রাজধানীর ধানমন্ডি ৩২ নম্বরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্মৃতিবিজড়িত বাসভবন ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগে দায়ের করা এক মামলার আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন আদালত। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মোহাম্মদ ইউনূস ও সাবেক আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুলসহ মোট ২৭ জনের বিরুদ্ধে এই মামলার আবেদন করা হয়েছিল।
বৃহস্পতিবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানার আদালতে তামান্না চৌধুরী প্রিয়াংকা নামে এক নারী বাদী হয়ে মামলাটি দায়েরের আবেদন জানান। শুনানিতে আদালত প্রথমে বাদীর জবানবন্দি রেকর্ড করে আদেশ অপেক্ষমাণ রাখে। পরে ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ২০৩ ধারায় আবেদনটি খারিজ করে দেন আদালত। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন। তিনি বলেন, মামলাটি গ্রহণ করার মতো উপযুক্ত উপাদান না থাকায় আবেদন খারিজ করা হয়েছে।
আবেদনে অভিযুক্তদের তালিকায় ছিলেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক পরিবেশ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা উপদেষ্টা ড. রেজওয়ানা হাসান, সাবেক প্রেস সচিব শফিকুল আলম, সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লে. জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী এবং সংস্কৃতিবিষয়ক উপদেষ্টা মোস্তফা সারোয়ার ফারুকী। এছাড়া তালিকায় ছিলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া, সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, সদস্য সচিব আক্তার হোসেন, সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ ও আব্দুল হান্নান মাসুদ, মুখ্য সংগঠক সার্জিস আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক সামান্তা শারমিন, সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নুসরাত তাবাসসুম এবং সাবেক জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব ডা. তাসনিম জারা।
অভিযুক্তদের তালিকায় আরও ছিলেন মুখ্য সমন্বয়ক নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারী, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদিব, যুগ্ম সদস্যসচিব সালেহ উদ্দিন সিফাত, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্য, অ্যাক্টিভিস্ট ইলিয়াস হোসেন ও কনক সরোয়ার, অবসরপ্রাপ্ত কর্নেল নুরনবী, তাহরিমা জান্নাত সুরভী, মো. মিলন, ফাহিম আল চৌধুরী এবং আবুল কালাম আজাদ।
অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি রাতে আসামিদের প্রত্যক্ষ মদদ ও উসকানিতে হাজার হাজার অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি লাঠিসোঁটা, হাতুড়ি ও দাহ্য পদার্থসহ মারাত্মক অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের ওই বাড়িতে দলবদ্ধভাবে হামলা চালায়। রাত আনুমানিক ১০টার দিকে বাড়িতে ঢুকে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করে ঐতিহাসিক নিদর্শন, মুক্তিযুদ্ধের দলিল, প্রামাণ্যচিত্র ও মূল্যবান সম্পদের ব্যাপক ক্ষতিসাধন এবং লুটপাট চালানো হয় বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এরপর বুলডোজার ও ভারী যন্ত্রপাতি এনে রাতভর বাড়িটি ভাঙার কাজ চলে এবং পরদিন বিকাল পাঁচটার মধ্যে পুরো ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
মামলার আবেদনে আরও বলা হয়, কয়েকজন আসামি ইউটিউব ও ফেসবুকে সরাসরি সম্প্রচারে এসে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং বাড়িতে থাকা গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুটের জন্য উসকানি ও মদদ দেন, কেউ কেউ অর্থসহায়তাও দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। পূর্ব ঘোষণা সত্ত্বেও সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা বাড়িটি রক্ষায় কোনো উদ্যোগ নেননি বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে আদালত সব বিবেচনায় নিয়ে আবেদনটি খারিজের আদেশ দেন।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 



















