নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ কে পড়াবেন, সিদ্ধান্ত জানাল আইন মন্ত্রণালয়

দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদটি নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। তাঁর পদত্যাগের পরপরই সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে স্পিকারের আসনে দায়িত্ব পালন শুরু করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই সাংবিধানিক সময়সীমা মাথায় রেখেই আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সব কিছু স্বাভাবিক থাকলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই আসছেন নতুন রাষ্ট্রপতির আসনে।
নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হবে শপথ অনুষ্ঠান। শপথ বঙ্গভবনে হলেও গোটা অনুষ্ঠান সাজানোর দায়িত্বে থাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
তবে এবারের পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। কারণ, রীতি অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার নিজেই। কিন্তু বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ নিজেই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির আসনে বসে আছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন কে?
এই জটিলতা নিরসনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আইন মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক মতামত চেয়েছিল। আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ বলে স্পিকার যেহেতু এখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে, তাই সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদের বিধান মতে স্পিকারের সকল কার্যভার এখন পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার। এই যুক্তিতে নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পড়ানোর সাংবিধানিক এখতিয়ারও এখন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালেরই। আইন মন্ত্রণালয়ের এই মতামতের ভিত্তিতেই শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
এদিকে নির্বাচন কমিশন এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের জন্য সম্পন্ন করেছে সব প্রস্তুতি। চূড়ান্ত করা হয়েছে ভোটার তালিকাও, যেখানে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৪৯ জন। এই তালিকায় নাম আছে খোদ প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরেরও। বর্তমানে সংসদ সদস্য হওয়ায় তিনি নিজের ভোট নিজেই দিতে পারবেন। তবে একই সুযোগ পাচ্ছেন না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অলি আহমেদ। এগারো দলীয় জোটের এই প্রার্থী সংসদ সদস্য না হওয়ায় ভোটার তালিকায় নেই, ফলে নিজের পক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগও তাঁর নেই।
নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মির্জা ফখরুলের সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে, তখন আর তাঁর ভোটাধিকারও থাকবে না।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নিজেই এই নির্বাচন পরিচালনা করবেন বলে জানা গেছে। ভোটগ্রহণ চলবে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এই নির্বাচনে ভোটার তালিকায় আছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নিজে, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি, বিরোধী দলীয় নেতাসহ সংসদের প্রতিটি সদস্য। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভোট গণনার সময় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকতে পারবেন বলেও নিশ্চিত করেছে কমিশন।
সংসদের হিসাব অনুযায়ী সাধারণ আসনে বিএনপির সদস্য সংখ্যা ২১১, জামায়াতের ৬৮, এনসিপির ৬, অন্যান্য দলের ৭ ও স্বতন্ত্র সদস্য সাতজন। সংরক্ষিত আসনে বিএনপি ও সমমনাদের সদস্য ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১৩ জন এবং একজন স্বতন্ত্র। এই হিসাবে সংসদে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে বিএনপি ও তার সমমনা দলগুলোর।
উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। এরপর ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা এবং ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান অলি আহমেদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

শাহজাদপুরে পূজা উদযাপন পরিষদে স্বপদে পুনর্বহাল হলেন মানিক সরকার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্বিঘ্নে হবে, আইনি বাধা নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল

১৯ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

নতুন রাষ্ট্রপতির শপথ কে পড়াবেন, সিদ্ধান্ত জানাল আইন মন্ত্রণালয়

আপডেট সময় ১২:৫১:০১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর পর থেকেই রাষ্ট্রপতি পদটি নিয়ে নানা আলোচনা চলছিল। তাঁর পদত্যাগের পরপরই সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ, বীর বিক্রম, ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একই সঙ্গে স্পিকারের আসনে দায়িত্ব পালন শুরু করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির আসন শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সেই সাংবিধানিক সময়সীমা মাথায় রেখেই আজ বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। সব কিছু স্বাভাবিক থাকলে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরই আসছেন নতুন রাষ্ট্রপতির আসনে।
নির্বাচনের রেশ কাটতে না কাটতেই আগামীকাল শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় বঙ্গভবনের দরবার হলে অনুষ্ঠিত হবে শপথ অনুষ্ঠান। শপথ বঙ্গভবনে হলেও গোটা অনুষ্ঠান সাজানোর দায়িত্বে থাকে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
তবে এবারের পরিস্থিতি একটু ভিন্ন। কারণ, রীতি অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান স্পিকার নিজেই। কিন্তু বর্তমানে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদ নিজেই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির আসনে বসে আছেন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে, তাহলে নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথ পড়াবেন কে?
এই জটিলতা নিরসনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ আইন মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক মতামত চেয়েছিল। আইন মন্ত্রণালয়ের ব্যাখ্যা অনুযায়ী, সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ বলে স্পিকার যেহেতু এখন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্বে, তাই সংবিধানের ৭৪(৩) অনুচ্ছেদের বিধান মতে স্পিকারের সকল কার্যভার এখন পালন করছেন ডেপুটি স্পিকার। এই যুক্তিতে নতুন রাষ্ট্রপতিকে শপথবাক্য পড়ানোর সাংবিধানিক এখতিয়ারও এখন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালেরই। আইন মন্ত্রণালয়ের এই মতামতের ভিত্তিতেই শপথ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি এগিয়ে নিচ্ছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
এদিকে নির্বাচন কমিশন এই ঐতিহাসিক নির্বাচনের জন্য সম্পন্ন করেছে সব প্রস্তুতি। চূড়ান্ত করা হয়েছে ভোটার তালিকাও, যেখানে মোট ভোটারের সংখ্যা ৩৪৯ জন। এই তালিকায় নাম আছে খোদ প্রার্থী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরেরও। বর্তমানে সংসদ সদস্য হওয়ায় তিনি নিজের ভোট নিজেই দিতে পারবেন। তবে একই সুযোগ পাচ্ছেন না প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী অলি আহমেদ। এগারো দলীয় জোটের এই প্রার্থী সংসদ সদস্য না হওয়ায় ভোটার তালিকায় নেই, ফলে নিজের পক্ষে ভোট দেওয়ার সুযোগও তাঁর নেই।
নির্বাচন কমিশনের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, শপথ নেওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই মির্জা ফখরুলের সংসদ সদস্য পদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে, তখন আর তাঁর ভোটাধিকারও থাকবে না।
প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিন নিজেই এই নির্বাচন পরিচালনা করবেন বলে জানা গেছে। ভোটগ্রহণ চলবে দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত। এই নির্বাচনে ভোটার তালিকায় আছেন ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি নিজে, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি, বিরোধী দলীয় নেতাসহ সংসদের প্রতিটি সদস্য। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ভোট গণনার সময় সংসদ সদস্যরা উপস্থিত থাকতে পারবেন বলেও নিশ্চিত করেছে কমিশন।
সংসদের হিসাব অনুযায়ী সাধারণ আসনে বিএনপির সদস্য সংখ্যা ২১১, জামায়াতের ৬৮, এনসিপির ৬, অন্যান্য দলের ৭ ও স্বতন্ত্র সদস্য সাতজন। সংরক্ষিত আসনে বিএনপি ও সমমনাদের সদস্য ৩৬ জন, জামায়াত জোটের ১৩ জন এবং একজন স্বতন্ত্র। এই হিসাবে সংসদে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে বিএনপি ও তার সমমনা দলগুলোর।
উল্লেখ্য, গত ৬ আগস্ট নির্বাচন কমিশন এই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। এরপর ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র জমা এবং ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান অলি আহমেদের মনোনয়ন বৈধ ঘোষণা করা হয়।

Share this news as a Photo Card