সব কাজীকে পর্যায়ক্রমে প্রশিক্ষণ দিয়ে এই ডিজিটাল নিবন্ধনের আওতায় আনা হবে।
মিন্টু সরকার, ঢাকা 


















