রাতে বুক জ্বালাপোড়া কমাতে যেভাবে ঘুমানো উচিত

অনেকেই রাতের ঘুম ভাঙে বুক জ্বালাপোড়া বা মুখে টক ভাব নিয়ে। সাধারণত মসলাদার বা ভারী খাবার খাওয়ার পরই এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু খাবারই নয়—ঘুমানোর ভঙ্গিও অ্যাসিডিটি বাড়িয়ে দিতে পারে।
পাকস্থলীর অ্যাসিড কতটা সহজে খাদ্যনালিতে উঠে আসবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করে শোয়ার ধরনের ওপর। এই অ্যাসিডই বুক জ্বালাপোড়া, মুখে টক স্বাদ কিংবা ঘুমে ব্যাঘাতের মূল কারণ। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের একটি বড় অংশের মানুষ নিয়মিতভাবে গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেন, যার একটি কারণ হতে পারে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি ভুল ঘুমের ভঙ্গিও।
কোন দিকে ঘুমালে স্বস্তি মেলে?
চিকিৎসকদের পরামর্শ, যাঁরা নিয়মিত এসিড রিফ্লাক্সের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জন্য বাঁ দিকে কাত হয়ে ঘুমানো তুলনামূলক উপকারী। তবে শুধু বাঁ দিকে ফেরাই যথেষ্ট নয়—মাথা যেন বিছানার সমতল থেকে অন্তত ছয় থেকে আট ইঞ্চি উঁচুতে থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এভাবে ঘুমালে রাতের বেলা পাকস্থলীর অ্যাসিড ওপরের দিকে উঠে আসার সম্ভাবনা কমে যায়।
কোন ভঙ্গিতে সমস্যা বাড়ে?
রাতে তেল-মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পর ডান দিকে কাত হয়ে বা চিত হয়ে ঘুমালে অ্যাসিডিটির মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
সমস্যা কমাতে যা করণীয়
রাতে দেরি করে ভারী খাবার না খাওয়া
অতিরিক্ত চা-কফি ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা
ধূমপান পরিহার করা, কারণ এটি এসিড রিফ্লাক্স আরও বাড়িয়ে দিতে পারে
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা
ঘুমানোর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার সেরে ফেলা, যাতে শোয়ার আগে পাকস্থলী কিছুটা হালকা হওয়ার সুযোগ পায়
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
খাবার গিলতে সমস্যা হলে সতর্ক হওয়া জরুরি। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ ওজন কমে যাওয়াও ভালো লক্ষণ নয়। এ ছাড়া রাতে ঘুমের মধ্যে বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগে প্রতিদিনই বড় সংখ্যক রোগী অ্যাসিডিটি ও বদহজমজনিত সমস্যা নিয়ে আসেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা ও ঘুমের ভঙ্গিতে সামান্য পরিবর্তন আনলেই এই ধরনের রাতের অস্বস্তি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

Share this news as a Photo Card

© প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত

শাহজাদপুরে সাধারণ সম্পাদক পদে পুনর্বহাল হলেন মানিক কুমার সরকার

সম্পাদক ও প্রকাশক

মোঃ মাহমুদুন্নবী জ্যোতি

অফিসঃ ২/২ আরকে মিশন রোড , ঢাকা।

ইমেলঃ chalomanbarta@yahoo.com, chalomanbarta@gmail.com

মোবাইলঃ ০১৭১১০৫৬৮৬৬, ০১৬৮১৯২৪০০০

রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নির্বিঘ্নে হবে, আইনি বাধা নেই: অ্যাটর্নি জেনারেল

১৯ আগস্ট ২০২৬
« « « বিস্তারিত কমেন্টে » » »
facebook.com/dailycholomanbarta
www.cholomanbarta.com

রাতে বুক জ্বালাপোড়া কমাতে যেভাবে ঘুমানো উচিত

আপডেট সময় ১২:১৮:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬

অনেকেই রাতের ঘুম ভাঙে বুক জ্বালাপোড়া বা মুখে টক ভাব নিয়ে। সাধারণত মসলাদার বা ভারী খাবার খাওয়ার পরই এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। তবে চিকিৎসকরা বলছেন, শুধু খাবারই নয়—ঘুমানোর ভঙ্গিও অ্যাসিডিটি বাড়িয়ে দিতে পারে।
পাকস্থলীর অ্যাসিড কতটা সহজে খাদ্যনালিতে উঠে আসবে, তা অনেকাংশে নির্ভর করে শোয়ার ধরনের ওপর। এই অ্যাসিডই বুক জ্বালাপোড়া, মুখে টক স্বাদ কিংবা ঘুমে ব্যাঘাতের মূল কারণ। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ চিকিৎসা বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের একটি বড় অংশের মানুষ নিয়মিতভাবে গ্যাস্ট্রিক ও অ্যাসিডিটির সমস্যায় ভোগেন, যার একটি কারণ হতে পারে খাদ্যাভ্যাসের পাশাপাশি ভুল ঘুমের ভঙ্গিও।
কোন দিকে ঘুমালে স্বস্তি মেলে?
চিকিৎসকদের পরামর্শ, যাঁরা নিয়মিত এসিড রিফ্লাক্সের সমস্যায় ভোগেন, তাঁদের জন্য বাঁ দিকে কাত হয়ে ঘুমানো তুলনামূলক উপকারী। তবে শুধু বাঁ দিকে ফেরাই যথেষ্ট নয়—মাথা যেন বিছানার সমতল থেকে অন্তত ছয় থেকে আট ইঞ্চি উঁচুতে থাকে, সেদিকেও খেয়াল রাখতে হবে। এভাবে ঘুমালে রাতের বেলা পাকস্থলীর অ্যাসিড ওপরের দিকে উঠে আসার সম্ভাবনা কমে যায়।
কোন ভঙ্গিতে সমস্যা বাড়ে?
রাতে তেল-মসলাযুক্ত খাবার খাওয়ার পর ডান দিকে কাত হয়ে বা চিত হয়ে ঘুমালে অ্যাসিডিটির মাত্রা আরও বেড়ে যেতে পারে বলে জানাচ্ছেন চিকিৎসকরা।
সমস্যা কমাতে যা করণীয়
রাতে দেরি করে ভারী খাবার না খাওয়া
অতিরিক্ত চা-কফি ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলা
ধূমপান পরিহার করা, কারণ এটি এসিড রিফ্লাক্স আরও বাড়িয়ে দিতে পারে
মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করা
ঘুমানোর অন্তত দুই থেকে তিন ঘণ্টা আগে রাতের খাবার সেরে ফেলা, যাতে শোয়ার আগে পাকস্থলী কিছুটা হালকা হওয়ার সুযোগ পায়
কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন
খাবার গিলতে সমস্যা হলে সতর্ক হওয়া জরুরি। কোনো সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়াই হঠাৎ ওজন কমে যাওয়াও ভালো লক্ষণ নয়। এ ছাড়া রাতে ঘুমের মধ্যে বুকে তীব্র ব্যথা অনুভব করলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের গ্যাস্ট্রোএন্টারোলজি বিভাগে প্রতিদিনই বড় সংখ্যক রোগী অ্যাসিডিটি ও বদহজমজনিত সমস্যা নিয়ে আসেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাদ্যাভ্যাসে সচেতনতা ও ঘুমের ভঙ্গিতে সামান্য পরিবর্তন আনলেই এই ধরনের রাতের অস্বস্তি অনেকাংশে এড়ানো সম্ভব।

Share this news as a Photo Card