প্রায় সাড়ে তিন দশক পর দ্বিতীয়বারের মতো দেশে ভোটের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে চলেছেন। আজ বৃহস্পতিবার দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে ভোট দেবেন ৩৪৯ জন সংসদ সদস্য। এই লড়াইয়ে মুখোমুখি বিএনপির মনোনীত প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা কর্নেল অলি আহমদ।
সবশেষ ১৯৯১ সালে এই পদে ভোটাভুটি হয়েছিল, যেখানে তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হন। এরপর প্রতিটি নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী দলের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগ না থাকায় এবারও ফখরুলের জয় কার্যত নিশ্চিত ধরা হচ্ছে, কারণ শাসক জোটের হাতে রয়েছে প্রায় ২৫০ ভোট, আর জয়ের জন্য প্রয়োজন ১৭৫ ভোট।
সংসদ সদস্য হওয়ায় নিজের পক্ষেই ভোট দিতে পারবেন ফখরুল, তবে জয়ী হলে তার সংসদ সদস্য পদ ও মন্ত্রিত্ব স্বয়ংক্রিয়ভাবে শূন্য হয়ে যাবে। অন্যদিকে সংসদ সদস্য না হওয়ায় ভোট দেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন না প্রতিদ্বন্দ্বী অলি আহমদ, সংসদ কক্ষেও প্রবেশাধিকার নেই তার।
নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সংসদ কক্ষে চারটি ব্যালট বাক্স রাখা হয়েছে এবং ভোট হবে প্রকাশ্যে—অর্থাৎ ব্যালটে ভোটারের নাম ও পছন্দের প্রার্থীর নাম উভয়ই লেখা থাকবে। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন বলেছেন, প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি নেই। ভোট শুরুর কিছুক্ষণ আগে থেকে সরাসরি সম্প্রচারের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।
জয়ী প্রার্থীকে শপথবাক্য পাঠ করাবেন জাতীয় সংসদের স্পিকার তথা বর্তমান ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হাফিজ উদ্দিন আহমদ, আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বঙ্গভবনে। গত ২৪ জুলাই অসুস্থতার কথা জানিয়ে পদত্যাগ করেন তৎকালীন রাষ্ট্রপতি, এরপর ৬ আগস্ট শূন্য পদে নির্বাচনের তপশিল ঘোষণা করে কমিশন।
এদিকে অসুস্থতাজনিত কারণে বিদেশে থাকায় ভোট দিতে পারছেন না বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস। আবার জামায়াতে ইসলামী থেকে বহিষ্কৃত হলেও ভোটাধিকার বহাল থাকায় সিদ্ধান্তহীনতায় আছেন সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলাম। কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত না থাকায় নিজেদের ইচ্ছেমতো যে কাউকে ভোট দিতে পারবেন আটজন স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য।
নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে আদালতেও গড়িয়েছে বিতর্ক। সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে এবং তপশিল স্থগিতের দাবিতে করা রিট আবেদন হাইকোর্ট বুধবার খারিজ করে দেন। এরপর রিটকারী আইনজীবী মো. ইউনুছ আলী আকন্দ বিষয়টি নিয়ে আপিল বিভাগে যান।
চাইলে হেডলাইন বা মেটা বিবরণের বিকল্প ভার্সনও তৈরি করে দিতে পারি।
চলমান বার্তা ডেস্ক : 




















